Dhaka ১২:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
৮ দফা বাস্তবায়নে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করতে সিরাজগঞ্জে প্রেস ব্রিফিং রায়গঞ্জে গোয়ালঘর থেকে এক রাতে ৬ গরু চুরি তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮ গরু চুরি রায়গঞ্জে সিএনজি রাখার নামে ১০ টাকা চাঁদা, গ্রেপ্তার ১ ত্যাগীদের মূল্যায়নে সলঙ্গার ঘুড়কা ইউনিয়ন শ্রমিক দল গড়ছেন সভাপতি আবু সাইদ এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে রায়গঞ্জে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ঈশ্বরগঞ্জের এমপি মাজেদ ডেঙ্গু আক্রান্ত,সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া রায়গঞ্জে ইভটিজিং প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম  সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ যুবলীগের ঝটিকা মিছিল সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতে জ্বালানিমন্ত্রীর বাড়ির গ্যাস রাইজারে আগুন
বিজ্ঞপ্তি:
সারাদেশে সকল জেলা ও উপজেলায় সংবাদ কর্মী নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন ই মেইল: pddinkal@gmail.com

সেতুতে গর্ত,ভাঙা রেলিং ঝুঁকি নিয়ে চলাচল :অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা অনিবার্য

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:১৫:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৪
  • ৪২২ Time View

সাজ্জাদ হোসেন, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

এলাকাবাসীর মতে ওটা সেতু নয়, মরণফাঁদ! দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না-হওয়ার ফলে জরাজীর্ণ সেতুর মাঝে পাটাতন ভেঙে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা অনিবার্য। দু’পাশের রেলিং ভেঙে পড়ায় প্রতি মুহূর্তে বিপদের হাতছানি। এমনই ভয়াবহ অবস্থা দেখা গেছে ফরিদপুরের সালথায় কাগদী বাজারের প্রবেশ মুখে খালের উপর নির্মিত সেতুটির।

সেতুর ভেঙে যাওয়া অংশে মাত্র এক টুকরো কাঠের মাচল বিছিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন অন্তত ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষ। প্রায় একযুগ ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকলেও যেন দেখার কেউ নেই। যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এমন অবস্থায় সেতুটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মধ্যে সব চেয়ে বড় হাট কাগদী বাজার। প্রতি সপ্তাহে দুই দিন এখানে হাট বসে। হাটের দিন আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষের মিলন-মেলা ঘটে এই বাজারে। বাজারের পাশেই রয়েছে কাগদী উচ্চ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বড় বাজারের প্রবেশ মুখে খালের ওপর অন্তত ৫০ বছর আগে ৬০ ফিট দৈর্ঘ্য ও ৭ ফিট প্রস্থের এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। যদিও সেতুটি ছোট হওয়ায় নির্মাণের পর থেকে সেতুটির ওপর দিয়ে বড় যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। তবে ভ্যান ও অটোরিকশা চলাচল করত।

কাগদী বাজারের ব্যবসায়ী নাজমুল মাতুব্বর বলেন, ‘সেতুটি প্রায় একযুগ ধরে ভেঙে দেবে রয়েছে। এমন অবস্থায় বাড়ি থেকে বাজারে ভ্যানযোগে চলাচল থাক দূরের কথা পায়ে হেটে চলতেও ভয় লাগে।

তারপরেও বাধ্য হয়ে সেতুর পাটাতনের ভেঙে যাওয়া অংশে কাঠের মাচল বিছিয়ে ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হচ্ছে মানুষ। সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সব চেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থী ও কৃষকরা। শিক্ষার্থীরা সেতুটি পার হওয়ার সময় কাঁপতে থাকে। আর কৃষকরা যানবাহনে করে কৃষিপণ্য নিয়ে বাজারে প্রবেশ করতে পারে না। কৃষকরা তাদের কৃষিপণ্য মাথা করে এনে বাজারজাত করেন।’

সুমন ইসলাম নামে স্থানীয় এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘একদম ছোট বেলা থেকে সেতুটি এমনভাবে পড়ে থাকতে দেখছি। আমরা নিয়মিতই আতঙ্ক-ভয় নিয়ে সেতুটি পার হই। বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীরা তো একা এই সেতু পারই হয় না। অভিভাবকরা তাদের কোলে করে স্কুলে দিয়ে-নিয়ে আসে। এমন অবস্থায় ওই খালের ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি অপসারণ করে নতুন একটি বড় ব্রিজ নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি। যদি একটি বড় ব্রিজ ওখানে নির্মিত হয়, তাহলে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।’

