Dhaka ১১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
তাড়াশে একই রাতে দুই গ্রাম থেকে ৬ গরু চুরি ৮ দফা বাস্তবায়নে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করতে সিরাজগঞ্জে প্রেস ব্রিফিং রায়গঞ্জে গোয়ালঘর থেকে এক রাতে ৬ গরু চুরি তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮ গরু চুরি রায়গঞ্জে সিএনজি রাখার নামে ১০ টাকা চাঁদা, গ্রেপ্তার ১ ত্যাগীদের মূল্যায়নে সলঙ্গার ঘুড়কা ইউনিয়ন শ্রমিক দল গড়ছেন সভাপতি আবু সাইদ এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে রায়গঞ্জে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ঈশ্বরগঞ্জের এমপি মাজেদ ডেঙ্গু আক্রান্ত,সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া রায়গঞ্জে ইভটিজিং প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম  সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ যুবলীগের ঝটিকা মিছিল
বিজ্ঞপ্তি:
সারাদেশে সকল জেলা ও উপজেলায় সংবাদ কর্মী নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন ই মেইল: pddinkal@gmail.com

সুখের স্বপ্ন থামিয়ে দিল নির্মম হত্যাকাণ্ড, বিচার চেয়ে কষ্টে দিন কাটছে সলঙ্গার নাইমের পরিবার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৬:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
  • ৮৭ Time View

সোহেল রানা:
পকেটে ছিল মাত্র পঞ্চাশ টাকা। সেই টাকা দিয়ে চাল কিনে বাড়ি ফিরবেন এমন আশায় রাতের আঁধারে অটোভ্যান নিয়ে বের হয়েছিলেন সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার ধুবিল ইউনিয়নের মালতিনগড় গ্রামের অটোভ্যান চালক নাইম হোসেন (২৪)। কিন্তু ফেরা হয়নি আর দুর্বৃত্তদের হাতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি। গত (২৮ এপ্রিল) রাতে গলাকেটে হত্যা করে তার অটোভ্যান ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। নিহত নাইম হোসেন মালতিনগড় গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী খাদিজা খাতুন (২৩) ও সাত বছর বয়সী একমাত্র ছেলে আল ইমরানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা।

স্বজনরা জানান, দরিদ্র পরিবারের হাল ধরতে দিন-রাত পরিশ্রম করতেন নাইম। ঘটনার রাতে ঘরে চাল না থাকায় পকেটে মাত্র ৫০ টাকা নিয়ে অটোভ্যান চালিয়ে বের হন তিনি। পরিবারের আশা ছিল, কিছু আয় করে চাল কিনে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু গভীর রাতেও সে আর বাড়িতে ফেরেনি।  পর দিন (২৯ এপ্রিল) খবর আসে উপজেলার সোনাখড়া ইউনিয়নের খৈচালা বিলের রাস্তার পাশ্বে দুর্বৃত্তরা তাকে গলাকেটে হত্যা করেছে এবং তার অটোভ্যানগাড়ি ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। বর্তমানে নিহত নাইমের স্ত্রী, সন্তান, মা ও ভাই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পরিবারটির কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস না থাকায় তারা জীবনযাপন করছে খুব কষ্টে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় কোনোভাবে চললেও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন পরিবারের।

নিহতের স্ত্রী খাদিজা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী আমাদের জন্য জীবনভর কষ্ট করেছে। এখন আমার ছোট ছেলেটাকে নিয়ে কোথায় যাবো বুঝতে পারছি না। সরকার ও সমাজের বিত্তবান মানুষ যদি আমাদের পাশে দাঁড়াতো, তাহলে হয়তো বেঁচে থাকার মতো একটু সাহস পেতাম। স্থানীয়রা জানান, নাইম ছিলেন শান্ত ও পরিশ্রমী যুবক, তার মতো একজন নিরীহ মানুষকে এভাবে হত্যা করায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, নাইম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

তাড়াশে একই রাতে দুই গ্রাম থেকে ৬ গরু চুরি

সুখের স্বপ্ন থামিয়ে দিল নির্মম হত্যাকাণ্ড, বিচার চেয়ে কষ্টে দিন কাটছে সলঙ্গার নাইমের পরিবার

Update Time : ১২:৪৬:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

সোহেল রানা:
পকেটে ছিল মাত্র পঞ্চাশ টাকা। সেই টাকা দিয়ে চাল কিনে বাড়ি ফিরবেন এমন আশায় রাতের আঁধারে অটোভ্যান নিয়ে বের হয়েছিলেন সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার ধুবিল ইউনিয়নের মালতিনগড় গ্রামের অটোভ্যান চালক নাইম হোসেন (২৪)। কিন্তু ফেরা হয়নি আর দুর্বৃত্তদের হাতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি। গত (২৮ এপ্রিল) রাতে গলাকেটে হত্যা করে তার অটোভ্যান ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। নিহত নাইম হোসেন মালতিনগড় গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী খাদিজা খাতুন (২৩) ও সাত বছর বয়সী একমাত্র ছেলে আল ইমরানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা।

স্বজনরা জানান, দরিদ্র পরিবারের হাল ধরতে দিন-রাত পরিশ্রম করতেন নাইম। ঘটনার রাতে ঘরে চাল না থাকায় পকেটে মাত্র ৫০ টাকা নিয়ে অটোভ্যান চালিয়ে বের হন তিনি। পরিবারের আশা ছিল, কিছু আয় করে চাল কিনে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু গভীর রাতেও সে আর বাড়িতে ফেরেনি।  পর দিন (২৯ এপ্রিল) খবর আসে উপজেলার সোনাখড়া ইউনিয়নের খৈচালা বিলের রাস্তার পাশ্বে দুর্বৃত্তরা তাকে গলাকেটে হত্যা করেছে এবং তার অটোভ্যানগাড়ি ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। বর্তমানে নিহত নাইমের স্ত্রী, সন্তান, মা ও ভাই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পরিবারটির কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস না থাকায় তারা জীবনযাপন করছে খুব কষ্টে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় কোনোভাবে চললেও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন পরিবারের।

নিহতের স্ত্রী খাদিজা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী আমাদের জন্য জীবনভর কষ্ট করেছে। এখন আমার ছোট ছেলেটাকে নিয়ে কোথায় যাবো বুঝতে পারছি না। সরকার ও সমাজের বিত্তবান মানুষ যদি আমাদের পাশে দাঁড়াতো, তাহলে হয়তো বেঁচে থাকার মতো একটু সাহস পেতাম। স্থানীয়রা জানান, নাইম ছিলেন শান্ত ও পরিশ্রমী যুবক, তার মতো একজন নিরীহ মানুষকে এভাবে হত্যা করায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, নাইম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।