Dhaka ০১:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ৪ নং দৌলতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে দোয়া ও সহযোগিতা চাইলেন রাজীব হোসেন তাড়াশে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ রায়গঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পরীক্ষা বুধবার রায়গঞ্জে নারী-শিশু সুরক্ষায় সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত বেলকুচিতে ১ হাজার টাকার বিরোধে যুবক হত্যা, ৮ মাস পর র‌্যাবের হাতে পলাতক আসামি গ্রেফতার  রায়গঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুই ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার তাড়াশে জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত  বাংলা কিউআর ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে বেড়ায় পূবালী ব্যাংকের র‍্যালি ও সভা কাজিপুরে নিষিদ্ধ জালের দাপটে কমছে মাছ, মৎস্যসম্পদ রক্ষায় জোরালো পদক্ষেপের দাবি প্রয়াত এমপি আব্দুল মান্নান তালুকদার ছিলেন ত্যাগী ও জনমুখী রাজনীতিবিদ: মন্ত্রী ইকবাল হাসান টুকু
বিজ্ঞপ্তি:
সারাদেশে সকল জেলা ও উপজেলায় সংবাদ কর্মী নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন ই মেইল: pddinkal@gmail.com

রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে জাতীয় পতাকা না ওড়ানোয় প্রশ্নে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৮২ Time View

পাভেল ইসলাম মিমুল,রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি রাজশাহীর বোয়ালিয়া এলাকার অন্নদা সুন্দরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। নির্ধারিত সময় পার হলেও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করায় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষিত শোক দিবস উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সকল সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ ছিল। তবে সকাল ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পতাকার স্ট্যান্ডটি সম্পূর্ণ ফাঁকা পড়ে রয়েছে।

দীর্ঘ সময় জাতীয় পতাকা উত্তোলন না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাষ্ট্র যখন শোক পালন করছে, তখন একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের অবহেলা দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা শিক্ষার্থীদের জন্য নেতিবাচক বার্তা দেয় বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পাওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উম্মে সালহা খাতুন তড়িঘড়ি করে ব্যবস্থা নেন এবং পরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এতে করে বিষয়টি নিছক ভুল নাকি দায়িত্বহীন উদাসীনতা সে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত দপ্তরি অনুপস্থিত থাকায় তার পরিবর্তে পাশের একটি মুদি দোকানের ব্যবসায়ী, যিনি দপ্তরির আত্মীয়, বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে একজন বহিরাগত দিয়ে দায়িত্ব পালন করানো কতটা বৈধ তা নিয়েও সচেতন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে বোয়ালিয়া থানা শিক্ষা অফিসার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন বাধ্যতামূলক। কোনো প্রতিষ্ঠানে অবহেলা প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক উম্মে সালহা খাতুন বলেন, দপ্তরি উপস্থিত না থাকায় নির্ধারিত সময়ে পতাকা উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল।

তবে স্থানীয়দের মতে, দপ্তরি অনুপস্থিত থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক দায়িত্ব। রাষ্ট্রীয় শোক দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে এমন অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

উল্লেখ্য, শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যুতে সারা দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক দিবস পালিত হচ্ছে। এদিন জাতীয় পতাকা বিধিমালা অনুসরণে ব্যত্যয় ঘটায় অন্নদা সুন্দরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমালোচনা ও তদন্তের দাবি উঠেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ৪ নং দৌলতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে দোয়া ও সহযোগিতা চাইলেন রাজীব হোসেন

রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে জাতীয় পতাকা না ওড়ানোয় প্রশ্নে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

Update Time : ১২:৫১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

পাভেল ইসলাম মিমুল,রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি রাজশাহীর বোয়ালিয়া এলাকার অন্নদা সুন্দরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। নির্ধারিত সময় পার হলেও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করায় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষিত শোক দিবস উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সকল সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ ছিল। তবে সকাল ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পতাকার স্ট্যান্ডটি সম্পূর্ণ ফাঁকা পড়ে রয়েছে।

দীর্ঘ সময় জাতীয় পতাকা উত্তোলন না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাষ্ট্র যখন শোক পালন করছে, তখন একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের অবহেলা দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা শিক্ষার্থীদের জন্য নেতিবাচক বার্তা দেয় বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পাওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উম্মে সালহা খাতুন তড়িঘড়ি করে ব্যবস্থা নেন এবং পরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এতে করে বিষয়টি নিছক ভুল নাকি দায়িত্বহীন উদাসীনতা সে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত দপ্তরি অনুপস্থিত থাকায় তার পরিবর্তে পাশের একটি মুদি দোকানের ব্যবসায়ী, যিনি দপ্তরির আত্মীয়, বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে একজন বহিরাগত দিয়ে দায়িত্ব পালন করানো কতটা বৈধ তা নিয়েও সচেতন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে বোয়ালিয়া থানা শিক্ষা অফিসার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন বাধ্যতামূলক। কোনো প্রতিষ্ঠানে অবহেলা প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক উম্মে সালহা খাতুন বলেন, দপ্তরি উপস্থিত না থাকায় নির্ধারিত সময়ে পতাকা উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল।

তবে স্থানীয়দের মতে, দপ্তরি অনুপস্থিত থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক দায়িত্ব। রাষ্ট্রীয় শোক দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে এমন অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

উল্লেখ্য, শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যুতে সারা দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক দিবস পালিত হচ্ছে। এদিন জাতীয় পতাকা বিধিমালা অনুসরণে ব্যত্যয় ঘটায় অন্নদা সুন্দরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমালোচনা ও তদন্তের দাবি উঠেছে।