সালথা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিয়া বলেন, ‘সেতুটির মেয়াদ অনেক আগেই উত্তীর্ণ হয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা ওখানে নতুন সেতুটি নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছি। প্রস্তাবটি পাস হলে যত দ্রুত সম্ভব, সেতুটি নির্মাণ করা হবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

৮ দফা বাস্তবায়নে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করতে সিরাজগঞ্জে প্রেস ব্রিফিং

সেতুতে গর্ত,ভাঙা রেলিং ঝুঁকি নিয়ে চলাচল :অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা অনিবার্য

Update Time : ১০:১৫:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৪

সাজ্জাদ হোসেন, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

এলাকাবাসীর মতে ওটা সেতু নয়, মরণফাঁদ! দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না-হওয়ার ফলে জরাজীর্ণ সেতুর মাঝে পাটাতন ভেঙে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা অনিবার্য। দু’পাশের রেলিং ভেঙে পড়ায় প্রতি মুহূর্তে বিপদের হাতছানি। এমনই ভয়াবহ অবস্থা দেখা গেছে ফরিদপুরের সালথায় কাগদী বাজারের প্রবেশ মুখে খালের উপর নির্মিত সেতুটির।

সেতুর ভেঙে যাওয়া অংশে মাত্র এক টুকরো কাঠের মাচল বিছিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন অন্তত ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষ। প্রায় একযুগ ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকলেও যেন দেখার কেউ নেই। যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এমন অবস্থায় সেতুটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মধ্যে সব চেয়ে বড় হাট কাগদী বাজার। প্রতি সপ্তাহে দুই দিন এখানে হাট বসে। হাটের দিন আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষের মিলন-মেলা ঘটে এই বাজারে। বাজারের পাশেই রয়েছে কাগদী উচ্চ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বড় বাজারের প্রবেশ মুখে খালের ওপর অন্তত ৫০ বছর আগে ৬০ ফিট দৈর্ঘ্য ও ৭ ফিট প্রস্থের এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। যদিও সেতুটি ছোট হওয়ায় নির্মাণের পর থেকে সেতুটির ওপর দিয়ে বড় যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। তবে ভ্যান ও অটোরিকশা চলাচল করত।

কাগদী বাজারের ব্যবসায়ী নাজমুল মাতুব্বর বলেন, ‘সেতুটি প্রায় একযুগ ধরে ভেঙে দেবে রয়েছে। এমন অবস্থায় বাড়ি থেকে বাজারে ভ্যানযোগে চলাচল থাক দূরের কথা পায়ে হেটে চলতেও ভয় লাগে।

তারপরেও বাধ্য হয়ে সেতুর পাটাতনের ভেঙে যাওয়া অংশে কাঠের মাচল বিছিয়ে ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হচ্ছে মানুষ। সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সব চেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থী ও কৃষকরা। শিক্ষার্থীরা সেতুটি পার হওয়ার সময় কাঁপতে থাকে। আর কৃষকরা যানবাহনে করে কৃষিপণ্য নিয়ে বাজারে প্রবেশ করতে পারে না। কৃষকরা তাদের কৃষিপণ্য মাথা করে এনে বাজারজাত করেন।’

সুমন ইসলাম নামে স্থানীয় এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘একদম ছোট বেলা থেকে সেতুটি এমনভাবে পড়ে থাকতে দেখছি। আমরা নিয়মিতই আতঙ্ক-ভয় নিয়ে সেতুটি পার হই। বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীরা তো একা এই সেতু পারই হয় না। অভিভাবকরা তাদের কোলে করে স্কুলে দিয়ে-নিয়ে আসে। এমন অবস্থায় ওই খালের ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি অপসারণ করে নতুন একটি বড় ব্রিজ নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি। যদি একটি বড় ব্রিজ ওখানে নির্মিত হয়, তাহলে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।’

সালথা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিয়া বলেন, ‘সেতুটির মেয়াদ অনেক আগেই উত্তীর্ণ হয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা ওখানে নতুন সেতুটি নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছি। প্রস্তাবটি পাস হলে যত দ্রুত সম্ভব, সেতুটি নির্মাণ করা হবে।’