Dhaka ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
তাড়াশে একই রাতে দুই গ্রাম থেকে ৬ গরু চুরি ৮ দফা বাস্তবায়নে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করতে সিরাজগঞ্জে প্রেস ব্রিফিং রায়গঞ্জে গোয়ালঘর থেকে এক রাতে ৬ গরু চুরি তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮ গরু চুরি রায়গঞ্জে সিএনজি রাখার নামে ১০ টাকা চাঁদা, গ্রেপ্তার ১ ত্যাগীদের মূল্যায়নে সলঙ্গার ঘুড়কা ইউনিয়ন শ্রমিক দল গড়ছেন সভাপতি আবু সাইদ এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে রায়গঞ্জে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ঈশ্বরগঞ্জের এমপি মাজেদ ডেঙ্গু আক্রান্ত,সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া রায়গঞ্জে ইভটিজিং প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম  সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ যুবলীগের ঝটিকা মিছিল
বিজ্ঞপ্তি:
সারাদেশে সকল জেলা ও উপজেলায় সংবাদ কর্মী নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন ই মেইল: pddinkal@gmail.com

সংস্কার চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলা জরুরি: উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৩:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৭৭ Time View

রিয়াজুল হক সাগর রংপুর প্রতিনিধি:

দেশে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নে আসন্ন গণভোটে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালন এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, “যদি সত্যিই সংস্কার চান, তাহলে গণভোটে উত্তর হতে হবে ‘হ্যাঁ’।”

তিনি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ওই দিনের দ্বিতীয় ভোটটি হবে গণভোটের জন্য, যা দেশের ক্ষমতার ভার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার ধারা শাসকগোষ্ঠীর কাছ থেকে জনগণের দিকে মোড় নেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে নীলফামারী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গণভোট প্রচার, ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে উপদেষ্টার নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে গণভোট প্রচারের লক্ষ্যে একটি বিশাল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি নীলফামারী শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এসে শেষ হয়।

ড. রিজওয়ানা হাসান বলেন, দেশের মালিকানা জনগণের হাতে তুলে দেওয়াই গণভোটের মূল উদ্দেশ্য। আসন্ন গণভোট জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং টেকসই পরিবর্তন নিশ্চিত করতে সচেতন নাগরিকদের ‘হ্যাঁ’ সূচক ভোট দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছানুযায়ী। এবার জনগণের সামনে সুযোগ এসেছে নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রের মালিকানা বুঝে নেওয়ার। শুধু অবকাঠামো নির্মাণই উন্নয়ন নয়; মানুষের শান্তিপূর্ণ জীবন, মত প্রকাশের স্বাধীনতাই প্রকৃত উন্নয়ন।

উপদেষ্টা জানান, গণভোটে মোট ১১টি প্রশ্ন থাকবে, যেখানে জনগণের চাওয়া ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। নিরপেক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রণীত সংস্কার প্রস্তাবগুলো নাগরিক অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে। তাই সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে রায় দেওয়া সবার দায়িত্ব।

দেশে আবার কোনো একচ্ছত্র ক্ষমতার উত্থান ঠেকাতে হলে জনগণকে গণভোটে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে বলেও তিনি আহ্বান জানান। নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকারের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আবু জাফর।

অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম, নীলফামারী সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর মাহমুদ শরীফ, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. লুৎফুল কবির সরকার এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক আলিফ সিদ্দিক প্রান্তর। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ।

বক্তারা বলেন, দেশের শাসনব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে গণভোটে অংশ নেওয়ার বিকল্প নেই। দীর্ঘদিন ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার সুযোগ আর দেওয়া যাবে না। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য এখনই সচেতন হওয়ার সময়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

তাড়াশে একই রাতে দুই গ্রাম থেকে ৬ গরু চুরি

সংস্কার চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলা জরুরি: উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান

Update Time : ০১:৩৩:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

রিয়াজুল হক সাগর রংপুর প্রতিনিধি:

দেশে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নে আসন্ন গণভোটে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালন এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, “যদি সত্যিই সংস্কার চান, তাহলে গণভোটে উত্তর হতে হবে ‘হ্যাঁ’।”

তিনি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ওই দিনের দ্বিতীয় ভোটটি হবে গণভোটের জন্য, যা দেশের ক্ষমতার ভার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার ধারা শাসকগোষ্ঠীর কাছ থেকে জনগণের দিকে মোড় নেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে নীলফামারী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গণভোট প্রচার, ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে উপদেষ্টার নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে গণভোট প্রচারের লক্ষ্যে একটি বিশাল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি নীলফামারী শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এসে শেষ হয়।

ড. রিজওয়ানা হাসান বলেন, দেশের মালিকানা জনগণের হাতে তুলে দেওয়াই গণভোটের মূল উদ্দেশ্য। আসন্ন গণভোট জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং টেকসই পরিবর্তন নিশ্চিত করতে সচেতন নাগরিকদের ‘হ্যাঁ’ সূচক ভোট দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছানুযায়ী। এবার জনগণের সামনে সুযোগ এসেছে নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রের মালিকানা বুঝে নেওয়ার। শুধু অবকাঠামো নির্মাণই উন্নয়ন নয়; মানুষের শান্তিপূর্ণ জীবন, মত প্রকাশের স্বাধীনতাই প্রকৃত উন্নয়ন।

উপদেষ্টা জানান, গণভোটে মোট ১১টি প্রশ্ন থাকবে, যেখানে জনগণের চাওয়া ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। নিরপেক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রণীত সংস্কার প্রস্তাবগুলো নাগরিক অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে। তাই সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে রায় দেওয়া সবার দায়িত্ব।

দেশে আবার কোনো একচ্ছত্র ক্ষমতার উত্থান ঠেকাতে হলে জনগণকে গণভোটে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে বলেও তিনি আহ্বান জানান। নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকারের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আবু জাফর।

অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম, নীলফামারী সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর মাহমুদ শরীফ, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. লুৎফুল কবির সরকার এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক আলিফ সিদ্দিক প্রান্তর। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ।

বক্তারা বলেন, দেশের শাসনব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে গণভোটে অংশ নেওয়ার বিকল্প নেই। দীর্ঘদিন ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার সুযোগ আর দেওয়া যাবে না। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য এখনই সচেতন হওয়ার সময়।