Dhaka ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সিরাজগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল রায়গঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন পাবনার হাটে পাটের দাম ধস, লোকসানের শঙ্কায় প্রান্তিক কৃষক কাজীপুরে উপজেলা প্রশাসন গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন তাড়াশে পৃথক ঘটনায় নববধূসহ দুই নারীর মৃত্যু, ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ এনায়েতপুরে র‌্যাবের অভিযানে ৪৮ কেজি গাঁজাসহ চার মাদক কারবারি গ্রেপ্তার গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে রায়গঞ্জে জামায়াতের গণমিছিল রায়গঞ্জে ঐতিহ্যবাহী পানশী নৌকা বাইচ উপলক্ষে স্থান পরিদর্শন ও প্রস্তুতিমূলক সভা তাড়াশে এক ব্যক্তির বাধায় এডিপির রাস্তার কাজ বন্ধ, ভোগান্তিতে ২৫ পরিবারের বাসিন্দা
বিজ্ঞপ্তি:
সারাদেশে সকল জেলা ও উপজেলায় সংবাদ কর্মী নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন ই মেইল: pddinkal@gmail.com

পুকুরপাড়েই কেটেছে জীবন মাঝারদিয়া বাজারের জীবন্ত ইতিহাস নাপিত অকিল শীল

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • ১৭৪ Time View

সাজ্জাদ হোসেন, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

সময়ের সাথে বদলে গেছে গ্রামের বাজার, বেড়েছে আধুনিক সেলুনের সংখ্যা, পাল্টেছে মানুষের জীবনযাত্রা। কিন্তু সবকিছুর মাঝেও ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড়ে এখনও দেখা যায় এক চেনা দৃশ্য হাতে কাঁচি ও ক্ষুর, সামনে বসা গ্রাহক আর পাশে একটি ছোট পিঁড়ি। আর সেই দৃশ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অকিল শীল।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে খোলা আকাশের নিচে বসে মানুষের চুল-দাড়ি কেটে জীবিকা নির্বাহ করে আসা এই মানুষটি যেন মাঝারদিয়া বাজারেরই এক জীবন্ত ইতিহাস।

অকিল শীল জানান, বর্তমানে তিনি প্রতি জনের চুল কাটার জন্য ৫০ টাকা নেন। হাটের দিনে তাঁর কাছে গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন গ্রাহক আসেন। সেই হিসেবে প্রতিদিন খুব বেশি আয় হয় না।

তবুও এই সামান্য আয়ের ওপর ভর করেই তিনি নিজের সংসার চালানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

অকিল শীল বলেন,“ছোটবেলা থেকেই এই কাজ করছি। তখন বাজারে কোনো সেলুন ছিল না। পুকুরপাড়ে বসেই মানুষের চুল কেটে সংসার চালিয়েছি। এখন অনেক সেলুন হয়েছে, তবুও পুরোনো গ্রাহকেরা এখনও আমার কাছেই আসে।”বয়সের ভারে শরীর আগের মতো শক্তি না পেলেও কাজ ছেড়ে দিতে চান না তিনি।

তিনি বলেন,“বয়স তো অনেক হয়েছে। শরীরও আগের মতো শক্তি পায় না। কিন্তু কাজ না করলে মন ভালো লাগে না। তাই যতদিন পারি কাজ করেই যেতে চাই।”

অকিল শীলের পাঁচ ছেলে-মেয়ে রয়েছে। তবে তাঁদের কেউই বাবার এই পেশাকে অনুসরণ করেননি। সবাই ভিন্ন ভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছেন।

এ বিষয়ে অকিল শীল বলেন,আমি কখনো তাদের জোর করিনি। তারা যার যার মতো কাজ করছে। আমি আমার কাজ নিয়েই খুশি।”তবে দীর্ঘ এই কর্মজীবন এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের মতে, মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড় মানেই যেন অকিল শীল। বহু বছর ধরে তিনি এই জায়গাটিকেই নিজের কর্মস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
একসময় গ্রামবাংলায় খোলা আকাশের নিচে বসেই নাপিতেরা মানুষের চুল-দাড়ি কাটতেন। আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই দৃশ্য আজ প্রায় হারিয়ে গেছে। কিন্তু মাঝারদিয়া বাজারে এখনও সেই পুরোনো দিনের স্মৃতি ধরে রেখেছেন অকিল শীল।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন,আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখছি উনি এখানে বসে চুল কাটছেন। বাজারের অনেক পরিবর্তন হয়েছে, দোকানপাট বেড়েছে, কিন্তু উনার জায়গা বদলায়নি।

পুকুরপাড়ে বসে কাঁচির টুংটাং শব্দ তুলতে তুলতে যেন নিজের জীবনের গল্পই লিখে চলেছেন অকিল শীল।
গ্রামীণ জীবনের সরলতা, পরিশ্রম আর আত্মমর্যাদার এক অনন্য উদাহরণ তিনি। বয়সের ভার কিংবা আধুনিকতার চাপ কিছুই তাকে থামাতে পারেনি।

