Dhaka ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
চলাচলের পথে ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর, তাড়াশে দুর্ভোগে ৪০ পরিবার বেড়ায় ৫০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে শোকজ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ৪ নং দৌলতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে দোয়া ও সহযোগিতা চাইলেন রাজীব হোসেন তাড়াশে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ রায়গঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পরীক্ষা বুধবার রায়গঞ্জে নারী-শিশু সুরক্ষায় সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত বেলকুচিতে ১ হাজার টাকার বিরোধে যুবক হত্যা, ৮ মাস পর র‌্যাবের হাতে পলাতক আসামি গ্রেফতার  রায়গঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুই ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার তাড়াশে জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত  বাংলা কিউআর ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে বেড়ায় পূবালী ব্যাংকের র‍্যালি ও সভা
বিজ্ঞপ্তি:
সারাদেশে সকল জেলা ও উপজেলায় সংবাদ কর্মী নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন ই মেইল: pddinkal@gmail.com

পদ্মার বুকে ফসলের আবাদ চলছে মটরযান ও ঘোড়ার গাড়ী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মে ২০২৫
  • ৪২৩ Time View

শফিউল আযম,  পাবনা থেকেঃ
প্রমত্তা পদ্মার বুকে এখন ধুধু বালুচর। যতদুর চোখ যায় চিক চিক করছে শুধু বালু আর বালু। মাঝ নদীতে চলছে ঘোড়ার গাড়ী, ট্রাক, অটোভ্যান, মটরসাইকেল। পদ্মা শুকিয়ে চর জেগে উঠা চলছে ফসলের আবাদ। পাবনা-কুষ্টিয়ার নৌযোগাযোগের একমাত্র ঘাট শিলাইদহঘাট বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। শিলাইদহ ঘাটের সাড়ে ৫ কিলোমিটার পদ্মার ৫ কিলোমিটারই শুকিয়ে গেছে। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় দু’পাড়ের মানুষের জীবনযাপনে একদিকে যেমন নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, তেমনি জীববৈচিত্র ধংস হওয়ায় প্রাকৃতিক পরিবেশ হয়েছে বিপর্যস্ত।
