Dhaka ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তুমুল আলোচনা, এআই দাবি ও পাল্টা অনুসন্ধানে নতুন বিতর্ক বেলকুচিকে মডেল পৌরসভা গড়ার প্রত্যয় হাজী আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল চলাচলের পথে ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর, তাড়াশে দুর্ভোগে ৪০ পরিবার বেড়ায় ৫০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে শোকজ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ৪ নং দৌলতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে দোয়া ও সহযোগিতা চাইলেন রাজীব হোসেন তাড়াশে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ রায়গঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পরীক্ষা বুধবার রায়গঞ্জে নারী-শিশু সুরক্ষায় সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত বেলকুচিতে ১ হাজার টাকার বিরোধে যুবক হত্যা, ৮ মাস পর র‌্যাবের হাতে পলাতক আসামি গ্রেফতার  রায়গঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুই ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার
বিজ্ঞপ্তি:
সারাদেশে সকল জেলা ও উপজেলায় সংবাদ কর্মী নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন ই মেইল: pddinkal@gmail.com

তিন বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক দাম

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মার্চ ২০২৪
  • ৫৪২ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে কমছে। সবশেষ ফেব্রুয়ারিতে এসব পণ্যের গড় দাম কমে তিন বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মাসভিত্তিক মূল্যসূচক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শীর্ষ রফতানিকারক দেশগুলোয় কৃষিপণ্যের উৎপাদন পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে মোড় নিয়েছে। চলতি মৌসুমে খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক উৎপাদন রেকর্ড স্পর্শ করতে পারে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইনস কাউন্সিল (আইজিসি)।

বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোয় প্রত্যাশার চেয়েও ভুট্টা উৎপাদন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি দাম কমার ক্ষেত্রে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা পালন করছে।

ফেব্রুয়ারিতে এফএওর খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচক টানা সপ্তম মাসের মতো কমেছে। এর পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে প্রধান খাদ্যশস্যগুলো। এসব পণ্যের দাম লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে। তবে চিনি ও মাংসের দাম ছিল ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায়।

এফএওর মূল্যসূচক মূলত বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হওয়া খাদ্যপণ্যের দামের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। ফেব্রুয়ারিতে এ সূচকমান ছিল গড়ে ১১৭ দশমিক ৩ পয়েন্টে, আগের মাসে যা ছিল ১১৮ দশমিক ২ পয়েন্ট।

এফএওর তথ্যমতে, খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ৫ শতাংশ কমেছে। এছাড়া গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ২২ দশমিক ৩ শতাংশ। মূলত দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোয় বড় পরিসরে ভুট্টা উৎপাদনের প্রত্যাশা এবং ইউক্রেনের ভুট্টার প্রতিযোগিতামূলক রফতানি মূল্য এক্ষেত্রে রসদ জুগিয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে উদ্ভিজ্জ তেলের দাম জানুয়ারির তুলনায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় কমেছে ১১ শতাংশ। দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোয় পর্যাপ্ত সরবরাহ দাম কমতে সহায়তা করেছে। এছাড়া সরিষা ও সূর্যমুখী তেলের দামও পর্যাপ্ত রফতানির কারণে কমেছে।

তবে বিপরীত প্রবণতায় ছিল চিনি ও মাংসের বাজার। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে এফএওর চিনির মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। শীর্ষ উৎপাদক ব্রাজিলে নতুন মৌসুমের উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তীব্র আকার ধারণ করায় মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। এছাড়া থাইল্যান্ড ও ভারতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পূর্বাভাসও মিলেছে।

গত বছরের আগস্ট থেকেই খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক দাম অব্যাহত কমছে। ওই মাসে এফএও খাদ্যপণ্য মূল্যসূচক ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে গিয়েছিল। তবে চালের দাম বেড়ে ১৫ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে।

রাবোব্যাংক ২০২৪ সালে দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আশঙ্কা করছে, যা কৃষিপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধিকে মন্থর করে দেবে। রাবোব্যাংকের কৃষিপণ্যবিষয়ক প্রধান কার্লোস মেরা জানান, তিন বছর ধরে বিশ্বব্যাপী কৃষিপণ্যের দাম অত্যন্ত অস্থিতিশীল ছিল। উৎপাদনকারীরা এখনো যুদ্ধ, খারাপ আবহাওয়া, অন্যান্য খরচ বৃদ্ধি ও দুর্বল চাহিদার প্রভাবগুলোর সঙ্গে লড়াই করছে। তবে ২০২৪ সালে অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিকতার দিকে ফিরতে পারে।

