
রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রাম সীমান্তে কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যার ১৫ বছর পূর্ণ হলেও আজও বিচারের অপেক্ষায় তার পরিবার। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বাবার সঙ্গে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় বিএসএফের গুলিতে নিহত হন ফেলানী।
নিহত ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম নুরু কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনীটারি গ্রামের বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে প্রায় ১২ বছর আগে স্ত্রী জাহানারা ও দেড় বছরের মেয়ে ফেলানীকে নিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যান তিনি। ভারতের বঙ্গাইগাঁও এলাকায় বসবাস করে ইটভাটায় কাজ করতেন নুরু।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ফেলানী কিশোরী বয়সে পৌঁছায়। বাংলাদেশে মেয়ের বিয়ে ঠিক হলে ২০১১ সালের ৬ জানুয়ারি তাকে দেশে ফেরানোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন বাবা-মা। বিয়ের জন্য মেয়েকে সাজিয়ে সীমান্তে পৌঁছান তারা। দালালের সহায়তায় কাঁটাতার পার হওয়ার চেষ্টা করলে ৭ জানুয়ারি ভোরে গুলিতে প্রাণ হারায় ফেলানী। তার মরদেহ প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে ছিল।
ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করলে ২০১৩ সালে ভারতের কোচবিহারে বিএসএফের বিশেষ আদালতে বিচার শুরু হয়। তবে দুই দফা বিচারেই অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ খালাস পান। পরে ফেলানীর বাবার পক্ষে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে শুনানি ঝুলে আছে।
ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, “১৫ বছর হয়ে গেলেও আমি এখনো বিচার পাইনি। চোখের সামনে আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। জীবিত অবস্থায় আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই। ফেলানীর ছোট ভাই আক্কাছ আলী বলেন, “আমার বোনের হত্যার বিচার চাই এটাই আমাদের পরিবারের একমাত্র দাবি।”
প্রতিবেশী শরীফ মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিনেও বিচার না হওয়া দুঃখজনক। সীমান্ত হত্যা বন্ধে ফেলানী হত্যার বিচার জরুরি। এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, ফেলানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কোনো কর্মসূচির নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। নির্দেশনা এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Reporter Name 

















