Dhaka ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সিরাজগঞ্জে কাশবন থেকে রিভলবার ও ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার তাড়াশে একই রাতে দুই গ্রাম থেকে ৬ গরু চুরি ৮ দফা বাস্তবায়নে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করতে সিরাজগঞ্জে প্রেস ব্রিফিং রায়গঞ্জে গোয়ালঘর থেকে এক রাতে ৬ গরু চুরি তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮ গরু চুরি রায়গঞ্জে সিএনজি রাখার নামে ১০ টাকা চাঁদা, গ্রেপ্তার ১ ত্যাগীদের মূল্যায়নে সলঙ্গার ঘুড়কা ইউনিয়ন শ্রমিক দল গড়ছেন সভাপতি আবু সাইদ এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে রায়গঞ্জে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ঈশ্বরগঞ্জের এমপি মাজেদ ডেঙ্গু আক্রান্ত,সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া রায়গঞ্জে ইভটিজিং প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম 
বিজ্ঞপ্তি:
সারাদেশে সকল জেলা ও উপজেলায় সংবাদ কর্মী নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন ই মেইল: pddinkal@gmail.com

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে ভোট ও গণভোটের সমান্তরাল উত্তাপ, নির্বাচনী প্রস্তুতির শেষ ধাপ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪৮:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪৩২ Time View

নয়ন দাস, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :

ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমারের বুকে গড়ে ওঠা চরাঞ্চলঘেরা উত্তরের সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রামে শীতের কনকনে হাওয়ার মধ্যেও জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ। তবে এবারকার ভোটের উত্তাপ আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে আলাদা। কারণ, সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি ভোটারদের সামনে থাকছে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে জুলাই চার্টার বা গণভোট।

কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনে মোট ২৬ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের (রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী) দুর্গম চরাঞ্চলে গণভোট নিয়ে আগ্রহ ও কৌতূহল তুলনামূলক বেশি। নদীপথে নৌকাযোগে প্রার্থীদের প্রচারণার পাশাপাশি মাইকিংয়ে ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের তাৎপর্য তুলে ধরা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার মোট ৭০৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৮৬টিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের বড় অংশই চর ও প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত।
গণভোট প্রসঙ্গে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নানা ভাবনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উলিপুর উপজেলার কৃষক মো. আইয়ুব আলী বলেন, এমপি ভোট তো বুঝি, কিন্তু এবার আইন বদলানোর ভোটও দিতে হবে শুনছি। নদীভাঙনের মতো সমস্যার স্থায়ী সমাধান যদি এতে আসে, তাহলে সেটাই আমাদের চাওয়া।

একটি অংশের ভোটারের বিশ্বাস, গণভোটের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা স্থায়ী হলে ভবিষ্যতে সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করা সহজ হবে।
গণভোট ও জুলাই চার্টার নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় পথসভা ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী নয় এই প্রস্তাবটি তরুণ ভোটারদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও কুড়িগ্রাম এখন বেশ সরব। চারটি আসনেই বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা প্রচারে সক্রিয় রয়েছেন। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় স্বতন্ত্র ও নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। অনেক এলাকায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বানে মিছিল ও পথসভা করতে দেখা যাচ্ছে। তাদের বক্তব্য, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় এই গণভোট গুরুত্বপূর্ণ।

তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। চরাঞ্চলের অন্তত ছয়টি ভোটকেন্দ্রে এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় রাতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার জানিয়েছেন, চরাঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে এবং ব্যালট বাক্স পরিবহনে স্পিডবোটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে গুজব রোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে মঙ্গা ও নদীভাঙনে জর্জরিত এই জনপদের মানুষ এবার শুধু খাদ্য নিরাপত্তা নয়, ভোটের নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। ভোটারদের আশা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট কুড়িগ্রামসহ দেশের রাষ্ট্র সংস্কারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সিরাজগঞ্জে কাশবন থেকে রিভলবার ও ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে ভোট ও গণভোটের সমান্তরাল উত্তাপ, নির্বাচনী প্রস্তুতির শেষ ধাপ

Update Time : ০৫:৪৮:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

নয়ন দাস, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :

ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমারের বুকে গড়ে ওঠা চরাঞ্চলঘেরা উত্তরের সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রামে শীতের কনকনে হাওয়ার মধ্যেও জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ। তবে এবারকার ভোটের উত্তাপ আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে আলাদা। কারণ, সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি ভোটারদের সামনে থাকছে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে জুলাই চার্টার বা গণভোট।

কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনে মোট ২৬ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের (রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী) দুর্গম চরাঞ্চলে গণভোট নিয়ে আগ্রহ ও কৌতূহল তুলনামূলক বেশি। নদীপথে নৌকাযোগে প্রার্থীদের প্রচারণার পাশাপাশি মাইকিংয়ে ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের তাৎপর্য তুলে ধরা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার মোট ৭০৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৮৬টিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের বড় অংশই চর ও প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত।
গণভোট প্রসঙ্গে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নানা ভাবনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উলিপুর উপজেলার কৃষক মো. আইয়ুব আলী বলেন, এমপি ভোট তো বুঝি, কিন্তু এবার আইন বদলানোর ভোটও দিতে হবে শুনছি। নদীভাঙনের মতো সমস্যার স্থায়ী সমাধান যদি এতে আসে, তাহলে সেটাই আমাদের চাওয়া।

একটি অংশের ভোটারের বিশ্বাস, গণভোটের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা স্থায়ী হলে ভবিষ্যতে সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করা সহজ হবে।
গণভোট ও জুলাই চার্টার নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় পথসভা ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী নয় এই প্রস্তাবটি তরুণ ভোটারদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও কুড়িগ্রাম এখন বেশ সরব। চারটি আসনেই বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা প্রচারে সক্রিয় রয়েছেন। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় স্বতন্ত্র ও নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। অনেক এলাকায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বানে মিছিল ও পথসভা করতে দেখা যাচ্ছে। তাদের বক্তব্য, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় এই গণভোট গুরুত্বপূর্ণ।

তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। চরাঞ্চলের অন্তত ছয়টি ভোটকেন্দ্রে এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় রাতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার জানিয়েছেন, চরাঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে এবং ব্যালট বাক্স পরিবহনে স্পিডবোটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে গুজব রোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে মঙ্গা ও নদীভাঙনে জর্জরিত এই জনপদের মানুষ এবার শুধু খাদ্য নিরাপত্তা নয়, ভোটের নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। ভোটারদের আশা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট কুড়িগ্রামসহ দেশের রাষ্ট্র সংস্কারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।