Dhaka ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
তাড়াশে একই রাতে দুই গ্রাম থেকে ৬ গরু চুরি ৮ দফা বাস্তবায়নে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করতে সিরাজগঞ্জে প্রেস ব্রিফিং রায়গঞ্জে গোয়ালঘর থেকে এক রাতে ৬ গরু চুরি তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮ গরু চুরি রায়গঞ্জে সিএনজি রাখার নামে ১০ টাকা চাঁদা, গ্রেপ্তার ১ ত্যাগীদের মূল্যায়নে সলঙ্গার ঘুড়কা ইউনিয়ন শ্রমিক দল গড়ছেন সভাপতি আবু সাইদ এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে রায়গঞ্জে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ঈশ্বরগঞ্জের এমপি মাজেদ ডেঙ্গু আক্রান্ত,সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া রায়গঞ্জে ইভটিজিং প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম  সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ যুবলীগের ঝটিকা মিছিল
বিজ্ঞপ্তি:
সারাদেশে সকল জেলা ও উপজেলায় সংবাদ কর্মী নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন ই মেইল: pddinkal@gmail.com

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় কাজ সম্ভব হচ্ছে না

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪৮৬ Time View

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও চীন সরকার উভয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রকল্পে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় এর কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই জানুয়ারি মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে না। কিন্তু এ নিয়ে হতাশা ছড়ানো যাবে না।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুর কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর তালুক শাহবাজপুরে চীনা রাষ্ট্রদূতসহ তিস্তা ভাঙ্গন প্রবণ এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোও আসন্ন নির্বাচনে তাদের ইশতেহারে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তাই তাড়াহুরো করে ২৬ জানুয়ারীর মধ্যে কাজটি শুরু হবে তা নয়, আমরা একটু সময় দেই যেন কাজটি আরও ভালোভাবে হয়।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমাদের পাঠানো প্রকল্পটি পেয়ে চীনের বিশেষজ্ঞরা যাচাই-বাচাই করেছে। এ প্রকল্প নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা বেশি। তাই চীনা রাষ্ট্রদূত বলেছেন এ প্রকল্পটি তারা খুব ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করছে। যেন কোন ভুল ছাড়াই তারা কাজটি সম্পূর্ণ করতে পারে। চীন যতদ্রুত সম্ভব তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে চায়।

পানি সম্পদ উপদেষ্টা বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ভাঙ্গন রোধ ও সেচ কার্যক্রম প্রকল্পে অন্তর্ভূক্ত থাকায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা তুলনামূলক জটিল প্রকল্প। তাই বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষন করা হচ্ছে। চীন বাংলাদেশের সর্ম্পক বন্ধুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল কথা হচ্ছে বন্ধুত্ব। চীন যেহেতু প্রতিবেশী দেশ, তাই তাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। চীনের সাথে বাংলাদেশের নদীরও সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া চীন একটি বড় হাসপাতাল করার জন্য এগিয়ে এসেছে। এজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

তিনি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার ভবিষ্যত খুবই উজ্জ্বল। কারণ এ কাজ অন্তর্বর্তী সরকার ফেলে রাখেনি। রাজনৈতিক দলগুলোও এই প্রকল্প বাস্তবায়নে অঙ্গীকার করেছে। তাই হতাশা ছড়ানো যাবে না। একটি সমীক্ষা হয়ে চুক্তি হলে আমরা যে টাকা দিবো পরবর্তীতে আরও বেশি টাকা প্রয়োজন হলে তা পরিবর্তন করা অনেক কষ্টকর। এজন্য এমন একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাই যেন উভয় দেশের জন্য এটা সহনশীল হয় ও জনগণের জন্য ভাল হয়।

তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় একটি চলমান প্রক্রিয়া। এছাড়া এটি একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু। তাই আমরা মনেকরি নির্বাচিত সরকার এসে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কাজ করবে। নির্বাচিত সরকার এসে যেন তাদের অপেক্ষা করতে না হয়, সেই প্রস্তুতিটা আমরা গঙ্গা ও তিস্তার ক্ষেত্রে করে দিয়েছি।

এ সময় চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, রিভারাইন পিপলের পরিচালক অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী, সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমানসহ অন্যরা।উপস্থিত ছিলেন।

