Dhaka ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সিরাজগঞ্জে কাশবন থেকে রিভলবার ও ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার তাড়াশে একই রাতে দুই গ্রাম থেকে ৬ গরু চুরি ৮ দফা বাস্তবায়নে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করতে সিরাজগঞ্জে প্রেস ব্রিফিং রায়গঞ্জে গোয়ালঘর থেকে এক রাতে ৬ গরু চুরি তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮ গরু চুরি রায়গঞ্জে সিএনজি রাখার নামে ১০ টাকা চাঁদা, গ্রেপ্তার ১ ত্যাগীদের মূল্যায়নে সলঙ্গার ঘুড়কা ইউনিয়ন শ্রমিক দল গড়ছেন সভাপতি আবু সাইদ এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে রায়গঞ্জে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ঈশ্বরগঞ্জের এমপি মাজেদ ডেঙ্গু আক্রান্ত,সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া রায়গঞ্জে ইভটিজিং প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম 
বিজ্ঞপ্তি:
সারাদেশে সকল জেলা ও উপজেলায় সংবাদ কর্মী নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন ই মেইল: pddinkal@gmail.com

তিস্তাপারের ভোটারদের একটাই শর্ত নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চাই

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪৮:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৯৬ Time View

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর অফিস
‘যে তিস্তার ভাঙন থামাবে, ভোট যাবে তার ঘরেই’ এই বক্তব্য এখন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তিস্তাপারের চরাঞ্চলে মানুষের মুখে মুখে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় প্রার্থীদের প্রচারণা জোরদার হলেও ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে বছরের পর বছর জমে থাকা ক্ষোভ ও বঞ্চনার অভিজ্ঞতা।

তিস্তাপারের মানুষের স্পষ্ট বার্তা এবার আর কথার আশ্বাস নয়, বাস্তব ও স্থায়ী উদ্যোগ দেখাতে পারলেই মিলবে ভোট।
উলিপুর উপজেলার বজরা, গুনাইগাছ, থেতরাই ও দলদলিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল তিস্তা নদীর ভাঙনের মুখে পড়ে প্রতিবছর নতুন করে সংকটে পড়ে। কৃষিনির্ভর এসব এলাকার মানুষ ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে বারবার নিঃস্ব হচ্ছেন। তাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে চরের বাসিন্দাদের প্রধান দাবি ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং কার্যকর নদীশাসন। অনেকেই বলছেন, সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি না পেলে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ হারাতে পারেন তারা।

কিশোরপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আব্দুল বারী (৬০) জানান, তিনবার নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে এখন তিনি কৃষিকাজ ছেড়ে ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাঁর ভাষায়, একসময় নিজের জমিতে চাষ করে সংসার চললেও এখন সেই জমির চিহ্নই নেই। একই এলাকার প্রবীণ মোঃ আব্দুল আজিজ (৭৫) বলেন, ১১ বার নদীভাঙনের শিকার হয়ে গত দুই দশক ধরে তিনি এক চর থেকে আরেক চরে আশ্রয় নিচ্ছেন। তাঁর কণ্ঠে আক্ষেপ, তিস্তা নদী যেন তার পুরো জীবনটাই ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে।
সরেজমিনে চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার হতাশা থাকলেও এবার ভোটারদের মধ্যে অংশগ্রহণের আগ্রহ আছে। তবে সঙ্গে আছে তীব্র অভিযোগও। চরের মানুষ নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা ভাঙনের সময় কোনো কার্যকর সহায়তা পান না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

