
প্রিয় বোনেরা!
আজ তো মানুষের মাঝে লজ্জাশীলতা নেই বললেই চলে। দুনিয়া বিগড়ে গেছে। মনুষ্যত্ব মরে গেছে। নারী স্বত্বা মরে গেছে, নামকাওয়াস্তে কিছু পুরুষ আছে। আছে কিছু নামকাওয়াস্তে মহিলা। মানুষের অন্তর থেকে হায়া, শরম ও লজ্জাশীলতা বিদায় নিয়েছে। সেই রাবেয়া বসরীর জীবনাচার আজ নারী জাতির মধ্য থেকে হারিয়ে গেছে। সেই আদর্শ সেই খোদা ভীরুতা সেই গোলামী আজ নেই । আরও কত নারী রাবেয়া বসরীর মত মাওলা পাকের দরবারে তার ভয়ে তার ভালবাসায় সারা রাত কাঁদত যাদের শেষ রাতের কান্নায় আল্লাহর রহমতের দরিয়ায় জোয়ার উঠত সেই নারীদের লজ্জাশীলতায় আসমানের ফেরেশতাগণ লজ্জা পেতো। কোথায় আজ সেই নারীরা? আজ আমাদের সমাজে কত রকম অশান্তি। মেয়েরা বাইরে যাচ্ছে পর্দা ছাড়া। সন্তান মায়ের কথা শুনছেনা, পিতার নিষেধ মানছেনা। বেহায়া বেহেল্লাপনায় ভরে গেছে। রাস্তায় যানবাহনে, ঘরের ছাদে, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, বাজারে সব জায়গায় আজ অশ্লীলতার ছয়লাভ। এগুলো দেখে দেখে মানুষের চোখ গুলোও আজ নির্লজ্জ হয়ে গেছে। স্ত্রী কোথায় যায় কার সাথে যায় স্বামীর খবর নেই, স্বামী কোথায় যায় কি করে স্ত্রীর খবর নেই । আর ছেলে মেয়েদের তো আজকাল কিছু বলাই যায় না। তারা এ যুগের মেয়ে স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার সাধ্য কার?
আজ মুসলমান ঘরের মেয়েদের পোষাকের অবস্থা দেখলে লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে যায়। অথচ এই মুসলিম নারীদের লজ্জাশীলতায় ফেরেশতাগণও লজ্জা পেতো। সেই উম্মতের মেয়েরা আজ পায়ে নুপুর পরে নামমাত্র পোষাক পরে শতশত পুরুষের সামনে নাচছে। অন্তরে আল্লাহর ভয় নেই । আযাবের ভয় নেই, গজবের ভয় নেই । যদি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ‘রাহমানুররাহীম’ না হতেন, তাহলে এমন পাপি বান্দার পা যেখানে পড়ে, সে মাটিকে পাতাল পর্যন্ত জ্বালিয়ে দিতেন।
বোনেরা!
আজ আল্লাহর ওয়াস্তে নিবেদন, সেই মহান রবের নামে, যিনি আমাদের আশরাফুল মাখলুকাত করে সৃষ্টি করেছেন। সেই আল্লাহর নামে যে আল্লাহ আমাদেরকে মুসলমান বানিয়েছেন। সেই আল্লাহর নামে বলছি, দয়া করে এ পথ থেকে ফিরে আসুন । আল্লাহর নিষেধ মেনে চলুন । আর কতো এভাবে নিজের চোখকে নিষিদ্ধ কাজ অবলোকন করাবেন? আর কতো নিজের কানকে গান বাজনা শ্রবণ করাবেন? নিজের জবানকে আর কতো লাগামাহীন করে রাখবেন? পা দুটিকে আর কতো পাপের মজালিশে নিয়ে যাবেন? আর কতো দিন ভুলটাকে শুদ্ধ ভেবে পাপে লিপ্ত থাকবেন? মিথ্যা আর কতদিন? সুদ ও ঘুষ আর কতো? নাচ গানের মধ্য মনি আর কতো? আরে মৃত্যুতো আসবেই। নাকি আসবেন না? সময় কি খুব বেশি আছে? জীবনের চাকা কি স্থায়ী? আল্লাহর ফেরেশতা কি আমাকে দেখছেনা আজরাইল-কি আমাকে দেখছেনা? সে আমাকে ধরার জন্য প্রস্তুত । আসুন সেই মহান রাব্বুল আলামীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তার শোকুর গুজারী করি ।
যে আল্লাহ আমাদের পরিপূর্ণ মানুষ করে তৈরি করেছেন। যে আল্লাহ আমাদের সুস্থতা দান করেছেন।
যে আল্লাহ আমাদের মুসলমান বানিয়েছেন, কোন বেদ্বীন কাফেরের ঘরে পাঠাননি ।
যে আল্লাহর দয়ায় আমার হাত পাগুলো স্বচল। যদি একটি হাত বা একটি পা না দিতেন কি করার ছিল?
