
আখতার হোসেন হিরন প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া-সলঙ্গা অঞ্চলে সরিষা ফুলের মধু আহরণ মৌসুম শুরু হওয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষীরা। উধুনিয়া, বড়পাঙ্গাসী, বাঙালা, হাটিকুমরুল, সলঙ্গা ও রামকৃষ্ণপুরসহ বিস্তীর্ণ সরিষার মাঠে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
সরিষার মাঠের পাশে সারি সারি কাঠের বাক্সে স্থাপন করা মৌচাক থেকে সকাল ও বিকাল নিয়মিত মধু সংগ্রহ করছেন খামারিরা। তাদের মতে, সরিষা ফুলের মধু স্বাদে ও গুণমানে উৎকৃষ্ট হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও তুলনামূলক বেশি।
সলঙ্গার বওলাতলা গ্রামের উল্লাপাড়া ইসলামিয়া মৌ খামারের প্রতিষ্ঠাতা মৌচাষী আশিক আহমেদ জানান, চলতি মৌসুমে মধুর চাহিদা সন্তোষজনক। উৎপাদন খরচ বাদ দিলে এবার ভালো লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, কৃষি অধিদপ্তর ও কৃষকদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর মধু নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে দেশের পরাগায়ন খাত আরও শক্তিশালী হবে, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সলঙ্গা ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোহেল আরমান বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ মৌসুমে সরিষা ফুলের মধুর ভালো ফলনের আশা করা যাচ্ছে। প্রতি মৌচাক থেকেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মধু সংগ্রহ হচ্ছে, যা স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি বলেন, সরিষা ফুল ও মৌচাষ পরস্পরের পরিপূরক। মৌমাছির পরাগায়নের ফলে সরিষার ফলন বৃদ্ধি পায়, আবার একই সঙ্গে মধু উৎপাদনও বাড়ে। এতে কৃষক ও মৌচাষী উভয়েই লাভবান হন।
তিনি আরও জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর মধু উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে দুইশ টনের বেশি মধু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ছয় কোটি টাকার বেশি হতে পারে। এ উৎপাদন কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সহায়ক হবে।
Reporter Name 

















