
আমিনুল ইসলাম হিরো
মাগুরায় আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া ধর্ষণের শিকার হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে । তার অপরাধ কী? সে শিশু? সে মেয়ে? নাকি এই সমাজে জন্ম নেওয়া এক অভিশাপ? মাজরার আকাশ এখন অন্ধকারে ভরা। কণ্টকের মতো বিধে আছে চারপাশের নিঃশব্দতা। আট বছরের একটি শিশুর দেহে নির্মমতার ছায়া পড়েছে। তার কণ্ঠে জমে থাকা চিৎকার এখনো ধধ্বনিত হচ্ছে নির্জন গলির মেঝেতে। অন্ধ গহ্বরে ঘটে যাওয়া বীভৎসতা সমাজের বুকে এক গভীর ক্ষতের জন্ম দিয়েছে। মায়ের মুখ থেকে বেরিয়ে আসা অভিযোগের বাক্যগুলো ছুরির ফলার মতো যোদাই হয়ে গেছে ন্যায়বিচারের দরজায়।
ধর্ষণের পর হত্যাচেষ্টা। ভুক্তভোগী এক অবুঝ শিশু। অপরাধী নিতান্ত প্রিয়জন। বলতে গেলে একই পরিবারের সদস্য। এই সমীকরণে মানবতার সকল সমার্থক শব্দ হারিয়ে যায়। শিশুটির বোনের স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, ভাশুর আত্মার সম্পর্কের জালে জড়িয়ে থাকা চারটি নাম এখন নিষ্ঠুরতার প্রতিশব্দ। মেঝেতে পড়ে থাকা শিশুটির দিকে তাকিয়ে বোনের চোখে ঘুমের ঘোর। সে ভেবেছে, হয়তো স্বপ্নের ভেতর কোনো দুঃস্বপ্ন দেখছে শিশুটি। কিন্তু বাস্তবতা ছিল তার চেয়েও ভয়ংকর। খোলা দরজায় স্বামী। শ্বশুরের হাতের খসখসে আঙুলে মুখ চেপে ধরার যন্ত্রনা। কক্ষের অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা পাশবিকতা। বোনের গলায় শিকলের মতো চেপে বসা শাশুড়ির অমানবিকতা।
মুহূর্তেই বড় বোনের হৃদয়ে বিষের মতো ছড়িয়ে দেয় লজ্জা, ঘৃণা, কষ্ট ও হতাশা। এই দৃশ্যপটে ফ্রানৎস কাফকার ‘দ্য ট্রায়াল’-এর একটি উক্তি ব্যর্থ হয়ে যায়। উক্তিটি হচ্ছে ‘কোনো এক অদৃশ্য আদালত সর্বদা তোমাকে পর্যবেক্ষণ করছে।” বাংলাদেশের। গ্রামীণ সমাজের আঙিনায় লুকিয়ে থাকা এই নির্মমতা নতুন নয়। জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি ও মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসাক) এর তথ্যমতে ২০২৩ সালে দেশে শিশু ধর্ষণের সংখ্যা ১,৪০০। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ১৭০০ এ উন্নীত হয়।
এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্যসংখ্যকই আবার ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে। অংক কষলে দেখা যায় প্রতি ১২ ঘণ্টায় একজন কন্যাশিশু যৌন সহিংসতার মুখোমুখি হয়। বাংলাদেশে শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র প্রতিনিয়ত আমাদের হতবাক করে। শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বের বহু দেশেই শিশু ধর্ষণ বেড়েছে। ইউনিসেফের তথ্যমতে বিশ্বে প্রতি পাঁচজনে একজন মেয়ে শিশুর শৈশবে যৌন সহিংসতার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের জরিপ অনুযায়ী ৬৮ শতাংশ শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে আত্মীয়ের বাসায়। মামলার এজাহারে উল্লিখিত ‘অনৈতিক প্রস্তাব’-এর ইতিহাস সামাজিক ব্যাধির দিকে ইঙ্গিত করে। শিশু আছিয়ার বোনের বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরের কুদৃষ্টি। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জানা সত্ত্বেও নীরবতা। এই নীরবতাই তো সমাজের আসল অপরাধ। ভার্জিনিয়া উল্ফ মনে করেন, “শত্রুর চেয়ে নিরপেক্ষতার মুখোশ পরা আত্মীয়রা অধিক ভয়ংকর।” আন্তর্জাতিক পরিসরে শিশু ধর্ষণের পরিসংখ্যান হৃদয়বিদারক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বের ১২ কোটি মেয়েশিশু যৌন সহিংসতার শিকার। ভারতের এনসিআরবি ডাটাবেজে ২০২২ সালে ৫৩,৮৭৪টি শিশু ধর্ষণ মামলা নথিভুক্ত।
ফিলিপাইনের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে ৮০ শতাংশ শিশু নির্যাতনকারী পরিবারের সদস্য বা পরিচিতজন এবং ২০ শতাংশ শিশু নির্যাতনকারী নিকটস্থ প্রতিবেশী। বাংলাদেশের এই ঘটনাটি তাই বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়। বরং বৈশ্বিক মহামারীর একটি স্থানীয় প্রকাশ মাত্র। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন কঠোর। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ অনুযায়ী ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুকে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তারপরও কেন কমছে না অপরাধ? কেন আট বছরের শিশুকে নির্মমতার শিকার হতে হয়? সমস্যার মূল কোথায়? সামাজিক অবক্ষয়,
নৈতিকতা হারিয়ে ফেলা মানুষ নাকি বিচারহীনতার সংস্কৃতি? অপরাধীরা জানে তারা ধরা পড়বে না। ধরা পড়লেও শক্তিশালী কেউ এসে রক্ষা করবে। ২০২১ সালে প্রকাশিত ব্র্যাকের এক গবেষনায় দেখাযায় বাংলাদেশে ধর্ষনের ৯০ শতাংশ ঘটনার বিচার হয় না। অপরাধীরা ক্ষমতার ছায়ায় রয়ে যায়। শিশুরা রক্ষা পাবে কীভাবে? পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র তিনটি স্তরে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পরিবারে নৈতিক শিক্ষার বুনিয়াদ গড়তে হবে। শিশুকে শেখাতে হবে, কী ভুল, কী সঠিক। স্কুলে যৌনশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যাবে না। উন্নত বিশ্বে ‘গুড টাচ, ব্যাড টাচ’ শেখানো হয় ছোটবেলা থেকেই। বাংলাদেশেও এমন শিক্ষা জরুরি বলে মনেকরি।
রাষ্ট্রকে কঠোর হতে হবে। কেবল আইন থাকলেই হবে না তার কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষনের বিচার দ্রুত শেষ করতে হবে। ২০২২ সালে দিল্লিতে একটি শিশু ধর্ষণের ঘটনায় মাত্র ৩৪ দিনে বিচার শেষ হয়েছিলো। বাংলাদেশেও এমন ব্যবস্থা দরকার। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ যথেষ্ট নয়। শুধু ‘জাস্টিস ফর আছিয়া’ লিখলে সমাধান আসবে না। সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ধর্ষকের পরিচয় গোপন না রেখে তাকে সমাজচ্যুত করতে হবে। রাতের গহিনে এক শিশুর কান্না ভেঙে দিয়েছে নৈঃশব্দ্যের কাচ। মাগুরার সেই বাড়ির দেয়ালে আটকে পড়া আর্তনাদে কেঁপে উঠেছে নক্ষত্ররা। আট বছরের এক কন্যা শিশু এখনো যার জীবনের বর্ণমালায় হাতেখড়ি হয়নি তাকে টেনে নিয়ে গেছে অন্ধকারের গহ্বরে। বোনের শ্বশুরবাড়ির আঙিনায় শিশুটি হারালো শৈশব।
