
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের খৈচালা গ্রামে গভীর রাতে একটি বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে লুটপাট ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পাশের বাড়ি থেকে ডেকে আনা এক নৈশপ্রহরীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তিনি বর্তমানে সিরাজগঞ্জ শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (সরকারি হাসপাতাল)-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খৈচালা গ্রামের ভ্যানচালক ছাইদুল ইসলামের বাড়িতে রাতের আঁধারে ৪ থেকে ৬ জন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত প্রবেশ করে। তারা প্রথমে ঘরের আলো নিভিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং ছাইদুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে বেঁধে ফেলে।
এরপর ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবি করা হয়। পরিবারের দাবি, চাহিদামতো মূল্যবান সামগ্রী না পেয়ে দুর্বৃত্তরা তাদের মারধর করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। একপর্যায়ে পরিবারের নারী সদস্যদের সম্ভাব্য যৌন সহিংসতা এবং সবাইকে হত্যা করার হুমকি দিয়ে পাশের বাড়ির বাসিন্দা ও খৈচালা আদিবাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী মো. আকতার হোসেনকে মোবাইল ফোনে ঘটনাস্থলে ডেকে আনতে বাধ্য করা হয়।
আকতার হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে দুর্বৃত্তরা বাড়ির সদস্যদের জিম্মি রেখে তল্লাশি, হামলা ও লুটপাট চালায়। পরে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত আকতার হোসেনকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরে সিরাজগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Reporter Name 


















