
নিজস্ব প্রতিবেদক :
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরুর বিরুদ্ধে ছেলেকে গ্রাম পুলিশের চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ এনে টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন এক নারী। এ সময় তিনি উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনওর পথরোধ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ সম্প্রচারও করেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগকারী রেহেনা বেগম (উর্মি) উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাগুরা এলাকার বাসিন্দা। তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ছেলেকে গ্রাম পুলিশের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। পরে টাকা ফেরত চাইলে নানা ধরনের চাপ ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ওই নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের অর্থ ফেরত দাবি করছেন। তবে ইউএনও অভিযোগের বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে জানতে চান, কোথায় এবং কীভাবে তাঁকে টাকা দেওয়া হয়েছে। তিনি ওই নারীকে চিনতে না পারার কথাও জানান। এ বিষয়ে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট নারী এর আগে কখনো তাঁর কার্যালয়ে আসেননি এবং কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর ভাষ্য, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।
ঘটনার পর তেঁতুলিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় জনগণের ব্যানারে পৃথক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা ইউএনওর প্রতি সমর্থন জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগকারী নারীর দুই ছেলে রয়েছে। প্রতিবেশীদের কেউ কেউ অভিযোগের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, গ্রাম পুলিশের চাকরির জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন এবং অভিযোগে উল্লেখিত বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
অন্যদিকে রেহেনা বেগম দাবি করেন, পরিবারের সম্পদ বিক্রি করে এবং বিভিন্নভাবে টাকা সংগ্রহ করে তিনি ওই অর্থ দিয়েছেন। ইউএনওর বদলির খবর জানতে পেরে তিনি টাকা ফেরতের দাবি জানাতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।
জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ বা সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে পুরো ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় জনমনে নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ নতুন ভাষায়, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ধাঁচে এবং কপিরাইট লঙ্ঘন এড়িয়ে সাজানো হয়েছে।
Reporter Name 


