ঘটনাস্থলের বিবরণে এসেছে বড় বোন প্রাথমিকভাবে মনে করে শিশুটি ঘুমের মধ্যে আবোলতাবোল বকছে। এখানে সমাজের একটি প্রবণতা ফুটে উঠেছে। নারী শরীর সম্পর্কে অজ্ঞতা। শিশুর ভাষাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্যের প্রবণতা। ব্রাজিলিয়ান লেখিকা ক্ল্যারিস লিস্পেক্টর বলেছিলেন “ভাষা হচ্ছে রক্তের মতো একবার বের হলে আর ভেতরে ফেরত যায় না।” শিশুটির কষ্টের ভাষাকে ‘আবোলতাবোল’ ভাবা সমাজের শ্রবণশক্তিহীনতারই পরিচয়। মেঝেতে পড়ে থাকা শিশুটির যৌনাঙ্গে জ্বালাপোড়া ‘আবোলতাবোল’ ভেবে উড়িয়ে দিয়েছিল তারি বড় বোন। এই উপেক্ষা সমাজের দর্পণে মুখোশের ছায়া ফেলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা বলছে প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জন শিশু যৌন নির্যাতনের কথা প্রকাশ করতে গেলে প্রাথমিকভাবে অবিশ্বাসের সম্মুখীন হয়। এজন্য বাধ্য হয়েই অনেক ভুক্তভোগী নীরব থাকে। নীরবতাই আসলে কখনো কখনো সবচেয়ে বড় মিথ্যাচার। ধর্ষণের নিষ্ঠুর থাবায় আক্রান্ত শিশু আছিয়াকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
চিকিৎসায় শিশুটার হয়তো দৈহিক ক্ষত দূর হয়ে যেত । কিন্তু মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফেরা শিশুটি কি সহজেই মন থেকে মৃত্যুভয় দূর করতে পারতো ? মনোবিজ্ঞানী সিগমুন্ড ফ্রয়েডের ভাষায় “শিশুমনের আঘাত কখনো পুরোপুরি সেরে ওঠে না। তা লুকিয়ে থাকে অবচেতনে। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য বলছে, ধর্ষণের শিকার ৭২ শতাংশ শিশু পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে ভোগে। তাদের ৩৪ শতাংশ আত্মহত্যার চিন্তা করে। প্রতিটি ধর্ষিত শিশুর আর্তনাদ আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। কিন্তু আমরা কি বদলাচ্ছি? নাকি সামনের দিনে আরও কোনো আট বছরের শিশুর রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখব? আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে এখনই। নয়তো শিশুর শৈশব হবে অনিরাপদ, মায়ের বুক ভাসবে চোখের পানিতে আর আমরা শুধু লজ্জিত হওয়ার অভিনয় করবো।
আইনের বলয়ে ধর্ষণের এই মামলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৯৪/৩০ ধারায় দাঁড় করানো হতে পারে । কিন্তু বাংলাদেশের ন্যায়বিচার ব্যবস্থায় শিশু মামলার গতি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, শিশু ধর্ষণ মামলার ৮৭% এখনো বিচারাধীন। গড় নিষ্পত্তি সময় ৫-৭ বছর। এই সময়সীমা একটি শিশুর সমগ্র শৈশবকে গ্রাস করে নেয়। শুনেছি নির্যাতিত শিশু আছিয়ার মা অপরাধীদের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ করেছিল।
শৈশব মানে নিষ্পাপ হাসি। শৈশব মানে দৌড়ে বেড়ানো। শৈশব মানে রঙিন স্বপ্ন দেখা। কিন্তু ভয়াবহ এক বাস্তবতা শৈশবের ওপরও
জানা ছিল বলেই তো ধামাচাপা দিতে চেয়েছেন। লুকোচুরির এই খেলা আমাদের সাংস্কৃতিক ডিএনএ তে মিশে আছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ২০২২ সালের তথ্যমতে ৫৪ শতাংশ ধর্ষণ মামলায় প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করে। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে ড. লিসা ফন্টেস বলছেন “পারিবারিক কলঙ্কের ভয়ে নিহিত সহিংসতা প্রজন্মান্তরে ছড়ায়।” শুধু রাষ্ট্র নয়, সমাজও এই অপরাধের দায় এড়াতে পারে না। ধর্ষণের ঘটনা ঘটার পরেও ভুক্তভোগী শিশুটির মা ও তার বড় মেয়েকে সামাজিক লজ্জা, অবজ্ঞা, অপমানের শিকার হতে হচ্ছে। অথচ অপরাধীদের প্রতি সামাজিক ঘৃণ্য খুব কমই প্রকাশ পায়। বাংলাদেশে শিশু নির্যাতনের ঘটনা আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের গভীর সংকটকে উন্মোচন করে।
ধর্ষিতার পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করা হলে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় ডিএনএ ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের সরকারি উদ্যোগের কথা শোনা যাচ্ছে। নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। কিন্তু শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়। বিচার ব্যবস্থার সংস্কার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে হবে। অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রদান বন্ধ করতে হবে। নারীদের নিরাপত্তার জন্য পৃথক হটলাইন কার্যকর করতে হবে। মাগুরার এই ঘটনা আমাদের সভ্যতার জীর্ণ চৌকাঠে কড়া নাড়ে। কবি জীবনানন্দ দাশের ভাষায় “আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়।” কিন্তু কোন বাংলায়? যে বাংলায় শিশুরা নিরাপদে ঘুমোতে পারবে না বোনের বাড়িতে, সেই বাংলায়? যে বাংলার মাটিতে প্রতিদিন সৃষ্টি হয় আছিয়াদের দুঃখগাথা, সেই বাংলায়? উত্তর খুঁজতে হবে আমাদেরই। প্রতিটি রক্তাক্ত শৈশবের দায় সমাজের প্রত্যেক নাগরিকের কাঁধে।
ফরাসি দার্শনিক আলবেয়ার কামু বলেছিলেন “অন্যায় দেখে নীরব থাকা মানে অন্যায়কে সহায়তা করা।” মাগুরার শিশুটির কান্না যেন হয় আমাদের সকলের বিবেকের আয়না। এখন শিশু আছিয়ার পরিবার এক অসীম শূন্যতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এই মুহূর্তে সমাজের বিবেকবান মানুষদের উচিত ধর্ষিত নির্যাতিত সকলের পাশে দাঁড়ানো। আর রাষ্ট্রের উচিত এই ঘটনা যেন আবার একটি সাধারণ মামলা না হয়ে যায় সেটি নিশ্চিত করা। ইতিহাস সাক্ষী সমাজ যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে তখনই ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে। মাগুরার শিশুটির জন্য কি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে? নাকি আরও একবার নীরবতার আড়ালে অপরাধীদের মুক্তির পথ সুগম হবে? শিশু আছিয়ার অস্ফুট কান্না বাতাসে মিশে সারাদেশে আগুন জ্বেলে দিয়েছে। প্রতিটি হৃদয়ে ক্ষোভের লেলিহান শিখা। ফাঁসির দাবিতে উত্তাল সারাদেশ। পথে পথে রাজপথে মানুষ আর মানুষ।
তৌহিদী জনতার কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে মধ্যযুগীয় প্রতিশোধড়লাঘরের বৃষ্টিতে ধুয়ে ফেলতে চায় অপবিত্রতা। কিন্তু পাথর কি শুধু অপরাধীর বুকেই পড়ে? নাকি উল্কাপিণ্ড হয়ে ভেঙে পড়ে নিষ্পাপ প্রাণেও? ইতিহাসের গর্ভে লুকিয়ে আছে পাথর ছোড়ার গল্প। সেসব গল্পে শুধু রক্তের গন্ধ। ন্যায়ের নামে অন্যায়ের ফসল। আজকের বাংলাদেশে যদি ফিরে আসে সেই নিষ্ঠুর আইন তবে তো স্বার্থের ছুরি হাতে কেউ কেউ বসবে অন্ধকার ঘাটে। হয়তো কোনো সূর্য্যমুখী যুবকের গলায় পরানো হবে মিথ্যার ফাঁস। চাকরি, ব্যবসা, ভবিষ্যৎ সবকিছু ছিনতাই করার হাতিয়ার হয়ে উঠবে একটি মামলা। ভালোবাসাকে জিম্মি করে বিয়ের নামে জবরদস্তি শুরু হয়ে যেতে পারে। ধর্ষকের শাস্তি চাই। কিন্তু শাস্তির খড়গ যেন থাকে ন্যায়বিচারের মসৃণ হাতেই। আইনের কঠোরতায় যেন অন্ধকারে ঢেকে না যায় মানবতার মোমবাতি।
লেখক : সাংবাদিক ও কলাম লেখক।
Reporter Name 