এরআগে, সকালে তারা কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা সড়ক ও রেলসেতু এলাকা পরির্দশন করেন। এ সময় রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম উত্তরের ৫ জেলা বেষ্টিত তিস্তা নদীর গতি-প্রকৃতি ও সংকট তুলে ধরেন। পরে উপদেষ্টা তিস্তা রেলসেতু এলাকা থেকে নৌকায় করে তিস্তা নদী ঘুরে দেখেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

তাড়াশে একই রাতে দুই গ্রাম থেকে ৬ গরু চুরি

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় কাজ সম্ভব হচ্ছে না

Update Time : ০৩:৪৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও চীন সরকার উভয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রকল্পে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় এর কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই জানুয়ারি মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে না। কিন্তু এ নিয়ে হতাশা ছড়ানো যাবে না।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুর কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর তালুক শাহবাজপুরে চীনা রাষ্ট্রদূতসহ তিস্তা ভাঙ্গন প্রবণ এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোও আসন্ন নির্বাচনে তাদের ইশতেহারে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তাই তাড়াহুরো করে ২৬ জানুয়ারীর মধ্যে কাজটি শুরু হবে তা নয়, আমরা একটু সময় দেই যেন কাজটি আরও ভালোভাবে হয়।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমাদের পাঠানো প্রকল্পটি পেয়ে চীনের বিশেষজ্ঞরা যাচাই-বাচাই করেছে। এ প্রকল্প নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা বেশি। তাই চীনা রাষ্ট্রদূত বলেছেন এ প্রকল্পটি তারা খুব ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করছে। যেন কোন ভুল ছাড়াই তারা কাজটি সম্পূর্ণ করতে পারে। চীন যতদ্রুত সম্ভব তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে চায়।

পানি সম্পদ উপদেষ্টা বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ভাঙ্গন রোধ ও সেচ কার্যক্রম প্রকল্পে অন্তর্ভূক্ত থাকায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা তুলনামূলক জটিল প্রকল্প। তাই বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষন করা হচ্ছে। চীন বাংলাদেশের সর্ম্পক বন্ধুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল কথা হচ্ছে বন্ধুত্ব। চীন যেহেতু প্রতিবেশী দেশ, তাই তাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। চীনের সাথে বাংলাদেশের নদীরও সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া চীন একটি বড় হাসপাতাল করার জন্য এগিয়ে এসেছে। এজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

তিনি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার ভবিষ্যত খুবই উজ্জ্বল। কারণ এ কাজ অন্তর্বর্তী সরকার ফেলে রাখেনি। রাজনৈতিক দলগুলোও এই প্রকল্প বাস্তবায়নে অঙ্গীকার করেছে। তাই হতাশা ছড়ানো যাবে না। একটি সমীক্ষা হয়ে চুক্তি হলে আমরা যে টাকা দিবো পরবর্তীতে আরও বেশি টাকা প্রয়োজন হলে তা পরিবর্তন করা অনেক কষ্টকর। এজন্য এমন একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাই যেন উভয় দেশের জন্য এটা সহনশীল হয় ও জনগণের জন্য ভাল হয়।

তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় একটি চলমান প্রক্রিয়া। এছাড়া এটি একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু। তাই আমরা মনেকরি নির্বাচিত সরকার এসে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কাজ করবে। নির্বাচিত সরকার এসে যেন তাদের অপেক্ষা করতে না হয়, সেই প্রস্তুতিটা আমরা গঙ্গা ও তিস্তার ক্ষেত্রে করে দিয়েছি।

এ সময় চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, রিভারাইন পিপলের পরিচালক অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী, সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমানসহ অন্যরা।উপস্থিত ছিলেন।

এরআগে, সকালে তারা কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা সড়ক ও রেলসেতু এলাকা পরির্দশন করেন। এ সময় রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম উত্তরের ৫ জেলা বেষ্টিত তিস্তা নদীর গতি-প্রকৃতি ও সংকট তুলে ধরেন। পরে উপদেষ্টা তিস্তা রেলসেতু এলাকা থেকে নৌকায় করে তিস্তা নদী ঘুরে দেখেন।