
লুৎফর রহমান, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় পৃথক ঘটনায় এক নববধূসহ দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে এক নববধূকে যৌতুকের দাবিতে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর অভিযোগ করেছেন তার বাবা। অপরদিকে অন্য গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। দুই মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। মৃতরা হলেন উপজেলার মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর গ্রামের খুকনিপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল জলিলের স্ত্রী সালমা খাতুন (৩৫) এবং তালম ইউনিয়নের হাড়িসোনা গ্রামের বাসিন্দা হাসেম আলীর স্ত্রী মীম খাতুন (১৬)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সালমা খাতুনের মৃত্যু হয় সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে নাস্তার জন্য খিচুড়ি রান্না নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্বামী আব্দুল জলিল তাকে মারধর করেন বলে স্থানীয়রা জানান। কিছু সময় পর সালমা খাতুনকে ঘরের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, মীম খাতুনের মৃত্যু হয়েছে রবিবার (২ আগস্ট) গভীর রাতে। প্রায় পাঁচ মাস আগে তার বিয়ে হয়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামী হাসেম আলী তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন। ঘটনার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার পর স্বামী দাবি করেন, মীম খাতুন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে সোমবার সকালে মীম খাতুনের বাবা মো. ফিরোজ আহম্মেদ অভিযোগ করেন, যৌতুকের দাবিতে তার মেয়েকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হচ্ছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। অপরদিকে, সালমা খাতুনের বাবা শাহাদত হোসেন জানান, মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তাদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই। খবর পেয়ে তাড়াশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “দুই ঘটনারই মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতেই দুই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে।
Reporter Name 








