Dhaka ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
কাজীপুরে উপজেলা প্রশাসন গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন তাড়াশে পৃথক ঘটনায় নববধূসহ দুই নারীর মৃত্যু, ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ এনায়েতপুরে র‌্যাবের অভিযানে ৪৮ কেজি গাঁজাসহ চার মাদক কারবারি গ্রেপ্তার গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে রায়গঞ্জে জামায়াতের গণমিছিল রায়গঞ্জে ঐতিহ্যবাহী পানশী নৌকা বাইচ উপলক্ষে স্থান পরিদর্শন ও প্রস্তুতিমূলক সভা তাড়াশে এক ব্যক্তির বাধায় এডিপির রাস্তার কাজ বন্ধ, ভোগান্তিতে ২৫ পরিবারের বাসিন্দা প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তুমুল আলোচনা, এআই দাবি ও পাল্টা অনুসন্ধানে নতুন বিতর্ক বেলকুচিকে মডেল পৌরসভা গড়ার প্রত্যয় হাজী আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল চলাচলের পথে ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর, তাড়াশে দুর্ভোগে ৪০ পরিবার
বিজ্ঞপ্তি:
সারাদেশে সকল জেলা ও উপজেলায় সংবাদ কর্মী নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন ই মেইল: pddinkal@gmail.com

বেতগাড়ী গরুর হাটে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ, প্রশাসন নিরব

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০৪:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
  • ১৩০ Time View

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর:
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বেতগাড়ী গরুর হাটে সরকারি নিয়ম অমান্য করে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ইজারাদারের বিরুদ্ধে ক্রেতা বিক্রেতাদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগে এলাকায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি বিধি অনুযায়ী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়ার কথা না থাকলেও বাস্তবে তাদের কাছ থেকেই জোরপূর্বক অর্থ আদায় করা হচ্ছে। গরু ক্রয়ের ক্ষেত্রে রশিদে ৬০০ টাকা উল্লেখ থাকলেও আদায় করা হচ্ছে ৭০০ টাকা। পাশাপাশি বিক্রেতাদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত ২০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ছাগল ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের পাশাপাশি ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকেই টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

হাঁস-মুরগির মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এ অনিয়ম থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। বিক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতি পিস হাঁস বা মুরগির জন্য ১০ টাকা করে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা তাদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে, হাটে সরকারি নির্ধারিত মূল্য তালিকা প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও কোথাও তা টানানো হয়নি। ফলে প্রকৃত ফি সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতারা সহজেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে পশু বিক্রি ও কক্ষ ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

হাটে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন রশিদ লেখক জানান, তারা ইজারাদারের নির্দেশনা অনুযায়ী ফি আদায় করে থাকেন।
ভুক্তভোগী বিক্রেতারা অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এতে তারা অসহায় বোধ করছেন এবং সুষ্ঠু সমাধান প্রত্যাশা করছেন।
এ বিষয়ে ইজারাদারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি পরে কথা বলার কথা জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অনিয়ম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বেতগাড়ী গরুর হাটে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ, প্রশাসন নিরব

Update Time : ০৩:০৪:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর:
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বেতগাড়ী গরুর হাটে সরকারি নিয়ম অমান্য করে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ইজারাদারের বিরুদ্ধে ক্রেতা বিক্রেতাদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগে এলাকায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি বিধি অনুযায়ী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়ার কথা না থাকলেও বাস্তবে তাদের কাছ থেকেই জোরপূর্বক অর্থ আদায় করা হচ্ছে। গরু ক্রয়ের ক্ষেত্রে রশিদে ৬০০ টাকা উল্লেখ থাকলেও আদায় করা হচ্ছে ৭০০ টাকা। পাশাপাশি বিক্রেতাদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত ২০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ছাগল ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের পাশাপাশি ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকেই টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

হাঁস-মুরগির মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এ অনিয়ম থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। বিক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতি পিস হাঁস বা মুরগির জন্য ১০ টাকা করে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা তাদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে, হাটে সরকারি নির্ধারিত মূল্য তালিকা প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও কোথাও তা টানানো হয়নি। ফলে প্রকৃত ফি সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতারা সহজেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে পশু বিক্রি ও কক্ষ ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

হাটে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন রশিদ লেখক জানান, তারা ইজারাদারের নির্দেশনা অনুযায়ী ফি আদায় করে থাকেন।
ভুক্তভোগী বিক্রেতারা অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এতে তারা অসহায় বোধ করছেন এবং সুষ্ঠু সমাধান প্রত্যাশা করছেন।
এ বিষয়ে ইজারাদারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি পরে কথা বলার কথা জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অনিয়ম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।