
শফিউল আযম, বিশেষ প্রতিবেদক:
সাঁথিয়া উপজেলার পৌর সদরের বোয়াইলমারী হাটের ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়ম, সিন্ডিকেট ও সমঝোতার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের দাবি, প্রচলিত দরপত্র বিধিমালা উপেক্ষা করে বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে হাট ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলার আরও দুটি হাট কমমূল্যে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কাশিনাথপুর ও রসুলপুর হাট নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে উপজেলার কাশিনাথপুর ও রসুলপুর (বনগ্রাম) হাটের নিলামেও প্রত্যাশিত প্রতিযোগিতা হয়নি। কাশিনাথপুর হাটে মাত্র দুটি এবং রসুলপুর (বনগ্রাম) হাটে তিনটি দরপত্র জমা পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, দরদাতারা সমঝোতার মাধ্যমে কমমূল্যে বিট করে নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। এর ফলে এ দুটি হাটে সরকার অন্তত ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব হারিয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
বোয়াইলমারী হাটে মূল্য হ্রাস নিয়ে বিতর্ক,পৌর সদরের বোয়াইলমারী হাট ইজারার জন্য চলতি বছরে ৬৪ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি দরপ্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। অথচ গত বছর একই হাটের ইজারা মূল্য ছিল প্রায় ৯০ লাখ টাকা। এবার সাতটি সিডিউল বিক্রি হলেও জমা পড়েছে মাত্র তিনটি। স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি পরিকল্পিত সমঝোতার ইঙ্গিত দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, জমা দেওয়া তিনটি দরপত্রের মধ্যে কেবল একটির সঙ্গে নির্ধারিত ব্যাংক ড্রাফট সংযুক্ত ছিল। বাকি দুটি দরপত্রে ব্যাংক ড্রাফট না থাকায় সেগুলো বিধিমালা অনুযায়ী বাতিলযোগ্য। এতে একটি বৈধ দরপত্রকে একক দরদাতা হিসেবে বিবেচনা করে কমমূল্যে ইজারা দেওয়ার পথ তৈরি করা হচ্ছে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
তাদের অভিযোগ, প্রতিযোগিতা এড়াতে ‘লোকদেখানো’ দরপত্র জমা দিয়ে নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রকৃত প্রতিযোগিতা হলে সরকার আরও বেশি রাজস্ব পেত বলে দাবি করেন তারা। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। প্রশাসনের বক্তব্য,পাবনা জেলার জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা বলেন, “গত তিন বছরের গড় দর বিবেচনায় নিলাম মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গড় মূল্যের চেয়ে বেশি দর পেলে সর্বোচ্চ দরদাতাকেই ইজারা দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রেও নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়-এর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশিদ বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুসারেই হাট-বাজার, সায়রাত মহাল ও বালু মহাল ইজারা দেওয়া হয়ে থাকে। তবে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সমঝোতা রোধে নীতিমালা আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
পুনঃটেন্ডারের দাবিসচেতন মহল মনে করছেন, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং রাজস্ব বৃদ্ধি করতে এক বা দুটি বৈধ দরপত্র জমা পড়লে পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করা উচিত। এতে দর বাড়ার সম্ভাবনা থাকে এবং সরকারের আর্থিক ক্ষতি কমানো সম্ভব।
Reporter Name 


















