
পাভেল ইসলাম মিমুল, নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীতে ভুয়া পেশাগত পরিচয় ব্যবহার করে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা, বিয়ে, অর্থ আত্মসাৎ ও নির্যাতনের অভিযোগে আটক হয়েছেন মারুফ ওরফে অধি। তাকে ঘিরে বেরিয়ে আসছে ধারাবাহিক প্রতারণার চিত্র।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজেকে কখনও পাইলট, কখনও বিদেশি প্রশিক্ষক কিংবা আন্তর্জাতিক এভিয়েশন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় দিতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশে তোলা ছবি, বিমান সংক্রান্ত পোস্ট ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সাজানো বর্ণনা দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করতেন। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ‘ডিজিটাল ইমেজ’ তৈরিই ছিল তার প্রতারণার প্রধান কৌশল।
ভুক্তভোগী প্রথম স্ত্রীর অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দাবি শুরু করেন অধি। কখনও বিদেশ যাওয়ার খরচ, কখনও প্রশিক্ষণ ফি, কখনও ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে কয়েক দফায় বড় অঙ্কের অর্থ নেন। টাকা দিতে দেরি হলে শারীরিক নির্যাতন, অপমান ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হতো। তার ভাষায়, সে আমাকে ভালোবাসেনি, টাকার উৎস হিসেবে দেখেছে।
নিজেকে অধির সাবেক প্রেমিকা পরিচয় দেওয়া এক নারী জানান, ভবিষ্যৎ বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন সম্পর্ক বজায় রাখেন অধি। বিদেশে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকেও অর্থ নেন। পরে তিনি জানতে পারেন, অধির আগেই সংসার রয়েছে। তিনি বলেন, তার কথাবার্তা ও জীবনযাপন দেখে কখনও সন্দেহ হয়নি। পরে বুঝলাম সবই সাজানো।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, কয়েক মাস আগে তার একাধিক সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এরপর একে একে সামনে আসে প্রতারণার অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, প্রথম স্ত্রীকে তালাক না দিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেন অধি। পরে প্রথম স্ত্রীকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় পক্ষের পরিবারের এক সদস্য জানান, বিয়ের সময় নিজের বৈবাহিক অবস্থা গোপন করেছিলেন তিনি। সত্য প্রকাশ পাওয়ার পর তারাও প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
ঘটনার সূত্র ধরে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি নগরীর ভদ্রা আবাসিক এলাকার ৫ নম্বর সড়কের একটি বিউটি পারলার থেকে তাকে আটক করে মান্দা থানা পুলিশ। অভিযানে সহযোগিতা করে চন্দ্রীমা থানা। মামলায় অধির পিতা-মাতাসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে পরিকল্পিতভাবে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে আর্থিক সুবিধা নেওয়াই ছিল তার উদ্দেশ্য। আরও ভুক্তভোগী সামনে এলে মামলায় নতুন ধারা যুক্ত হতে পারে।
এ ঘটনায় নগরজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাজানো পরিচয়, দ্রুত সম্পর্ক গড়া এবং যাচাই ছাড়া আর্থিক লেনদেন এখন প্রতারণার বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে। সম্পর্ক বা বিয়ের আগে পারিবারিক ও পেশাগত যাচাই এবং আইনগত নিশ্চিতকরণ জরুরি বলে মত দিয়েছেন তারা।
এই ঘটনার অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ বিয়ে করা স্ত্রীর বক্তব্য, অতীত সম্পর্কের তথ্য এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে।
Reporter Name 

