কয়েক বছর ধরে রাবোব্যাংক প্রধান ১০টি কৃষিপণ্যের দিকে নজর রাখছে। এটি পূর্বাভাস দিয়েছে ভুট্টা, সয়াবিন, চিনি ও কফির দাম তুলনামূলকভাবে কমবে। তবে আবহাওয়া ও রফতানির অনিশ্চয়তার কারণে গমের দাম এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তুমুল আলোচনা, এআই দাবি ও পাল্টা অনুসন্ধানে নতুন বিতর্ক

তিন বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক দাম

Update Time : ০৫:৪২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মার্চ ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে কমছে। সবশেষ ফেব্রুয়ারিতে এসব পণ্যের গড় দাম কমে তিন বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মাসভিত্তিক মূল্যসূচক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শীর্ষ রফতানিকারক দেশগুলোয় কৃষিপণ্যের উৎপাদন পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে মোড় নিয়েছে। চলতি মৌসুমে খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক উৎপাদন রেকর্ড স্পর্শ করতে পারে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইনস কাউন্সিল (আইজিসি)।

বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোয় প্রত্যাশার চেয়েও ভুট্টা উৎপাদন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি দাম কমার ক্ষেত্রে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা পালন করছে।

ফেব্রুয়ারিতে এফএওর খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচক টানা সপ্তম মাসের মতো কমেছে। এর পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে প্রধান খাদ্যশস্যগুলো। এসব পণ্যের দাম লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে। তবে চিনি ও মাংসের দাম ছিল ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায়।

এফএওর মূল্যসূচক মূলত বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হওয়া খাদ্যপণ্যের দামের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। ফেব্রুয়ারিতে এ সূচকমান ছিল গড়ে ১১৭ দশমিক ৩ পয়েন্টে, আগের মাসে যা ছিল ১১৮ দশমিক ২ পয়েন্ট।

এফএওর তথ্যমতে, খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ৫ শতাংশ কমেছে। এছাড়া গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ২২ দশমিক ৩ শতাংশ। মূলত দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোয় বড় পরিসরে ভুট্টা উৎপাদনের প্রত্যাশা এবং ইউক্রেনের ভুট্টার প্রতিযোগিতামূলক রফতানি মূল্য এক্ষেত্রে রসদ জুগিয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে উদ্ভিজ্জ তেলের দাম জানুয়ারির তুলনায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় কমেছে ১১ শতাংশ। দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোয় পর্যাপ্ত সরবরাহ দাম কমতে সহায়তা করেছে। এছাড়া সরিষা ও সূর্যমুখী তেলের দামও পর্যাপ্ত রফতানির কারণে কমেছে।

তবে বিপরীত প্রবণতায় ছিল চিনি ও মাংসের বাজার। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে এফএওর চিনির মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। শীর্ষ উৎপাদক ব্রাজিলে নতুন মৌসুমের উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তীব্র আকার ধারণ করায় মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। এছাড়া থাইল্যান্ড ও ভারতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পূর্বাভাসও মিলেছে।

গত বছরের আগস্ট থেকেই খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক দাম অব্যাহত কমছে। ওই মাসে এফএও খাদ্যপণ্য মূল্যসূচক ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে গিয়েছিল। তবে চালের দাম বেড়ে ১৫ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে।

রাবোব্যাংক ২০২৪ সালে দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আশঙ্কা করছে, যা কৃষিপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধিকে মন্থর করে দেবে। রাবোব্যাংকের কৃষিপণ্যবিষয়ক প্রধান কার্লোস মেরা জানান, তিন বছর ধরে বিশ্বব্যাপী কৃষিপণ্যের দাম অত্যন্ত অস্থিতিশীল ছিল। উৎপাদনকারীরা এখনো যুদ্ধ, খারাপ আবহাওয়া, অন্যান্য খরচ বৃদ্ধি ও দুর্বল চাহিদার প্রভাবগুলোর সঙ্গে লড়াই করছে। তবে ২০২৪ সালে অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিকতার দিকে ফিরতে পারে।

কয়েক বছর ধরে রাবোব্যাংক প্রধান ১০টি কৃষিপণ্যের দিকে নজর রাখছে। এটি পূর্বাভাস দিয়েছে ভুট্টা, সয়াবিন, চিনি ও কফির দাম তুলনামূলকভাবে কমবে। তবে আবহাওয়া ও রফতানির অনিশ্চয়তার কারণে গমের দাম এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে।