
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শাহ্ নুরুল কবীর শাহিনের বিরুদ্ধে ডাক্তারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সংবলিত একটি অডিও কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভাইরাল হওয়া এই অডিও কলটি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল থেকে প্রায় ১৬ মিনিট ১১ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের একটি কথোপকথনের অডিও ক্লিপ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই অডিওটি অসংখ্যবার শেয়ার হয় এবং ভোটারদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপে এক প্রান্ত থেকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মোবারক হোসেনকে সংসদ সদস্য প্রার্থী শাহিনের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘দাদা, আপনার তো এখন মাঠ ভালো। কিন্তু আপনার নেতাকর্মীরা আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আপনি এমপি হলে আমাকে এলাকায় থাকতে দেবে না। এখন আমি কী করবো? আপনি হাসপাতাল থেকে একাধিকবার মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা নিয়েছেন, তার ভিডিও আমার কাছে আছে। ঈশ্বরগঞ্জ হাসপাতালের এক ডাক্তার আপনার বাসায় দুই লাখ টাকা চাঁদা দিয়ে গেছেন সেই ভিডিওও রয়েছে।
অডিওতে আরও শোনা যায়, মোবারক হোসেন দাবি করেন—বিভিন্ন সময় ডাক্তারদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায়ের একাধিক অডিও ও ভিডিও প্রমাণ তার কাছে রয়েছে এবং প্রয়োজনে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এর জবাবে বিপরীত প্রান্ত থেকে এমপি প্রার্থী শাহ্ নুরুল কবীর শাহিনকে বলতে শোনা যায়, ‘তোর কোনো সমস্যা হবে না। আমি কি তোকে কিছু বলেছি? কে কী বললো, তা নিয়ে চিন্তা করিস না। তুই আগে যেমন ছিলি, এখনও তেমনই আছিস।
পরে মোবারক হোসেন জানান, তিনি আর শাহিনকে বিশ্বাস করেন না। এ সময় শাহিন তাকে পরদিন দেখা করার আহ্বান জানালে মোবারক বলেন, ‘আপনার বাসায় গেলেই আপনি লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে আমাকে গুলি করে দেবেন।
ভাইরাল হওয়া অডিও কল রেকর্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মোবারক হোসেন বলেন, ‘সাবেক এমপি শাহিন ঈশ্বরগঞ্জ হাসপাতালের ডাক্তারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সময় মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা নিয়েছেন। ভাইরাল হওয়া এই অডিওতেই তার স্বীকারোক্তি রয়েছে।
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাহ্ নুরুল কবীর শাহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এখন খাওয়া-দাওয়া করছি, ১০ মিনিট পরে ফোন দেবো।’ তবে পরবর্তীতে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় বিষয়টি নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
Reporter Name 



