হাটের দিনগুলোতে এখনও মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড়ে দেখা যায় সেই পরিচিত দৃশ্য একটি ছোট পিঁড়ি, হাতে কাঁচি ও ক্ষুর, আর সামনে বসা গ্রাহক।

সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গেলেও, অকিল শীল যেন এখনও ধরে রেখেছেন সেই পুরোনো দিনের স্মৃতি। তাঁর কাঁচির টুংটাং শব্দেই যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে গ্রামীণ বাংলার এক হারিয়ে যেতে বসা অধ্যায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সিরাজগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

পুকুরপাড়েই কেটেছে জীবন মাঝারদিয়া বাজারের জীবন্ত ইতিহাস নাপিত অকিল শীল

Update Time : ১১:১৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

সাজ্জাদ হোসেন, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

সময়ের সাথে বদলে গেছে গ্রামের বাজার, বেড়েছে আধুনিক সেলুনের সংখ্যা, পাল্টেছে মানুষের জীবনযাত্রা। কিন্তু সবকিছুর মাঝেও ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড়ে এখনও দেখা যায় এক চেনা দৃশ্য হাতে কাঁচি ও ক্ষুর, সামনে বসা গ্রাহক আর পাশে একটি ছোট পিঁড়ি। আর সেই দৃশ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অকিল শীল।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে খোলা আকাশের নিচে বসে মানুষের চুল-দাড়ি কেটে জীবিকা নির্বাহ করে আসা এই মানুষটি যেন মাঝারদিয়া বাজারেরই এক জীবন্ত ইতিহাস।

অকিল শীল জানান, বর্তমানে তিনি প্রতি জনের চুল কাটার জন্য ৫০ টাকা নেন। হাটের দিনে তাঁর কাছে গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন গ্রাহক আসেন। সেই হিসেবে প্রতিদিন খুব বেশি আয় হয় না।

তবুও এই সামান্য আয়ের ওপর ভর করেই তিনি নিজের সংসার চালানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

অকিল শীল বলেন,“ছোটবেলা থেকেই এই কাজ করছি। তখন বাজারে কোনো সেলুন ছিল না। পুকুরপাড়ে বসেই মানুষের চুল কেটে সংসার চালিয়েছি। এখন অনেক সেলুন হয়েছে, তবুও পুরোনো গ্রাহকেরা এখনও আমার কাছেই আসে।”বয়সের ভারে শরীর আগের মতো শক্তি না পেলেও কাজ ছেড়ে দিতে চান না তিনি।

তিনি বলেন,“বয়স তো অনেক হয়েছে। শরীরও আগের মতো শক্তি পায় না। কিন্তু কাজ না করলে মন ভালো লাগে না। তাই যতদিন পারি কাজ করেই যেতে চাই।”

অকিল শীলের পাঁচ ছেলে-মেয়ে রয়েছে। তবে তাঁদের কেউই বাবার এই পেশাকে অনুসরণ করেননি। সবাই ভিন্ন ভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছেন।

এ বিষয়ে অকিল শীল বলেন,আমি কখনো তাদের জোর করিনি। তারা যার যার মতো কাজ করছে। আমি আমার কাজ নিয়েই খুশি।”তবে দীর্ঘ এই কর্মজীবন এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের মতে, মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড় মানেই যেন অকিল শীল। বহু বছর ধরে তিনি এই জায়গাটিকেই নিজের কর্মস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
একসময় গ্রামবাংলায় খোলা আকাশের নিচে বসেই নাপিতেরা মানুষের চুল-দাড়ি কাটতেন। আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই দৃশ্য আজ প্রায় হারিয়ে গেছে। কিন্তু মাঝারদিয়া বাজারে এখনও সেই পুরোনো দিনের স্মৃতি ধরে রেখেছেন অকিল শীল।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন,আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখছি উনি এখানে বসে চুল কাটছেন। বাজারের অনেক পরিবর্তন হয়েছে, দোকানপাট বেড়েছে, কিন্তু উনার জায়গা বদলায়নি।

পুকুরপাড়ে বসে কাঁচির টুংটাং শব্দ তুলতে তুলতে যেন নিজের জীবনের গল্পই লিখে চলেছেন অকিল শীল।
গ্রামীণ জীবনের সরলতা, পরিশ্রম আর আত্মমর্যাদার এক অনন্য উদাহরণ তিনি। বয়সের ভার কিংবা আধুনিকতার চাপ কিছুই তাকে থামাতে পারেনি।

হাটের দিনগুলোতে এখনও মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড়ে দেখা যায় সেই পরিচিত দৃশ্য একটি ছোট পিঁড়ি, হাতে কাঁচি ও ক্ষুর, আর সামনে বসা গ্রাহক।

সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গেলেও, অকিল শীল যেন এখনও ধরে রেখেছেন সেই পুরোনো দিনের স্মৃতি। তাঁর কাঁচির টুংটাং শব্দেই যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে গ্রামীণ বাংলার এক হারিয়ে যেতে বসা অধ্যায়।