
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলায় আওয়ামী লীগের এক নেত্রীকে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মনোনয়ন পাওয়া নেত্রীর নাম সুবর্ণা ঠাকুর। তিনি বর্তমানে কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং পেশায় একজন শিক্ষক। সোমবার (২০ এপ্রিল) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে। সেই তালিকায় সুবর্ণা ঠাকুরের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জানা যায়, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পর গঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তিনি বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। ওই কমিটিতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে, একজন সক্রিয় আওয়ামী লীগ নেত্রীকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় বিএনপির অনেক নেতাকর্মী এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় ত্যাগী নেত্রীদের উপেক্ষা করে ভিন্ন দলের একজন নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা দলীয় সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তাদের মতে, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এবং তা মেনে নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও, তিনি আওয়ামী লীগের পদে এখনও বহাল আছেন কিনা এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ক্ষমতাসীন দলের একজন নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়ার এই ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে এবং ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে।
Reporter Name 










