Dhaka ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
চলাচলের পথে ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর, তাড়াশে দুর্ভোগে ৪০ পরিবার বেড়ায় ৫০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে শোকজ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ৪ নং দৌলতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে দোয়া ও সহযোগিতা চাইলেন রাজীব হোসেন তাড়াশে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ রায়গঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পরীক্ষা বুধবার রায়গঞ্জে নারী-শিশু সুরক্ষায় সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত বেলকুচিতে ১ হাজার টাকার বিরোধে যুবক হত্যা, ৮ মাস পর র‌্যাবের হাতে পলাতক আসামি গ্রেফতার  রায়গঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুই ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার তাড়াশে জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত  বাংলা কিউআর ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে বেড়ায় পূবালী ব্যাংকের র‍্যালি ও সভা
বিজ্ঞপ্তি:
সারাদেশে সকল জেলা ও উপজেলায় সংবাদ কর্মী নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন ই মেইল: pddinkal@gmail.com

বাড়ছে পেঁয়াজের দাম, তবুও লোকসানে চাষিরা!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:২০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫
  • ৩০৭ Time View

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
​বর্তমানে দেশে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেলেও চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না, যার ফলে তারা ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন।মৌসুমে পেঁয়াজের বেশি দাম দেখে যেসব চাষি এবার আগামজাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন তাদের অনেকেই বিপুল লোকসান গুনেছেন। তারা আগামীতে পেঁয়াজ চাষ করবেন কিনা তা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়েছেন।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার চাষিরা জানাচ্ছেন, বিঘাপ্রতি তাদের খরচ হচ্ছে ৯০-১ লাখ টাকা। বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৬০০- ১৭০০৷ টাকা মণ দরে। এতেও তারা লোকসানে পড়েছেন। বর্গা চাষিদের খরচ আরও বেশি, প্রায় ২ হাজার টাকা মণ। তারা দাবি করছেন, ন্যায্যমূল্য না পেলে তাদের পুঁজি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

সালথা উপজেলার পুরুরা গ্রামের চাষি সবুজ মোল্যা জানান, এই বছর আমি ২ বিঘা জমি লিজ নিয়ে উন্নত জাতের পেঁয়াজ চাষাবাদ করি। আলহামদুলিল্লাহ আশানুরূপ ফলন হয়েছে। তবে তাতেও খরচের টাকা উঠবে কি না আশঙ্কায় আছি। তিনি সরকারের কাজে পেঁয়াজের ন্যায্য মূল্য সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা দাবি করেন।

একই গ্রামের চাষি মো: নাজিম মোল্লা বলেন, এই বছর আমি আমার নিজ জমিতে দেড় বিঘা পেঁয়াজ চাষাবাদ করি। গতবারের তুলনায় ফলন এই বছর কম হয়েছে, আর বাজারে দামও গতবারের তুলনায় একটু কম। যার ফলে লোকসানের আশঙ্কায় আছি।

উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়ন এর পেঁয়াজচাষি নজরুল রহমান জানান, তিনি এবার পৌনে তিন বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন। মার্চের শেষে জমিতে পেঁয়াজ তোলার কাজ শেষ করেন। মৌসুম ভালো হওয়ায় এবার প্রতি বিঘায় ফলন হয়েছে ৭০ মন করে। পৌনে তিন বিঘায় পেঁয়াজ পেয়েছেন প্রায় ২০০ মন। পৌনে তিন বিঘার জমি লিজসহ পেঁয়াজ আবাদে তার মোট খরচ হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সব পেঁয়াজ বিক্রি করে তিনি পুরো টাকা তুলতে পারবেন কিনা চিন্তায় আছেন।

উল্লেখ্য ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। রপ্তানি চালু হলে পেঁয়াজের দাম আরো অনেক কমে যাবে বলে কৃষকদের ধারণা। তখন কৃষকের আরো লোকসান পরবে। এই এলাকার কৃষকেরা সরকারের কাছে আরো ৩/৪ মাস পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ রাখার দাবি জানান।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরে চাষিরা পেঁয়াজের দাম ভালো পাওয়ায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি (১২ হাজার হেক্টর) জমিতে আবাদ করা হয়। চলতি মৌসুমে ২ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

চলাচলের পথে ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর, তাড়াশে দুর্ভোগে ৪০ পরিবার

বাড়ছে পেঁয়াজের দাম, তবুও লোকসানে চাষিরা!

Update Time : ০১:২০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
​বর্তমানে দেশে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেলেও চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না, যার ফলে তারা ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন।মৌসুমে পেঁয়াজের বেশি দাম দেখে যেসব চাষি এবার আগামজাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন তাদের অনেকেই বিপুল লোকসান গুনেছেন। তারা আগামীতে পেঁয়াজ চাষ করবেন কিনা তা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়েছেন।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার চাষিরা জানাচ্ছেন, বিঘাপ্রতি তাদের খরচ হচ্ছে ৯০-১ লাখ টাকা। বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৬০০- ১৭০০৷ টাকা মণ দরে। এতেও তারা লোকসানে পড়েছেন। বর্গা চাষিদের খরচ আরও বেশি, প্রায় ২ হাজার টাকা মণ। তারা দাবি করছেন, ন্যায্যমূল্য না পেলে তাদের পুঁজি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

সালথা উপজেলার পুরুরা গ্রামের চাষি সবুজ মোল্যা জানান, এই বছর আমি ২ বিঘা জমি লিজ নিয়ে উন্নত জাতের পেঁয়াজ চাষাবাদ করি। আলহামদুলিল্লাহ আশানুরূপ ফলন হয়েছে। তবে তাতেও খরচের টাকা উঠবে কি না আশঙ্কায় আছি। তিনি সরকারের কাজে পেঁয়াজের ন্যায্য মূল্য সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা দাবি করেন।

একই গ্রামের চাষি মো: নাজিম মোল্লা বলেন, এই বছর আমি আমার নিজ জমিতে দেড় বিঘা পেঁয়াজ চাষাবাদ করি। গতবারের তুলনায় ফলন এই বছর কম হয়েছে, আর বাজারে দামও গতবারের তুলনায় একটু কম। যার ফলে লোকসানের আশঙ্কায় আছি।

উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়ন এর পেঁয়াজচাষি নজরুল রহমান জানান, তিনি এবার পৌনে তিন বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন। মার্চের শেষে জমিতে পেঁয়াজ তোলার কাজ শেষ করেন। মৌসুম ভালো হওয়ায় এবার প্রতি বিঘায় ফলন হয়েছে ৭০ মন করে। পৌনে তিন বিঘায় পেঁয়াজ পেয়েছেন প্রায় ২০০ মন। পৌনে তিন বিঘার জমি লিজসহ পেঁয়াজ আবাদে তার মোট খরচ হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সব পেঁয়াজ বিক্রি করে তিনি পুরো টাকা তুলতে পারবেন কিনা চিন্তায় আছেন।

উল্লেখ্য ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। রপ্তানি চালু হলে পেঁয়াজের দাম আরো অনেক কমে যাবে বলে কৃষকদের ধারণা। তখন কৃষকের আরো লোকসান পরবে। এই এলাকার কৃষকেরা সরকারের কাছে আরো ৩/৪ মাস পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ রাখার দাবি জানান।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরে চাষিরা পেঁয়াজের দাম ভালো পাওয়ায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি (১২ হাজার হেক্টর) জমিতে আবাদ করা হয়। চলতি মৌসুমে ২ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে।