
রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর অফিস
‘যে তিস্তার ভাঙন থামাবে, ভোট যাবে তার ঘরেই’ এই বক্তব্য এখন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তিস্তাপারের চরাঞ্চলে মানুষের মুখে মুখে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় প্রার্থীদের প্রচারণা জোরদার হলেও ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে বছরের পর বছর জমে থাকা ক্ষোভ ও বঞ্চনার অভিজ্ঞতা।
তিস্তাপারের মানুষের স্পষ্ট বার্তা এবার আর কথার আশ্বাস নয়, বাস্তব ও স্থায়ী উদ্যোগ দেখাতে পারলেই মিলবে ভোট।
উলিপুর উপজেলার বজরা, গুনাইগাছ, থেতরাই ও দলদলিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল তিস্তা নদীর ভাঙনের মুখে পড়ে প্রতিবছর নতুন করে সংকটে পড়ে। কৃষিনির্ভর এসব এলাকার মানুষ ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে বারবার নিঃস্ব হচ্ছেন। তাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে চরের বাসিন্দাদের প্রধান দাবি ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং কার্যকর নদীশাসন। অনেকেই বলছেন, সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি না পেলে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ হারাতে পারেন তারা।
কিশোরপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আব্দুল বারী (৬০) জানান, তিনবার নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে এখন তিনি কৃষিকাজ ছেড়ে ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাঁর ভাষায়, একসময় নিজের জমিতে চাষ করে সংসার চললেও এখন সেই জমির চিহ্নই নেই। একই এলাকার প্রবীণ মোঃ আব্দুল আজিজ (৭৫) বলেন, ১১ বার নদীভাঙনের শিকার হয়ে গত দুই দশক ধরে তিনি এক চর থেকে আরেক চরে আশ্রয় নিচ্ছেন। তাঁর কণ্ঠে আক্ষেপ, তিস্তা নদী যেন তার পুরো জীবনটাই ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে।
সরেজমিনে চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার হতাশা থাকলেও এবার ভোটারদের মধ্যে অংশগ্রহণের আগ্রহ আছে। তবে সঙ্গে আছে তীব্র অভিযোগও। চরের মানুষ নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা ভাঙনের সময় কোনো কার্যকর সহায়তা পান না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
কিশোরপুর চরের ঘোড়ার গাড়িচালক আবুল হোসেন ও তৈয়ব আলী বলেন, তারা আর ভাসমান জীবন চান না। তিস্তা নদীকে শাসনের মাধ্যমেই স্থায়ী বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।
উলিপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম ৩ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭০ জন। এর বড় একটি অংশই চরাঞ্চলের ভোটার। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ধানের শীষ প্রতীকে মোঃ তাসভীর উল ইসলাম, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ব্যারিস্টার মোঃ মাহবুবুর আলম ছালেহী, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মোঃ আব্দুস সোবাহান, হাতপাখা প্রতীকে ডাঃ মোঃ আক্কাছ আলী সরকার, ট্রাক প্রতীকে সরকার মোঃ নুরে এরশাদ সিদ্দিকী ও হাঁস প্রতীকে এডভোকেট মোঃ শাফিউর রহমান।
তিস্তাপারের মানুষ বলছেন, এবারের ভোট উন্নয়নের আশ্বাসে নয় বাস্তব কাজের নিশ্চয়তার ওপরই নির্ভর করবে।
Reporter Name 

















