
পাভেল ইসলাম মিমুল, নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহীর বোয়ালিয়া ভূমি অফিসের এক তহশিলদারের সরকারি রেজিস্ট্রার খাতার পাতা ছেঁড়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে দ্রুত বদলি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থা বা কারণ দর্শানোর নোটিশ না দিয়ে তাৎক্ষণিক বদলির সিদ্ধান্তকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধে যথাযথ শুনানি ছাড়াই একপক্ষের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল। পরে অপর পক্ষ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবর আপিল করলে আগের সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আদালতে গেলে আগামী ৭ জুলাই শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, শুনানি চলমান থাকা অবস্থায় স্থগিত থাকা একটি হোল্ডিং পুনরায় চালু করে দেন সংশ্লিষ্ট তহশিলদার সাইফুল ইসলাম। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুললে তিনি আবার হোল্ডিংটি বন্ধ করে দেন এবং পরে কয়েকটি রেজিস্ট্রার বইয়ের পাতা ছিঁড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় তিনি উর্ধ্বতন কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে কাজটি করেছেন বলে দাবি করলেও সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতুল করিম মিজান এমন কোনো নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
এ ঘটনায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরপরই তহশিলদার সাইফুলকে অন্যত্র বদলি করা হয়। এদিকে মামলার এক পক্ষের সদস্য মোছা. রেখা অভিযোগ করেন, সপুরা মৌজার প্রায় ৩৭ কাঠা জমির খারিজ বাতিল সংক্রান্ত একটি মামলায় তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগ দেওয়া হয়নি। পরে তিনি আপিল করলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সংশ্লিষ্ট সব খাজনা খারিজ বাতিল করে জমিগুলো মূল আরএস হোল্ডিংয়ে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন।
রেখার দাবি, জমিগুলো নিয়ে দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন থাকায় ওই আদেশ দেওয়া হয়েছিল, যা তিনি নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। তবে পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করলে আগের আদেশ স্থগিত করে আগামী ৭ জুলাই শুনানির দিন ধার্য করা হয়।
তার অভিযোগ, শুনানি সম্পন্ন হওয়ার আগেই প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় প্রতিপক্ষ পুনরায় খারিজ কার্যক্রম চালু করার চেষ্টা করে। তিনি আরও দাবি করেন, প্রতিপক্ষের মালিকানা দাবির পেছনে ব্যবহৃত দলিলপত্রে নানা অসঙ্গতি রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ভূমি প্রশাসনের স্বচ্ছতা, সরকারি নথি সংরক্ষণ এবং বিচারাধীন বিষয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
Reporter Name 

















