
সালথা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা:
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে, মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফলে মানুষের আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে এবং বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি এ উপলক্ষে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজ নির্বাচনী এলাকা নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে বাবা মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমানের কবর জিয়ারত করতে আসেন তিনি। কবর জিয়ারতের পর নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন করা হবে। বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব অটুট থাকবে। তবে সেই সম্পর্ক হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মর্যাদার ভিত্তিতে।
নিজের পারিবারিক ঐতিহ্য উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, “আমার বাবা বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। তাঁর সন্তান হিসেবে আমার দায়িত্ব আরও বেশি। শুধু সালথা-নগরকান্দা নয়, জেলার প্রতিটি উপজেলা ও পৌরসভার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও জানান, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু ফরিদপুর নয়, বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলকে ঘিরে সুদূরপ্রসারী উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ফরিদপুরকে বিভাগ ঘোষণা, পদ্মা সেতুর সংযোগসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসময় বলেন, এই অঞ্চলের নারী, পুরুষ ও যুবসমাজের ভাগ্যোন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে আইটি হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। তিনি জানান, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রোজার মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। আমরা জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছি এবং ভবিষ্যতেও তা বাস্তবায়ন করব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সব দল-মতের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া হবে।
এর আগে দুপুরে নগরকান্দা থানা পুলিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রিকে রাষ্ট্রীয় সম্মানসূচক গার্ড অব অনার প্রদান করে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সভা ও সাক্ষাৎকারে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়, যা এলাকায় ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
Reporter Name 

