পাবনা থেকে কুষ্টিয়ায় স্বল্প সময়ে কম খরচে যাতায়াতে শিলাইদহঘাট বহুপ্রাচীণ কাল থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। দু’জেলার কর্মসংস্থানসহ আর্থ সামাজিক কর্মকান্ডে ঘাটটির রয়েছে ব্যাপক গুরুত্ব। প্রতিদিন কুষ্টিয়া থেকে অসংখ্য শ্রমিক এপারের পাবনায় কাজ করতে আসেন। আবার এপারের ব্যবসায়িক পণ্য নদীপথে কুষ্টিয়ায় পরিবাহিত হয়। পাবনার তাঁতীরা নিয়মিত নদীপথেই কুমারখালি হাটে যাতায়াত করেন। আবার পদ্মার এপারে কুষ্টিয়া ওপারে পাবনার বেশ কয়েকটি গ্রাম রয়েছে। এ গ্রামের বাসিন্দাদের থানা কোটকাচারীর প্রয়োজনে প্রতিদিন শিলাইদহ ঘাট পার হতে হচ্ছে। কিন্তু নদী শুকিয়ে যাওয়ার এ ঘাট দিয়ে পারাপারকারী যাত্রীদের এখন অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার শিলাইদহঘাটে গিয়ে দেখা যায় প্রমত্ত পদ্মায় পানির কোন চিহৃ নেই। যতদুর চোখ যায় বালি আর বালি। ঘাটের শুণ্যরেখা থেকে বালুচরের মাঝ দিয়ে রাস্তা করা হয়েছে। এ রাস্তার ৪ কিলোমিটার অটোভ্যানে গিয়ে নামতে হচ্ছে। তারপর বালির ওপর বেশ কিছুদুর হেটে খেয়া নৌকায় ঊঠতে হচ্ছে। খেয়া নৌকায় এক কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিতে ৫-৬ কিলোমিটার ঘুরে তারপর শিলাইদহঘাটের ওপারে পৌঁছাতে হচ্ছে। এখানে সময় যেমন বেশি লাগছে তেমনি যাত্রিপ্রতি ভাড়াও বেশি গুনতে হচ্ছে। অটোভাড়া ৪০ টাকার সাথে খেয়া নৌকায় ৩৫ টাকা মিলে প্রতিযাত্রীর ৭৫ টাকা দিয়ে শিলাইদহ ঘাট পার হতে হচ্ছে। যেসব শ্রমিক দৈনিক পাবনায় লেবার খাটতে আসেন তাদের শুধু ঘাটপারাপারেই ১৫০ টাকা টাকা ব্যয় করতে হয়। আবার যারা এ পথে ব্যবসা করেন তারাও মালামাল পরিবহনে নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ।
নদীর এপারের ব্যবসায়ি লিটন সেখ জানান, তিনি হার্ডওয়ার পণ্য কুষ্টিয়ায় পাইকারি সরবরাহ করেন। নদীতে পানি না থাকায় মালামাল পারাপারে একদিকে যেমন ব্যয় বেড়েছে তেমনি তাকে অনেক দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। তিনি জানান, শ্রাবণ, ভাদ,্র আশ্বীন পর্যন্ত নদীতে পানি থাকে। পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন, চৈত্র বৈশাখ পর্যন্ত নদী একেবারেই শুকিয়ে যায়। গত ৩-৪ বছর ধরে শিলাইদহঘাটের বিভিন্ন পয়েন্টে কোল সৃষ্টি হওয়ায় নদীটি যেন ক্যানেলে পরিনত হচ্ছে। এবারও যেভাবে চর জাগছে তাতে কয়েকদিনের মধ্যে ঘাটযাত্রীদের ২বার করে নৌকায় পার করতে হবে বলে তিনি আশঙ্কার কথা জানান । ঘাটমাঝি মোঃ মোকাদ্দেস হোসেন জানান, এ বছর পানি আরও কমে যাওয়ায় এক কিলোমিটার নদীপথ পারি দিতে চর ঘুরে যেতে অনেক সময় লাগছে। এভাবে চর জাগলে কয়েকদিনের মধ্যে নদীপার হওয়া অনিশ্চিত হয়ে উঠবে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।

