
রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর অফিস :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার হলফনামায় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে মোট চার কোটি ছয় লাখ ৫৪ হাজার ৭১৫ টাকা ৭৩ পয়সার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন। একই সঙ্গে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১১ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৩ টাকা। তবে হলফনামায় একটি প্রাইভেটকার ও ৩০ ভরি স্বর্ণালংকারের আর্থিক মূল্য উল্লেখ করা হয়নি।
হলফনামার আইনি তথ্য অংশে মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেছেন, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মোট ৫০টি মামলা হয়েছিল। এসব মামলার অধিকাংশই আদালতের আদেশে স্থগিত, প্রত্যাহার কিংবা চূড়ান্ত প্রতিবেদন (এফআরটি) গ্রহণের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে এসব মামলার কোনোটিই তার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত বাধা নয় বলেও হলফনামায় ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন অফিসে দাখিল করা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়, মির্জা ফখরুলের নামে মোট পাঁচ একর কৃষিজমি রয়েছে, যার অর্জনকালীন মূল্য ৬০ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৭০ শতাংশ ও ২ দশমিক ১৪ একর জমি, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৫১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এছাড়া পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত দোতলা বাড়ির একটি অংশের মূল্য ধরা হয়েছে ১০ লাখ টাকা।
স্বামী-স্ত্রীর নামে ঠাকুরগাঁওয়ে ১২ শতাংশ অকৃষিজমি রয়েছে, যার মূল্য ৩৯ লাখ ৭২ হাজার টাকা। ঢাকার পূর্বাচলে তার নিজ মালিকানায় পাঁচ কাঠা জমির আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে ৮৫ লাখ ৪ হাজার টাকা।
ভবন ও আবাসিক সম্পদের বিবরণে ঢাকায় অবস্থিত ১ হাজার ৯৫০ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পাশাপাশি চার শতাংশ জমির মূল্য দেখানো হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, মির্জা ফখরুলের নামে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে একাধিক হিসাব রয়েছে। এর মধ্যে উত্তরা ব্যাংকের ঠাকুরগাঁও শাখায় পাঁচ হাজার দুই টাকা, পূবালী ব্যাংকের ঠাকুরগাঁও শাখায় এক লাখ নয় হাজার ৮০৪ টাকা ৫০ পয়সা এবং অগ্রণী ব্যাংকের ঢাকা শাখায় দুই লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৭ টাকা ৪৭ পয়সা জমা রয়েছে।
এছাড়া পূবালী ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখায় মির্জা ফখরুল ও তার স্ত্রীর যৌথ হিসাবে রয়েছে দুই লাখ ২৪ হাজার ১৩২ টাকা। এক্সিম ব্যাংকের গুলশান শাখায় রয়েছে নয় লাখ ৪৬ হাজার ৪৬৭ টাকা এবং সিটি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবে রয়েছে তিন হাজার ৪৮৫ টাকা। ব্যাংক হিসাবে মোট অর্থের পরিমাণ ১১ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৩ টাকা।
হলফনামায় হাতে থাকা নগদ অর্থ হিসেবে মির্জা ফখরুলের নামে এক কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ১১৬ টাকা ৭৭ পয়সা এবং তার স্ত্রীর নামে এক লাখ ৬৫ হাজার ৯৩০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিনিয়োগ ও সঞ্চয় অংশে ‘দি মির্জাস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর এক হাজার ৪২৮টি শেয়ারের মালিকানা দেখানো হয়েছে, যার মূল্য এক লাখ ৪২ হাজার ৮০০ টাকা। পাশাপাশি তার স্ত্রীর নামে বিভিন্ন সঞ্চয়পত্র ও মেয়াদি আমানতে জমা রয়েছে ৪৫ লাখ ১১ হাজার ৭৫০ টাকা।
অস্থাবর সম্পদের তালিকায় দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি, ১০ ভরি স্বর্ণালংকার, টেলিভিশন, ফ্রিজ ও কম্পিউটারের মতো ইলেকট্রনিক সামগ্রী যার মূল্য দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
বার্ষিক আয়ের বিবরণে কৃষিখাত থেকে এক লাখ ৮০০ টাকা, ব্যবসা খাত থেকে (হুরমত আলী মার্কেটের শেয়ার বাবদ) এক লাখ ৯৭ হাজার ২৩২ টাকা, ইজাব গ্রুপের পরামর্শক হিসেবে সম্মানী ছয় লাখ টাকা, দি মির্জাস প্রাইভেট লিমিটেড থেকে সম্মানী বাবদ এক লাখ ৯৮ হাজার টাকা এবং অন্যান্য উৎস ও ব্যাংক মুনাফা থেকে সাত হাজার ৯০১ টাকা আয় দেখানো হয়েছে। সব মিলিয়ে তার মোট বার্ষিক আয় ১১ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৩ টাকা।ল
Reporter Name 

















