Dhaka ০৮:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে রায়গঞ্জে জামায়াতের গণমিছিল রায়গঞ্জে ঐতিহ্যবাহী পানশী নৌকা বাইচ উপলক্ষে স্থান পরিদর্শন ও প্রস্তুতিমূলক সভা তাড়াশে এক ব্যক্তির বাধায় এডিপির রাস্তার কাজ বন্ধ, ভোগান্তিতে ২৫ পরিবারের বাসিন্দা প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তুমুল আলোচনা, এআই দাবি ও পাল্টা অনুসন্ধানে নতুন বিতর্ক বেলকুচিকে মডেল পৌরসভা গড়ার প্রত্যয় হাজী আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল চলাচলের পথে ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর, তাড়াশে দুর্ভোগে ৪০ পরিবার বেড়ায় ৫০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে শোকজ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ৪ নং দৌলতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে দোয়া ও সহযোগিতা চাইলেন রাজীব হোসেন তাড়াশে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ রায়গঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পরীক্ষা বুধবার
বিজ্ঞপ্তি:
সারাদেশে সকল জেলা ও উপজেলায় সংবাদ কর্মী নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন ই মেইল: pddinkal@gmail.com

হাওরের বোরো ধান তলিয়ে কৃষকের আহাজারি: ধান চাষ করে ফকির হয়ে যাচ্ছি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ২২৯ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ বোরো ধানক্ষেত। পাকা ধান কাটার প্রস্তুতি নেওয়া কৃষকদের চোখের সামনে নিমিষেই ভেসে গেছে তাদের বছরের পরিশ্রম ও ঋণের টাকায় গড়া স্বপ্ন। ফলে উৎসবের বদলে এখন হাওরজুড়ে বিরাজ করছে হতাশা আর অনিশ্চয়তা।গত তিন দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইনসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে, জেলার অন্তত ৮৪৫ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। অষ্টগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন হাওরে হাজার হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান পানিতে ডুবে আছে। একইভাবে ইটনা ও মিঠামইনের বেশ কয়েকটি হাওরেও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। দ্রুত পানি না নামলে এসব ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে কাটা ও শুকানোর জন্য রাখা ধানও আবার পানিতে তলিয়ে গেছে, যা ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়িয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। পাশাপাশি ফসলরক্ষা বাঁধের দুর্বল ব্যবস্থাপনাও এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রতি বছরই একই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। এদিকে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। মাঠপর্যায়ে এক মণ ধান উৎপাদনে খরচ পড়ছে প্রায় ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা, অথচ বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। শ্রমিক সংকট ও বাড়তি মজুরি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। অনেক জায়গায় ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি এক হাজার টাকার বেশি, আবার হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করতেও গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত খরচ। কৃষকদের ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে ধান চাষ আর লাভজনক থাকছে না। লোকসান গুনে অনেকেই ভবিষ্যতে চাষাবাদ বন্ধ করে দেওয়ার কথাও ভাবছেন। তাদের অভিযোগ, বাজারে ধানের ন্যায্য মূল্য না থাকলেও চালের দাম বেশি, যার সুবিধা পাচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, এ বছর জেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে এবং ফলনও ভালো। তবে আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বাজারমূল্যের অস্থিরতায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং দ্রুত ধান কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। হাওরপাড়ের কৃষকদের একটাই দাবি দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং কার্যকর সহায়তা না পেলে তাদের জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে রায়গঞ্জে জামায়াতের গণমিছিল

হাওরের বোরো ধান তলিয়ে কৃষকের আহাজারি: ধান চাষ করে ফকির হয়ে যাচ্ছি

Update Time : ০৬:১৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ বোরো ধানক্ষেত। পাকা ধান কাটার প্রস্তুতি নেওয়া কৃষকদের চোখের সামনে নিমিষেই ভেসে গেছে তাদের বছরের পরিশ্রম ও ঋণের টাকায় গড়া স্বপ্ন। ফলে উৎসবের বদলে এখন হাওরজুড়ে বিরাজ করছে হতাশা আর অনিশ্চয়তা।গত তিন দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইনসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে, জেলার অন্তত ৮৪৫ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। অষ্টগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন হাওরে হাজার হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান পানিতে ডুবে আছে। একইভাবে ইটনা ও মিঠামইনের বেশ কয়েকটি হাওরেও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। দ্রুত পানি না নামলে এসব ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে কাটা ও শুকানোর জন্য রাখা ধানও আবার পানিতে তলিয়ে গেছে, যা ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়িয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। পাশাপাশি ফসলরক্ষা বাঁধের দুর্বল ব্যবস্থাপনাও এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রতি বছরই একই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। এদিকে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। মাঠপর্যায়ে এক মণ ধান উৎপাদনে খরচ পড়ছে প্রায় ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা, অথচ বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। শ্রমিক সংকট ও বাড়তি মজুরি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। অনেক জায়গায় ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি এক হাজার টাকার বেশি, আবার হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করতেও গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত খরচ। কৃষকদের ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে ধান চাষ আর লাভজনক থাকছে না। লোকসান গুনে অনেকেই ভবিষ্যতে চাষাবাদ বন্ধ করে দেওয়ার কথাও ভাবছেন। তাদের অভিযোগ, বাজারে ধানের ন্যায্য মূল্য না থাকলেও চালের দাম বেশি, যার সুবিধা পাচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, এ বছর জেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে এবং ফলনও ভালো। তবে আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বাজারমূল্যের অস্থিরতায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং দ্রুত ধান কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। হাওরপাড়ের কৃষকদের একটাই দাবি দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং কার্যকর সহায়তা না পেলে তাদের জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে