
সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় সংবাদ সংগ্রহে যাওয়ার পথে এক সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
হুমকির শিকার মো. সাইফুল ইসলাম (৩৩) সালথা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সমকাল পত্রিকার সালথা প্রতিনিধি।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার রামকান্তুপুর ইউনিয়নের রামকান্তুপুর-বাহিরদিয়া দাসে বাড়ি তিন রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে সাইফুল ইসলাম নিজ বাড়ি (আটঘর ইউনিয়নের বিভাগদী গ্রাম) থেকে মোটরসাইকেলে সালথা বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পথে উল্লিখিত স্থানে পৌঁছালে ৫-৬ জন অজ্ঞাতনামা যুবক তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে ঘেরাও করে। এ সময় তারা তাকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন এবং নির্দিষ্ট কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির সংবাদ প্রকাশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন এবং হুমকি দিয়ে বলেন, “১২ তারিখের পর তোর হাড্ডি-গুড্ডি ভেঙে দিয়ে সাংবাদিকতা শেখানো হবে।” এতে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমি একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে সবসময় নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রকাশের চেষ্টা করি। সংবাদ প্রকাশের কারণে যদি এভাবে প্রাণনাশের হুমকি পেতে হয়, তাহলে তা শুধু আমার জন্য নয়, পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। বর্তমানে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এ বিষয়ে ফরিদপুর-২ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আল্লামা শাহ্ আকরাম আলী জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। কারা এ ধরনের হুমকি দিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করবেন—এ বিষয়ে কোনো হুমকি বা বাধা সমর্থনযোগ্য নয়।
সালথা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম নাহিদ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, দ্রুত হুমকিদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না হলে সাংবাদিকরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সালথা উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী সাংবাদিকের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হবে।
Reporter Name 
















