Dhaka ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ৪ নং দৌলতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে দোয়া ও সহযোগিতা চাইলেন রাজীব হোসেন তাড়াশে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ রায়গঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পরীক্ষা বুধবার রায়গঞ্জে নারী-শিশু সুরক্ষায় সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত বেলকুচিতে ১ হাজার টাকার বিরোধে যুবক হত্যা, ৮ মাস পর র‌্যাবের হাতে পলাতক আসামি গ্রেফতার  রায়গঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুই ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার তাড়াশে জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত  বাংলা কিউআর ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে বেড়ায় পূবালী ব্যাংকের র‍্যালি ও সভা কাজিপুরে নিষিদ্ধ জালের দাপটে কমছে মাছ, মৎস্যসম্পদ রক্ষায় জোরালো পদক্ষেপের দাবি প্রয়াত এমপি আব্দুল মান্নান তালুকদার ছিলেন ত্যাগী ও জনমুখী রাজনীতিবিদ: মন্ত্রী ইকবাল হাসান টুকু
বিজ্ঞপ্তি:
সারাদেশে সকল জেলা ও উপজেলায় সংবাদ কর্মী নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন ই মেইল: pddinkal@gmail.com

পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা: বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ও আর্থিক সংকটে ঝরে গেল প্রাণ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:২২:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • ৪১ Time View

শফিউল আযম, বিশেষ প্রতিবেদক:
পাবনা শহরের একটি ছাত্রী মেস থেকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত রাজমনি ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। নিহত রাজমনি ইসলাম ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ গ্রামের মো. আকালু ইসলামের মেয়ে। তিনি পাবনা শহরের ডিগ্রি বটতলা এলাকার বাদশা ছাত্রী নিবাসে বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মেসের কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাজমনি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন লালন করতেন এবং আইইএলটিএস পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য একটি কোর্সে ভর্তি হতে চেয়েছিলেন। তবে কোর্সটির জন্য প্রায় ৪০ হাজার টাকার প্রয়োজন হওয়ায় এবং পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রাজমনির বাবা তার জন্মের পর থেকেই একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন এবং বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে রাজমনি ছিলেন সবার ছোট। বড় বোন গার্মেন্টসে চাকরি করেন এবং ভাই পেশায় গাড়িচালক। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। রাজমনির চাচা জানান, প্রথমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেলেও দ্বিতীয়বারে তিনি পাবিপ্রবিতে ভর্তি হন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি আইইএলটিএস করে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছা ছিল তার। এ জন্য পরিবারের কাছে ৪০ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে আপাতত বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং পরবর্তীতে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে টাকা দিতে না পারায় তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। তিনি আরও জানান, মৃত্যুর দিন দুপুর ১২টার দিকেও পরিবারের সঙ্গে রাজমনির কথা হয়েছিল। পরে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

রাজমনির বন্ধু, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী প্রান্ত দেবনাথ জানান, দুপুরে তার সঙ্গে কথা হয়েছিল। সে পরিবার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর হতাশার কথা বলছিল। পরে একাধিকবার ফোন করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তখন রুমমেটকে বিষয়টি জানানো হয়। রুমমেট অর্পিতা রশিদ জানান, প্রান্তের ফোন পেয়ে তিনি দ্রুত মেসে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রাজমনিকে দেখতে পান। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. রাশেদুল হক বলেন, এভাবে একজন শিক্ষার্থীকে হারানো অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে মর্মাহত। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ৪ নং দৌলতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে দোয়া ও সহযোগিতা চাইলেন রাজীব হোসেন

পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা: বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ও আর্থিক সংকটে ঝরে গেল প্রাণ

Update Time : ০৮:২২:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

শফিউল আযম, বিশেষ প্রতিবেদক:
পাবনা শহরের একটি ছাত্রী মেস থেকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত রাজমনি ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। নিহত রাজমনি ইসলাম ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ গ্রামের মো. আকালু ইসলামের মেয়ে। তিনি পাবনা শহরের ডিগ্রি বটতলা এলাকার বাদশা ছাত্রী নিবাসে বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মেসের কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাজমনি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন লালন করতেন এবং আইইএলটিএস পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য একটি কোর্সে ভর্তি হতে চেয়েছিলেন। তবে কোর্সটির জন্য প্রায় ৪০ হাজার টাকার প্রয়োজন হওয়ায় এবং পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রাজমনির বাবা তার জন্মের পর থেকেই একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন এবং বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে রাজমনি ছিলেন সবার ছোট। বড় বোন গার্মেন্টসে চাকরি করেন এবং ভাই পেশায় গাড়িচালক। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। রাজমনির চাচা জানান, প্রথমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেলেও দ্বিতীয়বারে তিনি পাবিপ্রবিতে ভর্তি হন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি আইইএলটিএস করে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছা ছিল তার। এ জন্য পরিবারের কাছে ৪০ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে আপাতত বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং পরবর্তীতে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে টাকা দিতে না পারায় তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। তিনি আরও জানান, মৃত্যুর দিন দুপুর ১২টার দিকেও পরিবারের সঙ্গে রাজমনির কথা হয়েছিল। পরে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

রাজমনির বন্ধু, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী প্রান্ত দেবনাথ জানান, দুপুরে তার সঙ্গে কথা হয়েছিল। সে পরিবার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর হতাশার কথা বলছিল। পরে একাধিকবার ফোন করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তখন রুমমেটকে বিষয়টি জানানো হয়। রুমমেট অর্পিতা রশিদ জানান, প্রান্তের ফোন পেয়ে তিনি দ্রুত মেসে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রাজমনিকে দেখতে পান। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. রাশেদুল হক বলেন, এভাবে একজন শিক্ষার্থীকে হারানো অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে মর্মাহত। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।