
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
কারাগারে পরিচয় থেকে শুরু হওয়া এক প্রেমের সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত বিয়েতে রূপ নিচ্ছে। হত্যামামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এক নারী ও এক পুরুষ বন্দিকে বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন রাজস্থান হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশে তাদের ১৫ দিনের জরুরি প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজস্থানের আলওয়ার জেলার বারোদামেভ এলাকায় এই বিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে দুজনকেই পুনরায় কারাগারে ফিরে যেতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বিয়েতে যাওয়া দুই আসামির নাম প্রিয়া শেঠ ওরফে নেহা শেঠ এবং হনুমান প্রসাদ। তারা দুজনেই বর্তমানে কারাদণ্ড ভোগ করছেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ছয় মাস আগে জয়পুরের সাঙ্গানের ওপেন জেলে তাদের পরিচয় হয়।
একই কারাগারে থাকার সময় ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে এবং এক পর্যায়ে তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। সেই সম্পর্কের পরিণতিতেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা। প্রিয়া শেঠ ২০১৮ সালের একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হন। তদন্তে উঠে আসে, অনলাইন ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয়ের পর এক যুবককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে গ্রেপ্তার এড়াতে তাকে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ স্যুটকেসে ভরে ফেলে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, হনুমান প্রসাদ ২০১৭ সালের একটি ভয়াবহ পাঁচ খুনের মামলায় দণ্ডিত। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রেমিকার অনুরোধে প্রথমে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনার সাক্ষী হয়ে যাওয়ায় আরও চারজনকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় সে সময় পুরো আলওয়ার এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
হাইকোর্ট স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বিয়ের উদ্দেশ্যেই কেবল প্যারোল দেওয়া হয়েছে। সময়সীমা শেষ হলে আইন অনুযায়ী তাদের আবার কারাগারে ফিরে যেতে হবে। কারাগার থেকে শুরু হওয়া এই প্রেম ও বিয়ের ঘটনা ইতোমধ্যেই ভারতজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
Reporter Name 


















