
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংঘটিত হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিন মাস পার হলেও বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১২ নভেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালাল চক্র, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করতে গেলে এনসিপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন এনসিপি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী ও ময়মনসিংহ জেলা সংগঠক মোজাম্মেল হক (৩১)। হামলায় তার বাম হাত ভেঙে যায় এবং বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসাইন বাদী হয়ে মোজাম্মেল হককে প্রধান আসামি করে তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি পরে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু হয়। অন্যদিকে, চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে হাসপাতালের সিকিউরিটি গার্ড শাকিল (৩৮)-কে প্রধান আসামি করে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। দুটি মামলাই দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা হয়েছে।
এনসিপি নেতা মোজাম্মেল হক অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাধারণ রোগীরা সেখানে যথাযথ চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। দালালের মাধ্যমে রোগীদের নামসর্বস্ব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো, সরকারি ওষুধ বাইরে বিক্রি এবং বিভিন্ন পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাকে মারধর করা হয় এবং হাত ভেঙে দেওয়া হয়। অপারেশন করে রড বসানো হয়েছে, এখনো প্লাস্টার খোলা হয়নি। ভুক্তভোগী হওয়া সত্ত্বেও তাকে প্রধান আসামি করে মামলা দেওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসাইনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। আরএমও সুমাইয়া হোসেন লিয়াও কল রিসিভ করেননি।
তবে হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দায়ের করা মামলায় হাসপাতালের গেট, দরজা ও জানালা ভাঙচুর করে প্রায় অর্ধলাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি, বলপ্রয়োগ, সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং রোগীদের চিকিৎসা সেবায় বিঘ্ন সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে। এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল আজম বলেন, ঘটনার প্রেক্ষিতে দুই পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে দুটি নিয়মিত মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Reporter Name 
















