Dhaka ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সিরাজগঞ্জে কাশবন থেকে রিভলবার ও ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার তাড়াশে একই রাতে দুই গ্রাম থেকে ৬ গরু চুরি ৮ দফা বাস্তবায়নে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করতে সিরাজগঞ্জে প্রেস ব্রিফিং রায়গঞ্জে গোয়ালঘর থেকে এক রাতে ৬ গরু চুরি তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮ গরু চুরি রায়গঞ্জে সিএনজি রাখার নামে ১০ টাকা চাঁদা, গ্রেপ্তার ১ ত্যাগীদের মূল্যায়নে সলঙ্গার ঘুড়কা ইউনিয়ন শ্রমিক দল গড়ছেন সভাপতি আবু সাইদ এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে রায়গঞ্জে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ঈশ্বরগঞ্জের এমপি মাজেদ ডেঙ্গু আক্রান্ত,সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া রায়গঞ্জে ইভটিজিং প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম 
বিজ্ঞপ্তি:
সারাদেশে সকল জেলা ও উপজেলায় সংবাদ কর্মী নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন ই মেইল: pddinkal@gmail.com

পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প বাপাউবো ও কৃষকের গলার কাঁটায় পরিনত হয়েছে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:২৯:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৩৩ Time View

শফিউল আযম, বিশেষ প্রতিবেদকঃ
ক্রটিপূর্ণ অবকাটামো নিমার্ণ যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার না করায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে দেশে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন (আইআরডি) প্রকল্প। এতে প্রকল্পটি এখন পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং হাজার হাজার কৃষকের গলার কাঁটায় পরিনত হয়েছে।

এদিকে রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার কাজে প্রতি বছর প্রায় প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। কাঙ্ক্ষিত সেচ সুবিধা পাচ্ছেন না কৃষকেরা। এতে প্রতি বছর কমছে সেচের জমি। সব মিলিয়ে প্রকল্পটি এখন কৃষকের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে।

বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এক ফসলী দুই ও দুই ফসলী জমি তিন ফসলীতে রুপান্তর, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সেচ সুবিধার মাধ্যমে কম খরচে কৃষিজ পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালে শুরু হয়ে ১৯৯২ সালে প্রায় ৩৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

বেড়া উপজেলার বৃশালিখা হুড়াসাগর নদীপাড়ে পানি উত্তোলনের জন্য একটি পাম্পিং ষ্টেশন এবং কৈটোলায় যমুনা নদী পাড়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য অপর একটি পাম্পিং ষ্টেশন নির্মাণ করা হয়। এছাড়া নির্মাণ করা হয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, একাধিক রেগুলেটর, কালভার্টসহ বিভিন্ন অবকাঠামো।

প্রকল্প কমান্ড এরিয়ায় ১৮ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে সেচ প্রদানের লক্ষ্যে খনন করা হয় সাড়ে ৪২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের প্রধান সেচ ক্যানেল, ১৯টি সেকেন্ডারি ক্যানেল ক্যানেল, ৪৭টি টারশিয়ারি সেচ ক্যানেল এবং ৪ শতাধিক মাইনর সেচ ক্যানেল। এছাড়া খনন করা হয় একাধিক নিষ্কাশন ক্যানেল।
জানা যায়, ১৯৯২ সালে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হলে অবকাটামোগত নানা ক্রটির কারণে সে সময় মাত্র দুই হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হয়। চলতি বোরো মওসুমে (২০২৬ সালে) মাত্র আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সঠিকভাবে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ করা হয়নি। ক্রটিপূর্ণ অবকাঠামোর কারণে আজ পর্যন্ত অধিকাংশ সেচ ক্যানেল পানির প্রবাহ ঘটানো সম্ভবনা হয়নি। অনেক জায়গায় স্থানীয়রা সেচ ক্যানেল ভরাট করে অবকাঠামো নিমাণ করেছে। আবার কোথাও কোথাও প্রভাবশালীরা ক্যানেল দখল করে মাছচাষ করছে। প্রকল্পের সেচ সুবিধা না পেয়ে হাজার হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, সেচ প্রকল্পের সেচ সুবিধা প্রাপ্ত কৃষকদের তিনটি ফসল আবাদের জন্য প্রতি বিঘায় সার্ভিস চার্জ দিতে হয় মাত্র ১৮০ টাকা। আর গভীর-অগভীর নলকূপের মাধ্যমে বোরো আবাদে প্রতি বিঘা জমিতে কৃষককে সেচ বাবদ ব্যয় করতে হয় কমপক্ষে পাঁচ হাজার টাকা। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক প্রকৌশলী জানান, পাবনা সেচ প্রকল্প এখন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় কৃষকদের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। প্রকল্পের শুরুর সময় সেচ অবকাঠামো ক্রটিযুক্ত হওয়ায় বেড়া ও সাঁথিয়া কমান্ড এরিয়ায় মাত্র দুই হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হয়। পরবর্তীতে সেচ অবকাঠামো ক্রটিমুক্ত করে ১৮ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে সেচ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এরপরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের অবকাটামো ক্রটিমুক্ত করার জন্য ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০১ পযর্ন্ত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও জিওবির ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে করা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদাদের পকেট ভারি হওয়া ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অথচ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার বাবদ প্রতি বছর ব্যয় করা হয় প্রায় এক কোটি টাকা। এদিকে প্রতি বছরই কমছে সেচের জমি কমছে।

সরেজমিনে সাঁথিয়ার পুণ্ডরিয়া, শামুকজানি, বায়া, পানিশাইল, বেয়াইলমারী, গাগড়াখালি, ছেচানিয়া, বড়গ্রাম, বেড়া উপজেলার চাকলা, দমদমা, খাকছাড়া, মোহনগঞ্জ, হরিরামপুর, নতুন পেঁচাকোলা, মাছখালিসহ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, জমির পাশ দিয়ে যাওয়া সেচ ক্যানেলগুলোতে পানি নেই। দেখে মনে হয় না এগুলো সেচ ক্যানেল। অনেক স্থানে সেচ ক্যনেল মাটির সাথে মিশে গেছে।

পুণ্ডরিয়া গ্রামের কৃষক শরিফুল, লুৎফর, শাহীন, নাসির প্রামাণিকসহ অনেকেই বলেন, এক সময় আমরা সেচ ক্যানেলর পানি দিয়ে সব ধরনের ফসল আবাদ করতাম। নামমাত্র খরচ হতো। এখন পানি সরবরাহ না পাওয়ায় তারা সেচযন্ত্র স্থাপন করে জমিতে সেচ দিচ্ছেন। এতে তাদের ফসল উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে।

সম্প্রতি বেড়া উপজেলার দমদমা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ক্রটির কারণে আই-৩এস-৮ ক্যানেলে গত ৩৫ বছর এবং আই-৩ এস-১ডি-৫ সেচ ক্যানেলে গত ১৫ বছর ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে সেচ ক্যানেলের পাশে গড়ে উঠেছে অনেক স্থাপনা। ক্যানেলের অনেক অনেক জায়গা বেদখল হযে গেছে।

বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সংস্কারের জন্য এরইমধ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। এতে বন্ধ সেচ ক্যানেলগুলো যেমন পুনরুজ্জীবিত হবে, তেমনি নতুন নতুন এলাকায় সেচ ক্যানেল নির্মাণ করা হবে। এটা চালু হলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি জমি সেচের আওতায় আনা সম্ভব হবে। তখন ফসল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সিরাজগঞ্জে কাশবন থেকে রিভলবার ও ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প বাপাউবো ও কৃষকের গলার কাঁটায় পরিনত হয়েছে

Update Time : ০৮:২৯:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

শফিউল আযম, বিশেষ প্রতিবেদকঃ
ক্রটিপূর্ণ অবকাটামো নিমার্ণ যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার না করায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে দেশে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন (আইআরডি) প্রকল্প। এতে প্রকল্পটি এখন পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং হাজার হাজার কৃষকের গলার কাঁটায় পরিনত হয়েছে।

এদিকে রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার কাজে প্রতি বছর প্রায় প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। কাঙ্ক্ষিত সেচ সুবিধা পাচ্ছেন না কৃষকেরা। এতে প্রতি বছর কমছে সেচের জমি। সব মিলিয়ে প্রকল্পটি এখন কৃষকের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে।

বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এক ফসলী দুই ও দুই ফসলী জমি তিন ফসলীতে রুপান্তর, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সেচ সুবিধার মাধ্যমে কম খরচে কৃষিজ পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালে শুরু হয়ে ১৯৯২ সালে প্রায় ৩৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

বেড়া উপজেলার বৃশালিখা হুড়াসাগর নদীপাড়ে পানি উত্তোলনের জন্য একটি পাম্পিং ষ্টেশন এবং কৈটোলায় যমুনা নদী পাড়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য অপর একটি পাম্পিং ষ্টেশন নির্মাণ করা হয়। এছাড়া নির্মাণ করা হয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, একাধিক রেগুলেটর, কালভার্টসহ বিভিন্ন অবকাঠামো।

