
সোহেল রানা:
পকেটে ছিল মাত্র পঞ্চাশ টাকা। সেই টাকা দিয়ে চাল কিনে বাড়ি ফিরবেন এমন আশায় রাতের আঁধারে অটোভ্যান নিয়ে বের হয়েছিলেন সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার ধুবিল ইউনিয়নের মালতিনগড় গ্রামের অটোভ্যান চালক নাইম হোসেন (২৪)। কিন্তু ফেরা হয়নি আর দুর্বৃত্তদের হাতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি। গত (২৮ এপ্রিল) রাতে গলাকেটে হত্যা করে তার অটোভ্যান ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। নিহত নাইম হোসেন মালতিনগড় গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী খাদিজা খাতুন (২৩) ও সাত বছর বয়সী একমাত্র ছেলে আল ইমরানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা।
স্বজনরা জানান, দরিদ্র পরিবারের হাল ধরতে দিন-রাত পরিশ্রম করতেন নাইম। ঘটনার রাতে ঘরে চাল না থাকায় পকেটে মাত্র ৫০ টাকা নিয়ে অটোভ্যান চালিয়ে বের হন তিনি। পরিবারের আশা ছিল, কিছু আয় করে চাল কিনে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু গভীর রাতেও সে আর বাড়িতে ফেরেনি। পর দিন (২৯ এপ্রিল) খবর আসে উপজেলার সোনাখড়া ইউনিয়নের খৈচালা বিলের রাস্তার পাশ্বে দুর্বৃত্তরা তাকে গলাকেটে হত্যা করেছে এবং তার অটোভ্যানগাড়ি ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। বর্তমানে নিহত নাইমের স্ত্রী, সন্তান, মা ও ভাই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পরিবারটির কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস না থাকায় তারা জীবনযাপন করছে খুব কষ্টে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় কোনোভাবে চললেও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন পরিবারের।
নিহতের স্ত্রী খাদিজা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী আমাদের জন্য জীবনভর কষ্ট করেছে। এখন আমার ছোট ছেলেটাকে নিয়ে কোথায় যাবো বুঝতে পারছি না। সরকার ও সমাজের বিত্তবান মানুষ যদি আমাদের পাশে দাঁড়াতো, তাহলে হয়তো বেঁচে থাকার মতো একটু সাহস পেতাম। স্থানীয়রা জানান, নাইম ছিলেন শান্ত ও পরিশ্রমী যুবক, তার মতো একজন নিরীহ মানুষকে এভাবে হত্যা করায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, নাইম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
Reporter Name 
