ঘাটসংশ্লিষ্টরা জানান, ৮৫ সালের পর থেকে পদ্মায় চর জাগা শুরু। এরপর প্রতিবছরই নদী সরু হতে হতে ৫-৬ বছরে যেন ক্যানেলে পরিণত হয়েছে।

ঘাট এলাকার গিয়ে দেখা যায় একের পর এক ট্রাক চরের মধ্যে ঢুকছে বালিবোঝাই করে আবার ফিরছে। বালিতোলায় নদীর বুকে অসংখ্য খালের সৃষ্টি হয়েছে। প্রভাবশালী ভাটামালিকরা প্রতিদিন ট্রাকবোঝাই করে বালুমাটি তোলায় নদীর স্বাভাবিকত্ব নষ্ট করা হচ্ছে তেমনি আগামী বর্ষায় নদীর ভাঙ্গন সৃষ্টির শঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে বলে নদীতীরের সাধারণ অধিবাসীরা জানান। পদ্মা শুকিয়ে যাওয়ায় দুপারের জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। কয়েকবছর আগেও যারা নৌকার মাঝি বা জেলে ছিলো তারা এখন ইটভাটাশ্রমিক ,অটোড্রাইভারসহ বিভিন্ন পেশায় জীবন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে মরানদীতে এখন মাছশুন্য যেমন হয়েছে তেমনি জীববৈচিত্র ও ধংসপ্রায়। নদীপারের বাসিন্দারা জানান কয়েক বছর আগেও এ শীতমৌসুমে নদীতে বালিহাস, চখাসহ অসংখ্য প্রজাতির অতিথি পাখির কলকাকলিতে ভরপুর ছিলো এখন কোন পাখিই আর নেই। নদীতে পানি না থাকায় তীরবর্তী জমির ফসলচাষেও মারাত্বক প্রভাব ফেলেছে। পানিরস্তর অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় এখন তেমন ফসলও হয় না। শুধু তাই নয় নদীতীরের গ্রামগুলির খাবার পানি নিয়েও দিন দিন সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।
পদ্মা পাড়ের মানুষ জানে, ভারত-বাংলাদেশ ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গার পানিবন্টন চুক্তি হয়েছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী পদ্মায় পানি আসছে না। এ অঞ্চলের নদ-নদী শুকিয়ে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। পদ্মা নদীতে পর্যাপ্ত পানি প্রবাহ না থাকায় এর প্রধান শাখা বড়াল, আত্রাই ও গড়াই নদী প্রায় পানি শুন্য হয়ে পড়েছে। কুষ্টিয়ার-রাজবাড়ী মহাসড়কের লাহিনী এলাকায় কয়ায় গড়াই নদীর উপর নির্মিত গড়াই রেলসেতু ও রুমী ব্রিজের নিচে গর্তে কিছু পানি জমে আছে। আর উৎসমুখ তালবাড়ীয়া থেকে শুরু করে লাহিনী এলাকা পর্যন্ত নদীতে বিপুল পরিমান পলি ও বালু জমেছে।
কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, মাগুড়া, ঝিনাইদাহ, নড়াইল, সাতক্ষীরা ও ফরিদপুর জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ২৫টি নদীর উৎস মুখ হচ্ছে পদ্মা। মধুমতি, নবগঙ্গা, কাজলা, মাথাবাঙ্গা, গড়াই, হিনসা, কুমার, সাগরখালি, কপোতাক্ষ, চন্দনাসহ পদ্মাসহ এর অসংখ্য শাখা-প্রশাখা নদী প্রায় শুকিয়ে যাচ্ছে। কোন কোন স্থানে বালু স্থায়ী মৃত্তিকায় রুপ নেয়ায় ফসল আবাদ করেছেন অনেকেই। বর্তমানে পদ্মা নদী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ ব্রীজের নিচে খাস জমিতে কৃষক চিনা বাদাম, বাঙ্গী, তরমুজ, টমেটো, আখসহ নানা রকম রবি শস্য আবাদ করেছেন।
পাবনা হাইড্রলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো জাহিদুল ইসলাম আরও জানান পদ্মা আন্তর্জাতিক নদীর অংশ তাই পানির উৎস আমাদের হাতে নেই। প্রাাকৃতিক কারণে পদ্মার যে বিপর্যয় হয়েছে তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে অপরিকল্পিত কাজকর্মে। বেশ কয়েকটি স্থানে বাঁধ দিয়ে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি অংশে অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ হওয়ায় নদীর ক্ষতি হয়েছে। নদীর চর থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু তুলে নদীকে বিপর্যস্থ করা হচ্ছে। পদ্মাকে বাঁচাতে সঠিক পরিকল্পনা, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ড্রেজিং করে নদীকে প্রবাহমান করতে হবে বলে বলে তিনি জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

চলাচলের পথে ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর, তাড়াশে দুর্ভোগে ৪০ পরিবার

পদ্মার বুকে ফসলের আবাদ চলছে মটরযান ও ঘোড়ার গাড়ী

Update Time : ০৩:৪২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মে ২০২৫

শফিউল আযম,  পাবনা থেকেঃ
প্রমত্তা পদ্মার বুকে এখন ধুধু বালুচর। যতদুর চোখ যায় চিক চিক করছে শুধু বালু আর বালু। মাঝ নদীতে চলছে ঘোড়ার গাড়ী, ট্রাক, অটোভ্যান, মটরসাইকেল। পদ্মা শুকিয়ে চর জেগে উঠা চলছে ফসলের আবাদ। পাবনা-কুষ্টিয়ার নৌযোগাযোগের একমাত্র ঘাট শিলাইদহঘাট বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। শিলাইদহ ঘাটের সাড়ে ৫ কিলোমিটার পদ্মার ৫ কিলোমিটারই শুকিয়ে গেছে। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় দু’পাড়ের মানুষের জীবনযাপনে একদিকে যেমন নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, তেমনি জীববৈচিত্র ধংস হওয়ায় প্রাকৃতিক পরিবেশ হয়েছে বিপর্যস্ত।
পাবনা থেকে কুষ্টিয়ায় স্বল্প সময়ে কম খরচে যাতায়াতে শিলাইদহঘাট বহুপ্রাচীণ কাল থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। দু’জেলার কর্মসংস্থানসহ আর্থ সামাজিক কর্মকান্ডে ঘাটটির রয়েছে ব্যাপক গুরুত্ব। প্রতিদিন কুষ্টিয়া থেকে অসংখ্য শ্রমিক এপারের পাবনায় কাজ করতে আসেন। আবার এপারের ব্যবসায়িক পণ্য নদীপথে কুষ্টিয়ায় পরিবাহিত হয়। পাবনার তাঁতীরা নিয়মিত নদীপথেই কুমারখালি হাটে যাতায়াত করেন। আবার পদ্মার এপারে কুষ্টিয়া ওপারে পাবনার বেশ কয়েকটি গ্রাম রয়েছে। এ গ্রামের বাসিন্দাদের থানা কোটকাচারীর প্রয়োজনে প্রতিদিন শিলাইদহ ঘাট পার হতে হচ্ছে। কিন্তু নদী শুকিয়ে যাওয়ার এ ঘাট দিয়ে পারাপারকারী যাত্রীদের এখন অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার শিলাইদহঘাটে গিয়ে দেখা যায় প্রমত্ত পদ্মায় পানির কোন চিহৃ নেই। যতদুর চোখ যায় বালি আর বালি। ঘাটের শুণ্যরেখা থেকে বালুচরের মাঝ দিয়ে রাস্তা করা হয়েছে। এ রাস্তার ৪ কিলোমিটার অটোভ্যানে গিয়ে নামতে হচ্ছে। তারপর বালির ওপর বেশ কিছুদুর হেটে খেয়া নৌকায় ঊঠতে হচ্ছে। খেয়া নৌকায় এক কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিতে ৫-৬ কিলোমিটার ঘুরে তারপর শিলাইদহঘাটের ওপারে পৌঁছাতে হচ্ছে। এখানে সময় যেমন বেশি লাগছে তেমনি যাত্রিপ্রতি ভাড়াও বেশি গুনতে হচ্ছে। অটোভাড়া ৪০ টাকার সাথে খেয়া নৌকায় ৩৫ টাকা মিলে প্রতিযাত্রীর ৭৫ টাকা দিয়ে শিলাইদহ ঘাট পার হতে হচ্ছে। যেসব শ্রমিক দৈনিক পাবনায় লেবার খাটতে আসেন তাদের শুধু ঘাটপারাপারেই ১৫০ টাকা টাকা ব্যয় করতে হয়। আবার যারা এ পথে ব্যবসা করেন তারাও মালামাল পরিবহনে নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ।
নদীর এপারের ব্যবসায়ি লিটন সেখ জানান, তিনি হার্ডওয়ার পণ্য কুষ্টিয়ায় পাইকারি সরবরাহ করেন। নদীতে পানি না থাকায় মালামাল পারাপারে একদিকে যেমন ব্যয় বেড়েছে তেমনি তাকে অনেক দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। তিনি জানান, শ্রাবণ, ভাদ,্র আশ্বীন পর্যন্ত নদীতে পানি থাকে। পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন, চৈত্র বৈশাখ পর্যন্ত নদী একেবারেই শুকিয়ে যায়। গত ৩-৪ বছর ধরে শিলাইদহঘাটের বিভিন্ন পয়েন্টে কোল সৃষ্টি হওয়ায় নদীটি যেন ক্যানেলে পরিনত হচ্ছে। এবারও যেভাবে চর জাগছে তাতে কয়েকদিনের মধ্যে ঘাটযাত্রীদের ২বার করে নৌকায় পার করতে হবে বলে তিনি আশঙ্কার কথা জানান । ঘাটমাঝি মোঃ মোকাদ্দেস হোসেন জানান, এ বছর পানি আরও কমে যাওয়ায় এক কিলোমিটার নদীপথ পারি দিতে চর ঘুরে যেতে অনেক সময় লাগছে। এভাবে চর জাগলে কয়েকদিনের মধ্যে নদীপার হওয়া অনিশ্চিত হয়ে উঠবে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।

ঘাটসংশ্লিষ্টরা জানান, ৮৫ সালের পর থেকে পদ্মায় চর জাগা শুরু। এরপর প্রতিবছরই নদী সরু হতে হতে ৫-৬ বছরে যেন ক্যানেলে পরিণত হয়েছে।

