
রিয়াজুল হক সাগর,রংপুর প্রতিনিধি:
রংপুর চিড়িয়াখানায় জন্ম নেওয়া রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দুই শাবক ‘রাজা’ ও ‘রানী’কে দেখতে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়। জন্মের তিন মাস পর শাবক দুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করায় শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষের আগমন বেড়েছে চিড়িয়াখানায়।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, রয়েল বেঙ্গল টাইগার দম্পতি রোমিও ও জুলিয়েটের ঘরে তিন মাস আগে এই দুটি শাবকের জন্ম হয়। জন্মের পর থেকেই নিবিড় পরিচর্যার জন্য শাবক দুটিকে মায়ের সঙ্গে আলাদাভাবে রাখা হয়েছিল। পর্যাপ্ত দুধ পান, নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সেবার নিশ্চয়তা দিতে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয় তাদের। সুস্থভাবে তিন মাস পার করার পর গত ২১ ডিসেম্বর থেকে শাবক দুটিকে বাবা-মায়ের সঙ্গে একই খাঁচায় রাখা হয়।
বড় খাঁচায় বাবা-মায়ের সঙ্গে শাবক দুটির ছোটাছুটি, খুনসুটি ও খেলাধুলা দর্শনার্থীদের দারুণ আনন্দ দিচ্ছে। শীতের কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে পরিবারসহ দর্শনার্থীরা ছুটে আসছেন রাজা-রানীকে এক নজর দেখতে।
কুড়িগ্রাম থেকে আসা দর্শনার্থী শারমিন আক্তার বলেন, সন্তানদের নিয়ে বাঘের শাবক দেখাটা তাদের জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা।
তিনি শাবক দুটিকে রংপুরেই রেখে বড় করে তোলার অনুরোধ জানান। একই অনুভূতি জানান পীরগঞ্জ থেকে আসা রেজাউল করিম মানিক ও রংপুর নগরীর বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন। তাদের মতে, শাবক দুটির প্রাণচাঞ্চল্য ও মায়াবী আচরণ শিশুদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে।
রংপুর চিড়িয়াখানার ইজারাদার হজরত আলী জানান, আল্লাহর রহমতে বাঘের শাবক দুটি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে। দর্শনার্থীদের আগ্রহ বাড়ায় চিড়িয়াখানাকে আরও সমৃদ্ধ করতে নতুন প্রাণী সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে জিরাফ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
চিড়িয়াখানার চিকিৎসক ডা. শাহাদত হোসেন বলেন, এর আগেও বাঘ দম্পতির গর্ভধারণ হলেও তা সফল হয়নি। এবার বিশেষ যত্ন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিচর্যার মাধ্যমে সফলভাবে দুটি শাবকের জন্ম হয়েছে। শীতকাল হওয়ায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রংপুর চিড়িয়াখানা ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৯১ সালে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। বর্তমানে এখানে ২৭ প্রজাতির প্রায় আড়াইশ প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, জলহস্তী, হরিণ, গন্ডার, চিতাবাঘ, ভালুকসহ নানা প্রজাতির পাখি দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
Reporter Name 



















