Dhaka ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তুমুল আলোচনা, এআই দাবি ও পাল্টা অনুসন্ধানে নতুন বিতর্ক বেলকুচিকে মডেল পৌরসভা গড়ার প্রত্যয় হাজী আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল চলাচলের পথে ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর, তাড়াশে দুর্ভোগে ৪০ পরিবার বেড়ায় ৫০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে শোকজ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ৪ নং দৌলতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে দোয়া ও সহযোগিতা চাইলেন রাজীব হোসেন তাড়াশে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ রায়গঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পরীক্ষা বুধবার রায়গঞ্জে নারী-শিশু সুরক্ষায় সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত বেলকুচিতে ১ হাজার টাকার বিরোধে যুবক হত্যা, ৮ মাস পর র‌্যাবের হাতে পলাতক আসামি গ্রেফতার  রায়গঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুই ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার
বিজ্ঞপ্তি:
সারাদেশে সকল জেলা ও উপজেলায় সংবাদ কর্মী নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন ই মেইল: pddinkal@gmail.com

প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তুমুল আলোচনা, এআই দাবি ও পাল্টা অনুসন্ধানে নতুন বিতর্ক

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ৫ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক:
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ও কয়েকটি স্থিরচিত্রকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর একদিকে যেমন নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে এর সত্যতা নিয়েও শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ দাবি করেছেন, ভাইরাল হওয়া ছবি ও ভিডিও সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের অংশ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আধুনিক প্রযুক্তি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এসব কনটেন্ট তৈরি করে তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে একটি ফ্যাক্ট-চেকভিত্তিক গণমাধ্যম তাদের অনুসন্ধানে জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন উৎস থেকে উচ্চ রেজুলেশনের ভিডিও, ছবি ও কিছু স্ক্রিনশট সংগ্রহ করে একাধিক এআই শনাক্তকারী প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা করেছে। তাদের দাবি, পরীক্ষায় এসব কনটেন্ট কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়েছে এমন কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে বলেও তারা জানিয়েছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপের কিছু স্ক্রিনশট বিশ্লেষণ করে একটি মোবাইল নম্বরের সূত্র পাওয়া যায়। ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে এক নারী নিজের পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং একটি ছবিতে থাকা ব্যক্তিটি তিনি নিজেই বলে জানান। তবে ভাইরাল হওয়া ভিডিও বা অন্যান্য উপকরণের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি এবং এসব সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় প্রতিমন্ত্রীর নামে সংরক্ষিত একটি নম্বর থেকে প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে ফোনালাপে প্রতিমন্ত্রী সরাসরি অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করে সাক্ষাতের আহ্বান জানান। এদিকে মারিয়া সরকার এলিন নামে পরিচয় দেওয়া এক উপস্থাপিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দাবি করেছেন, তার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ছবি বিকৃতভাবে ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, পেশাগত কারণে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তোলা ছবিকে অপব্যাখ্যা করে তার সম্মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও ঘোষণা দেন। ঘটনার পর প্রতিমন্ত্রীর নিজ জেলা পঞ্চগড়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ভিডিও ভাইরালের বিষয়টি জানলেও প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে পঞ্চগড়ে জেলা ও স্থানীয় বিএনপির নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছেন, প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ছড়ানো ছবি ও ভিডিও এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি এবং এটি একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার। তারা জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে দেবীগঞ্জ, বোদা ও জেলা শহরে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে প্রতিবাদ কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের মতামত ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। তবে ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা কিংবা অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তুমুল আলোচনা, এআই দাবি ও পাল্টা অনুসন্ধানে নতুন বিতর্ক

প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তুমুল আলোচনা, এআই দাবি ও পাল্টা অনুসন্ধানে নতুন বিতর্ক

Update Time : ১১:১৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ও কয়েকটি স্থিরচিত্রকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর একদিকে যেমন নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে এর সত্যতা নিয়েও শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ দাবি করেছেন, ভাইরাল হওয়া ছবি ও ভিডিও সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের অংশ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আধুনিক প্রযুক্তি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এসব কনটেন্ট তৈরি করে তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে একটি ফ্যাক্ট-চেকভিত্তিক গণমাধ্যম তাদের অনুসন্ধানে জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন উৎস থেকে উচ্চ রেজুলেশনের ভিডিও, ছবি ও কিছু স্ক্রিনশট সংগ্রহ করে একাধিক এআই শনাক্তকারী প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা করেছে। তাদের দাবি, পরীক্ষায় এসব কনটেন্ট কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়েছে এমন কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে বলেও তারা জানিয়েছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপের কিছু স্ক্রিনশট বিশ্লেষণ করে একটি মোবাইল নম্বরের সূত্র পাওয়া যায়। ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে এক নারী নিজের পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং একটি ছবিতে থাকা ব্যক্তিটি তিনি নিজেই বলে জানান। তবে ভাইরাল হওয়া ভিডিও বা অন্যান্য উপকরণের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি এবং এসব সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় প্রতিমন্ত্রীর নামে সংরক্ষিত একটি নম্বর থেকে প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে ফোনালাপে প্রতিমন্ত্রী সরাসরি অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করে সাক্ষাতের আহ্বান জানান। এদিকে মারিয়া সরকার এলিন নামে পরিচয় দেওয়া এক উপস্থাপিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দাবি করেছেন, তার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ছবি বিকৃতভাবে ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, পেশাগত কারণে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তোলা ছবিকে অপব্যাখ্যা করে তার সম্মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও ঘোষণা দেন। ঘটনার পর প্রতিমন্ত্রীর নিজ জেলা পঞ্চগড়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ভিডিও ভাইরালের বিষয়টি জানলেও প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে পঞ্চগড়ে জেলা ও স্থানীয় বিএনপির নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছেন, প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ছড়ানো ছবি ও ভিডিও এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি এবং এটি একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার। তারা জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে দেবীগঞ্জ, বোদা ও জেলা শহরে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে প্রতিবাদ কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের মতামত ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। তবে ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা কিংবা অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।