Dhaka ০৮:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
চলাচলের পথে ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর, তাড়াশে দুর্ভোগে ৪০ পরিবার বেড়ায় ৫০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে শোকজ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ৪ নং দৌলতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে দোয়া ও সহযোগিতা চাইলেন রাজীব হোসেন তাড়াশে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ রায়গঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পরীক্ষা বুধবার রায়গঞ্জে নারী-শিশু সুরক্ষায় সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত বেলকুচিতে ১ হাজার টাকার বিরোধে যুবক হত্যা, ৮ মাস পর র‌্যাবের হাতে পলাতক আসামি গ্রেফতার  রায়গঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুই ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার তাড়াশে জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত  বাংলা কিউআর ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে বেড়ায় পূবালী ব্যাংকের র‍্যালি ও সভা
বিজ্ঞপ্তি:
সারাদেশে সকল জেলা ও উপজেলায় সংবাদ কর্মী নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন ই মেইল: pddinkal@gmail.com

সলঙ্গায় মিশু গাড়ির বডি তৈরি করে বদলে গেল আরিফুলের ভাগ্য

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪০:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৮৫ Time View

মোঃ আখতার হোসেন হিরনঃ

পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসের জোরে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার যুবক আরিফুল ইসলাম (৩৫)। অটোভ্যান ও মিশু গাড়ির বডি তৈরির কারখানা গড়ে তিনি আজ সফল উদ্যোক্তা।

সলঙ্গা উপজেলার চড়িয়া উজির পশ্চিমপাড়ায়, হাটিকুমরুল-সলঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে আরিফুল ইসলামের বডি তৈরির কারখানা। বর্তমানে সেখানে তিনজন শ্রমিক কাজ করছেন, যারা নিজ নিজ পরিবারে এনেছেন আর্থিক স্বচ্ছলতা।

আরিফুল ইসলাম জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি চাকরির পেছনে না ছুটে নিজে কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন। তবে আর্থিক সংকটের কারণে পঞ্চম শ্রেণির পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু দৃঢ় মনোবল ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ২০১৫ সালে তিনি ছোট আকারে কারখানাটি প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে তৈরি হতো পা-চালিত ভ্যানের বডি, পরে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অটোভ্যান ও মিশু গাড়ির বডি তৈরি শুরু করেন।

আরিফুলের বাবা আব্দুস ছালাম ছিলেন স্বল্প আয়ের মানুষ। বাবার কাছ থেকে অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করা এই কারখানাই আজ তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে প্রতি মাসে কারখানায় ২০ থেকে ২৫টি মিশু গাড়ির বডি তৈরি হয়। গুণগত মান ও নান্দনিক নকশার কারণে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা এসে বডি তৈরি করান।

কারখানায় বর্তমানে ৩ থেকে ৪ জন শ্রমিক কাজ করেন। কেউ বডি ফিটিং করছেন, কেউ রং ও ডিজাইনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতি মাসে বিক্রির আয় থেকে খরচ বাদে আরিফুলের হাতে থাকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা।

শ্রমিক মোতালেব হোসেন জানান, তিনি ৫-৬ বছর ধরে এই কারখানায় কাজ করছেন এবং প্রতি মাসে ১৫-২০ হাজার টাকা আয় করেন। এ আয়ে তার সংসার ও সন্তানদের পড়াশোনা নির্বিঘ্নে চলছে। আরেক শ্রমিক সবুজ বলেন, আগে তিনি বেকার ছিলেন, এখন এই কাজের আয়ে স্বচ্ছল জীবনযাপন করছেন।

আরিফুল ইসলাম বলেন, “যদি স্বল্পসুদে ঋণ বা সরকারি সহায়তা পেতাম, তাহলে আরও শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে কারখানার পরিসর বাড়াতে পারতাম।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

চলাচলের পথে ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর, তাড়াশে দুর্ভোগে ৪০ পরিবার

সলঙ্গায় মিশু গাড়ির বডি তৈরি করে বদলে গেল আরিফুলের ভাগ্য

Update Time : ০২:৪০:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

মোঃ আখতার হোসেন হিরনঃ

পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসের জোরে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার যুবক আরিফুল ইসলাম (৩৫)। অটোভ্যান ও মিশু গাড়ির বডি তৈরির কারখানা গড়ে তিনি আজ সফল উদ্যোক্তা।

সলঙ্গা উপজেলার চড়িয়া উজির পশ্চিমপাড়ায়, হাটিকুমরুল-সলঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে আরিফুল ইসলামের বডি তৈরির কারখানা। বর্তমানে সেখানে তিনজন শ্রমিক কাজ করছেন, যারা নিজ নিজ পরিবারে এনেছেন আর্থিক স্বচ্ছলতা।

আরিফুল ইসলাম জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি চাকরির পেছনে না ছুটে নিজে কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন। তবে আর্থিক সংকটের কারণে পঞ্চম শ্রেণির পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু দৃঢ় মনোবল ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ২০১৫ সালে তিনি ছোট আকারে কারখানাটি প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে তৈরি হতো পা-চালিত ভ্যানের বডি, পরে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অটোভ্যান ও মিশু গাড়ির বডি তৈরি শুরু করেন।

আরিফুলের বাবা আব্দুস ছালাম ছিলেন স্বল্প আয়ের মানুষ। বাবার কাছ থেকে অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করা এই কারখানাই আজ তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে প্রতি মাসে কারখানায় ২০ থেকে ২৫টি মিশু গাড়ির বডি তৈরি হয়। গুণগত মান ও নান্দনিক নকশার কারণে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা এসে বডি তৈরি করান।

কারখানায় বর্তমানে ৩ থেকে ৪ জন শ্রমিক কাজ করেন। কেউ বডি ফিটিং করছেন, কেউ রং ও ডিজাইনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতি মাসে বিক্রির আয় থেকে খরচ বাদে আরিফুলের হাতে থাকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা।

শ্রমিক মোতালেব হোসেন জানান, তিনি ৫-৬ বছর ধরে এই কারখানায় কাজ করছেন এবং প্রতি মাসে ১৫-২০ হাজার টাকা আয় করেন। এ আয়ে তার সংসার ও সন্তানদের পড়াশোনা নির্বিঘ্নে চলছে। আরেক শ্রমিক সবুজ বলেন, আগে তিনি বেকার ছিলেন, এখন এই কাজের আয়ে স্বচ্ছল জীবনযাপন করছেন।

আরিফুল ইসলাম বলেন, “যদি স্বল্পসুদে ঋণ বা সরকারি সহায়তা পেতাম, তাহলে আরও শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে কারখানার পরিসর বাড়াতে পারতাম।”