Dhaka ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সিরাজগঞ্জে কাশবন থেকে রিভলবার ও ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার তাড়াশে একই রাতে দুই গ্রাম থেকে ৬ গরু চুরি ৮ দফা বাস্তবায়নে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করতে সিরাজগঞ্জে প্রেস ব্রিফিং রায়গঞ্জে গোয়ালঘর থেকে এক রাতে ৬ গরু চুরি তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮ গরু চুরি রায়গঞ্জে সিএনজি রাখার নামে ১০ টাকা চাঁদা, গ্রেপ্তার ১ ত্যাগীদের মূল্যায়নে সলঙ্গার ঘুড়কা ইউনিয়ন শ্রমিক দল গড়ছেন সভাপতি আবু সাইদ এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে রায়গঞ্জে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ঈশ্বরগঞ্জের এমপি মাজেদ ডেঙ্গু আক্রান্ত,সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া রায়গঞ্জে ইভটিজিং প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম 
বিজ্ঞপ্তি:
সারাদেশে সকল জেলা ও উপজেলায় সংবাদ কর্মী নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন ই মেইল: pddinkal@gmail.com

ফেলানী হত্যার ১৫ বছর: আজও বিচার পায়নি পরিবার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০১:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৮২ Time View

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রাম সীমান্তে কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যার ১৫ বছর পূর্ণ হলেও আজও বিচারের অপেক্ষায় তার পরিবার। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বাবার সঙ্গে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় বিএসএফের গুলিতে নিহত হন ফেলানী।

নিহত ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম নুরু কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনীটারি গ্রামের বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে প্রায় ১২ বছর আগে স্ত্রী জাহানারা ও দেড় বছরের মেয়ে ফেলানীকে নিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যান তিনি। ভারতের বঙ্গাইগাঁও এলাকায় বসবাস করে ইটভাটায় কাজ করতেন নুরু।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ফেলানী কিশোরী বয়সে পৌঁছায়। বাংলাদেশে মেয়ের বিয়ে ঠিক হলে ২০১১ সালের ৬ জানুয়ারি তাকে দেশে ফেরানোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন বাবা-মা। বিয়ের জন্য মেয়েকে সাজিয়ে সীমান্তে পৌঁছান তারা। দালালের সহায়তায় কাঁটাতার পার হওয়ার চেষ্টা করলে ৭ জানুয়ারি ভোরে গুলিতে প্রাণ হারায় ফেলানী। তার মরদেহ প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে ছিল।

ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করলে ২০১৩ সালে ভারতের কোচবিহারে বিএসএফের বিশেষ আদালতে বিচার শুরু হয়। তবে দুই দফা বিচারেই অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ খালাস পান। পরে ফেলানীর বাবার পক্ষে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে শুনানি ঝুলে আছে।

ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, “১৫ বছর হয়ে গেলেও আমি এখনো বিচার পাইনি। চোখের সামনে আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। জীবিত অবস্থায় আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই। ফেলানীর ছোট ভাই আক্কাছ আলী বলেন, “আমার বোনের হত্যার বিচার চাই এটাই আমাদের পরিবারের একমাত্র দাবি।”

প্রতিবেশী শরীফ মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিনেও বিচার না হওয়া দুঃখজনক। সীমান্ত হত্যা বন্ধে ফেলানী হত্যার বিচার জরুরি। এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, ফেলানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কোনো কর্মসূচির নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। নির্দেশনা এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সিরাজগঞ্জে কাশবন থেকে রিভলবার ও ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

ফেলানী হত্যার ১৫ বছর: আজও বিচার পায়নি পরিবার

Update Time : ০৩:০১:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রাম সীমান্তে কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যার ১৫ বছর পূর্ণ হলেও আজও বিচারের অপেক্ষায় তার পরিবার। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বাবার সঙ্গে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় বিএসএফের গুলিতে নিহত হন ফেলানী।

নিহত ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম নুরু কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনীটারি গ্রামের বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে প্রায় ১২ বছর আগে স্ত্রী জাহানারা ও দেড় বছরের মেয়ে ফেলানীকে নিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যান তিনি। ভারতের বঙ্গাইগাঁও এলাকায় বসবাস করে ইটভাটায় কাজ করতেন নুরু।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ফেলানী কিশোরী বয়সে পৌঁছায়। বাংলাদেশে মেয়ের বিয়ে ঠিক হলে ২০১১ সালের ৬ জানুয়ারি তাকে দেশে ফেরানোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন বাবা-মা। বিয়ের জন্য মেয়েকে সাজিয়ে সীমান্তে পৌঁছান তারা। দালালের সহায়তায় কাঁটাতার পার হওয়ার চেষ্টা করলে ৭ জানুয়ারি ভোরে গুলিতে প্রাণ হারায় ফেলানী। তার মরদেহ প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে ছিল।

ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করলে ২০১৩ সালে ভারতের কোচবিহারে বিএসএফের বিশেষ আদালতে বিচার শুরু হয়। তবে দুই দফা বিচারেই অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ খালাস পান। পরে ফেলানীর বাবার পক্ষে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে শুনানি ঝুলে আছে।

ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, “১৫ বছর হয়ে গেলেও আমি এখনো বিচার পাইনি। চোখের সামনে আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। জীবিত অবস্থায় আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই। ফেলানীর ছোট ভাই আক্কাছ আলী বলেন, “আমার বোনের হত্যার বিচার চাই এটাই আমাদের পরিবারের একমাত্র দাবি।”

প্রতিবেশী শরীফ মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিনেও বিচার না হওয়া দুঃখজনক। সীমান্ত হত্যা বন্ধে ফেলানী হত্যার বিচার জরুরি। এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, ফেলানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কোনো কর্মসূচির নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। নির্দেশনা এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে