
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত ৪৮টি সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে ৪৭টিই দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে সচল রয়েছে মাত্র একটি ক্যামেরা। ফলে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো কার্যকর নজরদারির বাইরে থাকায় রোগী, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সম্প্রতি হাসপাতাল চত্বরে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর সিসিটিভি ব্যবস্থার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এরপর একটি ক্যামেরা চালু করা হলেও বাকি ক্যামেরাগুলো এখনও অকেজো অবস্থায় রয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ও স্বজন, যারা পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি, জানান, সন্ধ্যার পর হাসপাতাল চত্বরে বহিরাগতদের উপস্থিতি বেড়ে যায়। তাঁদের অভিযোগ, কিছু মাদকসেবীর আড্ডার পাশাপাশি উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েদের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণও লক্ষ্য করা যায়। কার্যকর সিসিটিভি না থাকায় এসব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসনের নজরদারি দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নারী রোগী ও তাঁদের স্বজনরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে এই হাসপাতালে আসেন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অধিকাংশ সিসিটিভি অচল থাকায় চুরি, বিশৃঙ্খলা বা অন্য যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই দ্রুত সব ক্যামেরা মেরামত করে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আ ফ ম ওবাইদুল ইসলাম বলেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো অচল হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে একটি ক্যামেরা সচল করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে বাকি ক্যামেরাগুলোও মেরামত করে চালু করা হবে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে ক্যামেরাগুলো অচল থাকার পরও কেন দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সঠিক উত্তর দিতে পারেনি। হাসপাতালে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত সব সিসিটিভি ক্যামেরা সচল করা, নিয়মিত তদারকি বৃদ্ধি এবং বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবাপ্রত্যাশীরা।
Reporter Name 


















