Dhaka ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
তাড়াশে একই রাতে দুই গ্রাম থেকে ৬ গরু চুরি ৮ দফা বাস্তবায়নে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করতে সিরাজগঞ্জে প্রেস ব্রিফিং রায়গঞ্জে গোয়ালঘর থেকে এক রাতে ৬ গরু চুরি তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮ গরু চুরি রায়গঞ্জে সিএনজি রাখার নামে ১০ টাকা চাঁদা, গ্রেপ্তার ১ ত্যাগীদের মূল্যায়নে সলঙ্গার ঘুড়কা ইউনিয়ন শ্রমিক দল গড়ছেন সভাপতি আবু সাইদ এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে রায়গঞ্জে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ঈশ্বরগঞ্জের এমপি মাজেদ ডেঙ্গু আক্রান্ত,সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া রায়গঞ্জে ইভটিজিং প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম  সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ যুবলীগের ঝটিকা মিছিল
বিজ্ঞপ্তি:
সারাদেশে সকল জেলা ও উপজেলায় সংবাদ কর্মী নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন ই মেইল: pddinkal@gmail.com

রায়গঞ্জে ঐতিহ্যবাহী পানশী নৌকা বাইচ উপলক্ষে স্থান পরিদর্শন ও প্রস্তুতিমূলক সভা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:১৯:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৫১ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলার হাজার বছরের লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ নৌকা বাইচ। বর্ষা মৌসুমে নদীমাতৃক জনপদে এই প্রতিযোগিতা শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়, বরং গ্রামীণ ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও উৎসবের এক অনন্য নিদর্শন। সেই ঐতিহ্যকে ধারণ করেই সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা ইউনিয়নের চরতেলিজানা গ্রামের ফুলজোর নদীতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী পানশী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। শনিবার(১ আগষ্ট) বিকেলে প্রতিযোগিতাস্থল পরিদর্শন ও প্রস্তুতিমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফুলজোর নদীতে ভাসমান নৌকার ওপর অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন রায়গঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আব্দুর রাজ্জাক জুয়েল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আয়োজক কমিটির প্রধান শুভ সরকার, উপজেলা যুবদলের সহ সভাপতি আবু হাশেম, রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোক্তাদির, রায়গঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাম সরকার বিপ্লব, উল্লাপাড়া বিডি নৌকা বাইচ ডটকমের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দর্শকদের বসার স্থান, যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসাসেবা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, নৌকা বাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করে। তাই সকলের সহযোগিতায় একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও আনন্দঘন পরিবেশে প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আয়োজক কমিটি  জানান, এবারের প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের অঞ্চল থেকে ১৬টি পানশী নৌকার দল অংশগ্রহণ করবে। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে একটি ১০০ সিসি মোটরসাইকেল এবং রানারআপ দলকে দেওয়া হবে একটি বড় ছোট রেফ্রিজারেটর। এ ছাড়া প্রতিযোগিতা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা, চিকিৎসাসেবা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণসহ সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান আয়োজকরা। দীর্ঘদিন পর চরতেলিজানা এলাকায় ঐতিহ্যবাহী পানশী নৌকা বাইচের আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সফল আয়োজন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন কমিটির নেতৃবৃন্দ। আয়োজকরা আরও জানান, প্রতিযোগিতা শুরুর দিন সকাল থেকেই নদীর দুই তীরজুড়ে হাজারো দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় পুরো এলাকা জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং স্বেচ্ছাসেবক টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। এদিকে স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরাও এ আয়োজনকে ঘিরে বিভিন্ন লোকজ গান, ঢোল-বাদ্য ও নৃত্য পরিবেশনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে পুরো এলাকা এক উৎসবমুখর মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

তাড়াশে একই রাতে দুই গ্রাম থেকে ৬ গরু চুরি

রায়গঞ্জে ঐতিহ্যবাহী পানশী নৌকা বাইচ উপলক্ষে স্থান পরিদর্শন ও প্রস্তুতিমূলক সভা

Update Time : ০২:১৯:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলার হাজার বছরের লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ নৌকা বাইচ। বর্ষা মৌসুমে নদীমাতৃক জনপদে এই প্রতিযোগিতা শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়, বরং গ্রামীণ ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও উৎসবের এক অনন্য নিদর্শন। সেই ঐতিহ্যকে ধারণ করেই সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা ইউনিয়নের চরতেলিজানা গ্রামের ফুলজোর নদীতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী পানশী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। শনিবার(১ আগষ্ট) বিকেলে প্রতিযোগিতাস্থল পরিদর্শন ও প্রস্তুতিমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফুলজোর নদীতে ভাসমান নৌকার ওপর অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন রায়গঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আব্দুর রাজ্জাক জুয়েল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আয়োজক কমিটির প্রধান শুভ সরকার, উপজেলা যুবদলের সহ সভাপতি আবু হাশেম, রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোক্তাদির, রায়গঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাম সরকার বিপ্লব, উল্লাপাড়া বিডি নৌকা বাইচ ডটকমের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দর্শকদের বসার স্থান, যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসাসেবা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, নৌকা বাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করে। তাই সকলের সহযোগিতায় একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও আনন্দঘন পরিবেশে প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আয়োজক কমিটি  জানান, এবারের প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের অঞ্চল থেকে ১৬টি পানশী নৌকার দল অংশগ্রহণ করবে। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে একটি ১০০ সিসি মোটরসাইকেল এবং রানারআপ দলকে দেওয়া হবে একটি বড় ছোট রেফ্রিজারেটর। এ ছাড়া প্রতিযোগিতা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা, চিকিৎসাসেবা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণসহ সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান আয়োজকরা। দীর্ঘদিন পর চরতেলিজানা এলাকায় ঐতিহ্যবাহী পানশী নৌকা বাইচের আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সফল আয়োজন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন কমিটির নেতৃবৃন্দ। আয়োজকরা আরও জানান, প্রতিযোগিতা শুরুর দিন সকাল থেকেই নদীর দুই তীরজুড়ে হাজারো দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় পুরো এলাকা জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং স্বেচ্ছাসেবক টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। এদিকে স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরাও এ আয়োজনকে ঘিরে বিভিন্ন লোকজ গান, ঢোল-বাদ্য ও নৃত্য পরিবেশনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে পুরো এলাকা এক উৎসবমুখর মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।