প্রকল্প কমান্ড এরিয়ায় ১৮ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে সেচ প্রদানের লক্ষ্যে খনন করা হয় সাড়ে ৪২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের প্রধান সেচ ক্যানেল, ১৯টি সেকেন্ডারি ক্যানেল ক্যানেল, ৪৭টি টারশিয়ারি সেচ ক্যানেল এবং ৪ শতাধিক মাইনর সেচ ক্যানেল। এছাড়া খনন করা হয় একাধিক নিষ্কাশন ক্যানেল।
জানা যায়, ১৯৯২ সালে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হলে অবকাটামোগত নানা ক্রটির কারণে সে সময় মাত্র দুই হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হয়। চলতি বোরো মওসুমে (২০২৬ সালে) মাত্র আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সঠিকভাবে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ করা হয়নি। ক্রটিপূর্ণ অবকাঠামোর কারণে আজ পর্যন্ত অধিকাংশ সেচ ক্যানেল পানির প্রবাহ ঘটানো সম্ভবনা হয়নি। অনেক জায়গায় স্থানীয়রা সেচ ক্যানেল ভরাট করে অবকাঠামো নিমাণ করেছে। আবার কোথাও কোথাও প্রভাবশালীরা ক্যানেল দখল করে মাছচাষ করছে। প্রকল্পের সেচ সুবিধা না পেয়ে হাজার হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, সেচ প্রকল্পের সেচ সুবিধা প্রাপ্ত কৃষকদের তিনটি ফসল আবাদের জন্য প্রতি বিঘায় সার্ভিস চার্জ দিতে হয় মাত্র ১৮০ টাকা। আর গভীর-অগভীর নলকূপের মাধ্যমে বোরো আবাদে প্রতি বিঘা জমিতে কৃষককে সেচ বাবদ ব্যয় করতে হয় কমপক্ষে পাঁচ হাজার টাকা। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক প্রকৌশলী জানান, পাবনা সেচ প্রকল্প এখন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় কৃষকদের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। প্রকল্পের শুরুর সময় সেচ অবকাঠামো ক্রটিযুক্ত হওয়ায় বেড়া ও সাঁথিয়া কমান্ড এরিয়ায় মাত্র দুই হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হয়। পরবর্তীতে সেচ অবকাঠামো ক্রটিমুক্ত করে ১৮ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে সেচ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এরপরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের অবকাটামো ক্রটিমুক্ত করার জন্য ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০১ পযর্ন্ত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও জিওবির ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে করা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদাদের পকেট ভারি হওয়া ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অথচ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার বাবদ প্রতি বছর ব্যয় করা হয় প্রায় এক কোটি টাকা। এদিকে প্রতি বছরই কমছে সেচের জমি কমছে।

সরেজমিনে সাঁথিয়ার পুণ্ডরিয়া, শামুকজানি, বায়া, পানিশাইল, বেয়াইলমারী, গাগড়াখালি, ছেচানিয়া, বড়গ্রাম, বেড়া উপজেলার চাকলা, দমদমা, খাকছাড়া, মোহনগঞ্জ, হরিরামপুর, নতুন পেঁচাকোলা, মাছখালিসহ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, জমির পাশ দিয়ে যাওয়া সেচ ক্যানেলগুলোতে পানি নেই। দেখে মনে হয় না এগুলো সেচ ক্যানেল। অনেক স্থানে সেচ ক্যনেল মাটির সাথে মিশে গেছে।

পুণ্ডরিয়া গ্রামের কৃষক শরিফুল, লুৎফর, শাহীন, নাসির প্রামাণিকসহ অনেকেই বলেন, এক সময় আমরা সেচ ক্যানেলর পানি দিয়ে সব ধরনের ফসল আবাদ করতাম। নামমাত্র খরচ হতো। এখন পানি সরবরাহ না পাওয়ায় তারা সেচযন্ত্র স্থাপন করে জমিতে সেচ দিচ্ছেন। এতে তাদের ফসল উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে।

সম্প্রতি বেড়া উপজেলার দমদমা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ক্রটির কারণে আই-৩এস-৮ ক্যানেলে গত ৩৫ বছর এবং আই-৩ এস-১ডি-৫ সেচ ক্যানেলে গত ১৫ বছর ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে সেচ ক্যানেলের পাশে গড়ে উঠেছে অনেক স্থাপনা। ক্যানেলের অনেক অনেক জায়গা বেদখল হযে গেছে।

বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সংস্কারের জন্য এরইমধ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। এতে বন্ধ সেচ ক্যানেলগুলো যেমন পুনরুজ্জীবিত হবে, তেমনি নতুন নতুন এলাকায় সেচ ক্যানেল নির্মাণ করা হবে। এটা চালু হলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি জমি সেচের আওতায় আনা সম্ভব হবে। তখন ফসল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে।