
সাজ্জাদ হোসেন, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ইফতারের প্রস্তুতির ব্যস্ততার মধ্যেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এক কৃষক পরিবারের শেষ সম্বল। সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আগুনে বসতঘরসহ ঘরের সব আসবাবপত্র পুড়ে যাওয়ায় কৃষক মজিবুর মাতুব্বরের পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্থানীয়রা জানান, ইফতারের আগে রান্নার সময় চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনে ঘরের টিনের চালা, কাঠের বেড়া, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, খাদ্যসামগ্রী—সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একটি স্বপ্নভরা সংসার পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে।
প্রথমে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর সালথা ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে সর্বস্ব হারায় পরিবারটি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মজিবুর মাতুব্বর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার সব শেষ। ঘরে যা ছিল, কিছুই আর নেই। এখন পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে আছি। কীভাবে আবার শুরু করব, জানি না।” তার অসহায় আর্তনাদে এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।
সালথা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল জলিল জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে রান্নাঘরের চুলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে রান্নাঘরে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা।
ইফতারের আগমুহূর্তে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকায় গভীর উদ্বেগ ও সহমর্মিতার সৃষ্টি হয়েছে। মানবিক সহায়তা ও দ্রুত সরকারি সহযোগিতাই এখন নিঃস্ব পরিবারটির একমাত্র ভরসা।
Reporter Name 


