ঘাট এলাকার গিয়ে দেখা যায় একের পর এক ট্রাক চরের মধ্যে ঢুকছে বালিবোঝাই করে আবার ফিরছে। বালিতোলায় নদীর বুকে অসংখ্য খালের সৃষ্টি হয়েছে। প্রভাবশালী ভাটামালিকরা প্রতিদিন ট্রাকবোঝাই করে বালুমাটি তোলায় নদীর স্বাভাবিকত্ব নষ্ট করা হচ্ছে তেমনি আগামী বর্ষায় নদীর ভাঙ্গন সৃষ্টির শঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে বলে নদীতীরের সাধারণ অধিবাসীরা জানান। পদ্মা শুকিয়ে যাওয়ায় দুপারের জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। কয়েকবছর আগেও যারা নৌকার মাঝি বা জেলে ছিলো তারা এখন ইটভাটাশ্রমিক ,অটোড্রাইভারসহ বিভিন্ন পেশায় জীবন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে মরানদীতে এখন মাছশুন্য যেমন হয়েছে তেমনি জীববৈচিত্র ও ধংসপ্রায়। নদীপারের বাসিন্দারা জানান কয়েক বছর আগেও এ শীতমৌসুমে নদীতে বালিহাস, চখাসহ অসংখ্য প্রজাতির অতিথি পাখির কলকাকলিতে ভরপুর ছিলো এখন কোন পাখিই আর নেই। নদীতে পানি না থাকায় তীরবর্তী জমির ফসলচাষেও মারাত্বক প্রভাব ফেলেছে। পানিরস্তর অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় এখন তেমন ফসলও হয় না। শুধু তাই নয় নদীতীরের গ্রামগুলির খাবার পানি নিয়েও দিন দিন সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।
পদ্মা পাড়ের মানুষ জানে, ভারত-বাংলাদেশ ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গার পানিবন্টন চুক্তি হয়েছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী পদ্মায় পানি আসছে না। এ অঞ্চলের নদ-নদী শুকিয়ে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। পদ্মা নদীতে পর্যাপ্ত পানি প্রবাহ না থাকায় এর প্রধান শাখা বড়াল, আত্রাই ও গড়াই নদী প্রায় পানি শুন্য হয়ে পড়েছে। কুষ্টিয়ার-রাজবাড়ী মহাসড়কের লাহিনী এলাকায় কয়ায় গড়াই নদীর উপর নির্মিত গড়াই রেলসেতু ও রুমী ব্রিজের নিচে গর্তে কিছু পানি জমে আছে। আর উৎসমুখ তালবাড়ীয়া থেকে শুরু করে লাহিনী এলাকা পর্যন্ত নদীতে বিপুল পরিমান পলি ও বালু জমেছে।
কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, মাগুড়া, ঝিনাইদাহ, নড়াইল, সাতক্ষীরা ও ফরিদপুর জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ২৫টি নদীর উৎস মুখ হচ্ছে পদ্মা। মধুমতি, নবগঙ্গা, কাজলা, মাথাবাঙ্গা, গড়াই, হিনসা, কুমার, সাগরখালি, কপোতাক্ষ, চন্দনাসহ পদ্মাসহ এর অসংখ্য শাখা-প্রশাখা নদী প্রায় শুকিয়ে যাচ্ছে। কোন কোন স্থানে বালু স্থায়ী মৃত্তিকায় রুপ নেয়ায় ফসল আবাদ করেছেন অনেকেই। বর্তমানে পদ্মা নদী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ ব্রীজের নিচে খাস জমিতে কৃষক চিনা বাদাম, বাঙ্গী, তরমুজ, টমেটো, আখসহ নানা রকম রবি শস্য আবাদ করেছেন।
পাবনা হাইড্রলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো জাহিদুল ইসলাম আরও জানান পদ্মা আন্তর্জাতিক নদীর অংশ তাই পানির উৎস আমাদের হাতে নেই। প্রাাকৃতিক কারণে পদ্মার যে বিপর্যয় হয়েছে তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে অপরিকল্পিত কাজকর্মে। বেশ কয়েকটি স্থানে বাঁধ দিয়ে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি অংশে অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ হওয়ায় নদীর ক্ষতি হয়েছে। নদীর চর থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু তুলে নদীকে বিপর্যস্থ করা হচ্ছে। পদ্মাকে বাঁচাতে সঠিক পরিকল্পনা, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ড্রেজিং করে নদীকে প্রবাহমান করতে হবে বলে বলে তিনি জানান।