
নিজস্ব প্রতিবেদক :
পবিত্র রমজান মাসকে ঘিরে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা এলাকার হাট-বাজার ও সড়কের মোড়ে জমে উঠেছে ইফতারি বাজার। প্রতিদিন বিকেল গড়াতেই এসব স্থানে বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়, যা বাজারে এক ভিন্ন প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করছে। ঝকঝকে দোকান বা আধুনিক পরিবেশ না থাকলেও কাঠের টেবিলের ওপর পলিথিন বিছিয়ে সাজিয়ে রাখা হয় নানা ধরনের ইফতারি সামগ্রী। স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে এসব ইফতারি বাজার বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
বাজারে ছোলা, বুন্দিয়া, মুড়ি, পিয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, জিলাপি, খেজুর, নিমকিসহ বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবার বিক্রি হচ্ছে। দুপুরের পর থেকেই দোকানিরা ইফতারি তৈরির প্রস্তুতি নেন। তবে বিকেলের দিকে ক্রেতাদের উপস্থিতিতে পুরো বাজার সরগরম হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ঘোলের দোকানগুলোতে সারিবদ্ধভাবে বোতলে সাজানো ঠান্ডা ঘোল ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। পাশাপাশি ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে অনেকেই ইফতারের জন্য বিরিয়ানির প্যাকেটও কিনে নিচ্ছেন। অধিকাংশ ইফতারি আইটেমের দাম ২০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে হওয়ায় সাধারণ রোজাদারদের ভিড় বেশি দেখা যাচ্ছে।
বওলাতলা গ্রামের বাসিন্দা হোসেন আলী বলেন,ইফতারের সময় পরিবারের জন্য বিভিন্ন ধরনের খাবার নিতে ভালো লাগে। তাই বাজারে এসে পছন্দমতো ইফতারি কিনছি। সলঙ্গা বাজারের হোটেল মালিক আব্দুল আলিম জানান, রমজান শুরু হওয়ার পর থেকেই ইফতারির ভালো বেচাকেনা হচ্ছে। বিকেলের পর থেকে রোজাদারদের ভিড়ে দোকানে প্রচুর চাপ থাকে বলে তিনি জানান। পাপিয়া হোটেলের মালিক শহিদুল ইসলাম বলেন, রমজান এলেই সকাল থেকেই ইফতারির প্রস্তুতি নিতে হয়। বিকেল থেকে বিক্রি শুরু হয় এবং সন্ধ্যা যত ঘনিয়ে আসে মানুষের ভিড় তত বাড়তে থাকে।
দশানীপাড়া এলাকার দোকানি শাহাদাত হোসেন জানান, সারা বছর তিনি ঝালমুড়ি বিক্রি করলেও রমজান মাসে ছোলা ও বুন্দিয়ার মতো ইফতারি আইটেমও বিক্রি করেন। তার ভাষায়, মাগরিবের আজান পড়তেই মুহূর্তে ফুটপাতের দোকানগুলো ফাঁকা হয়ে যায়, সবাই দ্রুত ইফতার করতে চলে যায়।ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, রমজানজুড়ে ক্রেতাদের এমন সমাগম অব্যাহত থাকলে তাদের ব্যবসা ভালো হবে। তবে ক্রেতাদের দাবি, ইফতারি পণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
Reporter Name 









