
পাভেল ইসলাম মিমুল, রাজশাহী:
রাজশাহীর সীমান্তবর্তী চরখানপুর এলাকার ৬০ বিঘার চরে চরতে থাকা প্রায় দুই শতাধিক গরু ঘাস খেতে খেতে ভারতীয় সীমানায় ঢুকে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাটি প্রথমে টের পায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। পরে তারা বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-কে জানালে গরুগুলো ফিরিয়ে আনা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল রাজশাহী নগরীর অদূরে পদ্মা নদীর ওপারের চরখানপুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে চরখানপুর ক্যাম্পের সদস্যরা গরুগুলো বাংলাদেশের সীমানায় ফিরিয়ে এনে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন এবং জরিমানা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চরখানপুর গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কয়েকটি থেকে শতাধিক গরু রয়েছে। এসব গরু চরের জমিতে চরানো হয় এবং রাজশাহী শহরের দুধের বড় অংশ এ এলাকা থেকেই সরবরাহ করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষ নানা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এর মধ্যেও বিভিন্ন অজুহাতে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, ওই ঘটনায় সীমান্ত অতিক্রম করা গরুর জন্য প্রতি গরু ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী কয়েকজন গরুর মালিক বলেন, তারা সাধারণ কৃষক; সীমান্তের নিয়মকানুন সবসময় স্পষ্টভাবে জানেন না। আগে সতর্ক না করে পরে জরিমানা করায় তারা ক্ষুব্ধ।
এদিকে খোয়াড়ের মালিক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। পরে গ্রামের লোকজন হিসাব করে তাকে ১২ হাজার ৩০০ টাকা দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রায় ১৮০টি গরুর বিপরীতে প্রায় ২০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। তবে বিজিবি বলছে, ১২০টি গরুর জন্য ১২ হাজার টাকা জরিমানা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৮ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে।
চরখানপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ সুবেদার সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবগত আছেন। তবে ১৫ এপ্রিলের ঘটনা ১৭ এপ্রিল নথিভুক্ত হওয়ার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—সীমান্তে নিয়মিত টহল ও নজরদারির দায়িত্বে থাকা বাহিনী আগে থেকে বিষয়টি কেন জানতে পারেনি, এবং কেন বিএসএফ জানানোর পর তৎপরতা দেখা গেল। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
পাভেল ইসলাম মিমুল, রাজশাহী: 