কিশোরপুর চরের ঘোড়ার গাড়িচালক আবুল হোসেন ও তৈয়ব আলী বলেন, তারা আর ভাসমান জীবন চান না। তিস্তা নদীকে শাসনের মাধ্যমেই স্থায়ী বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।
উলিপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম ৩ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭০ জন। এর বড় একটি অংশই চরাঞ্চলের ভোটার। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ধানের শীষ প্রতীকে মোঃ তাসভীর উল ইসলাম, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ব্যারিস্টার মোঃ মাহবুবুর আলম ছালেহী, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মোঃ আব্দুস সোবাহান, হাতপাখা প্রতীকে ডাঃ মোঃ আক্কাছ আলী সরকার, ট্রাক প্রতীকে সরকার মোঃ নুরে এরশাদ সিদ্দিকী ও হাঁস প্রতীকে এডভোকেট মোঃ শাফিউর রহমান।
তিস্তাপারের মানুষ বলছেন, এবারের ভোট উন্নয়নের আশ্বাসে নয় বাস্তব কাজের নিশ্চয়তার ওপরই নির্ভর করবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সিরাজগঞ্জে কাশবন থেকে রিভলবার ও ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

তিস্তাপারের ভোটারদের একটাই শর্ত নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চাই

Update Time : ০৩:৪৮:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর অফিস
‘যে তিস্তার ভাঙন থামাবে, ভোট যাবে তার ঘরেই’ এই বক্তব্য এখন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তিস্তাপারের চরাঞ্চলে মানুষের মুখে মুখে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় প্রার্থীদের প্রচারণা জোরদার হলেও ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে বছরের পর বছর জমে থাকা ক্ষোভ ও বঞ্চনার অভিজ্ঞতা।

তিস্তাপারের মানুষের স্পষ্ট বার্তা এবার আর কথার আশ্বাস নয়, বাস্তব ও স্থায়ী উদ্যোগ দেখাতে পারলেই মিলবে ভোট।
উলিপুর উপজেলার বজরা, গুনাইগাছ, থেতরাই ও দলদলিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল তিস্তা নদীর ভাঙনের মুখে পড়ে প্রতিবছর নতুন করে সংকটে পড়ে। কৃষিনির্ভর এসব এলাকার মানুষ ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে বারবার নিঃস্ব হচ্ছেন। তাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে চরের বাসিন্দাদের প্রধান দাবি ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং কার্যকর নদীশাসন। অনেকেই বলছেন, সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি না পেলে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ হারাতে পারেন তারা।

কিশোরপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আব্দুল বারী (৬০) জানান, তিনবার নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে এখন তিনি কৃষিকাজ ছেড়ে ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাঁর ভাষায়, একসময় নিজের জমিতে চাষ করে সংসার চললেও এখন সেই জমির চিহ্নই নেই। একই এলাকার প্রবীণ মোঃ আব্দুল আজিজ (৭৫) বলেন, ১১ বার নদীভাঙনের শিকার হয়ে গত দুই দশক ধরে তিনি এক চর থেকে আরেক চরে আশ্রয় নিচ্ছেন। তাঁর কণ্ঠে আক্ষেপ, তিস্তা নদী যেন তার পুরো জীবনটাই ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে।
সরেজমিনে চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার হতাশা থাকলেও এবার ভোটারদের মধ্যে অংশগ্রহণের আগ্রহ আছে। তবে সঙ্গে আছে তীব্র অভিযোগও। চরের মানুষ নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা ভাঙনের সময় কোনো কার্যকর সহায়তা পান না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

কিশোরপুর চরের ঘোড়ার গাড়িচালক আবুল হোসেন ও তৈয়ব আলী বলেন, তারা আর ভাসমান জীবন চান না। তিস্তা নদীকে শাসনের মাধ্যমেই স্থায়ী বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।
উলিপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম ৩ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭০ জন। এর বড় একটি অংশই চরাঞ্চলের ভোটার। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ধানের শীষ প্রতীকে মোঃ তাসভীর উল ইসলাম, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ব্যারিস্টার মোঃ মাহবুবুর আলম ছালেহী, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মোঃ আব্দুস সোবাহান, হাতপাখা প্রতীকে ডাঃ মোঃ আক্কাছ আলী সরকার, ট্রাক প্রতীকে সরকার মোঃ নুরে এরশাদ সিদ্দিকী ও হাঁস প্রতীকে এডভোকেট মোঃ শাফিউর রহমান।
তিস্তাপারের মানুষ বলছেন, এবারের ভোট উন্নয়নের আশ্বাসে নয় বাস্তব কাজের নিশ্চয়তার ওপরই নির্ভর করবে।