জবানে যদি কথা বলার শক্তি না থাকতো, কি সাধ্য ছিলো আমার কথা বলার? নিজের উপর রহম করুন।
তাই বলছি, এ নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা করতে শিখি। হাত জোড় করে বলছি আল্লাহকে নারাজ করবেন না। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার সব চেয়ে, বড় দুশমন এখানে বসা। তোমার অন্তরে বসে আছে। তোমার সাথে ঘুরছে। আল্লাহর ওয়াস্তে সে দুশমনকে পরাজিত করো। সে হলো শয়তান, তাকে দুশমন মনে করে তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করো ।
তাহলে আল্লাহ পাক রাজি হবেন। তিনি খুশি হবেন। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও খুশি হবেন। ফেরেশতাগণও আপনার জন্য কোরবানি হবেন। আপনাকে সালাম দিবেন। যদি অন্তরকে শয়তানের ধোকা থেকে মুক্ত করতে পারেন।
আল্লাহ বলেন,
يَا ابْنَ أدَمَ خَلَقْتُ الْأَشْيَاءَ لِاَجَلِكَ وَخَلَقْتُكَ لِاَجَلِي .
আল্লাহ তাআলা বলেন, হে বনি আদম, সমস্ত দুনিয়া আমি তোমার জন্য তৈরি করেছি। আর তোমাকে বানিয়েছি নিজের জন্য। তুমি আমার হয়ে দেখাও। যদি কোন মা বাবার সন্তান নাফরমান হয় তাহলে মা বাবা কাঁদে। হায় আজ আমার সন্তান আমার কথা শোনেনা। অবাধ্য হয়ে গেছে। অথচ তাকে কত কষ্ট করে, কত আদর যত্ন করে লালন পালন করেছি।
আর যে আল্লাহ নাপাক পানি থেকে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, সেই আল্লাহর তো তার বান্দার প্রতি মা-বাবার চাইতে বেশি ভালবাসা। অনুগ্রহ থাকার কথা। সন্তান অবাধ্য হলে মা বাবা বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। আল্লাহ কি কোন দিন কোন মানুষকে দুনিয়া থেকে বের করে দিয়েছেন, তার অবাধ্য হওয়ার কারণে? যে, সে আমার অবাধ্য, তার খানা দানা বন্ধ। তার চোখ তুলে ফেলো, সে সিনেমা দেখে। তার কান বন্ধ করে দাও, সে গান শোনে । না আল্লাহ তায়ালা কখনও এমন করেন না ।
মানুষ নিজেকে কত রঙে কতো রকমে সাজিয়ে ভাল ভাল পোষাক পরে আয়নার সামনে দাঁড়ায় ।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে ডানে বামে সামনে পিছে ঘুরিয়ে দেখে। পোষাকটা ঠিক আছে কিনা, জুতার কালার ঠিক আছে কিনা, চুল ঠিকমত আচড়ানো হয়েছে কিনা? সব কিছু শুধু মানুষকে দেখানোর জন্য । মানুষের মন জয় করার জন্য ।
আল্লাহ বলেন, হে বান্দা তুমি আমার হয়ে দেখাও না। যে মানুষকে আমি বানিয়েছি, তাদের জন্য তোমার এত সাজ-সজ্জা, আর আমি সৃষ্টিকর্তার জন্য তোমার সাধনা কতটুকু! এখানে আল্লাহর জন্য হওয়ার উদ্দেশ্য হলো, অন্তরে শুধু আল্লাহর মুহাব্বত রাখা। দেহকে মুহাম্মদ (সা)-এর সুন্নাত মত সাজানো । সবকিছু রাসূলের সুন্নাত মতো হওয়া।
অধিকাংশ নারী জাহান্নামে যাওয়ার কারনঃ
গুনাহগার ইমানদারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে প্রবেশ করবে নারীরা। এর কারন হিসাবে সহিহাইনে এমনটিই বর্ণিত আছে।
সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে এসেছে, আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুল -এর সময়ে একদা সূর্যগ্রহণ হলো। এখন একটি হাদিস উল্লেখ করা হলো। যাতে বর্ণিত হয়েছে।
قَالُوا يَا رَسُول الله رينا تناولت شيئًا فِي مَقَامِل ثُمَّ رَأَيْنَاكَ كَفَكَعْتَ؟ قالَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي رَأَيْتُ الجُنَّةَ، فَتَتَوَلتْ عَاقُودُ، وَلَوْ أَصَبْتَهُ لأَكُنتُمْ مِنْهُ مَا بَقِيَتِ الدُّنْيَا، وَأُرِيتُ النَّارَ، فَلَمْ أَرَ منظرًا كَالِيَوْمٍ فَقَدْ أَفَطَعَ ورأيت أكثر أهْلِهَا النِّسَاءَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: بِكُفْرِهِنَّ قبل يكْفُرْنَ بِاللهِ؟ قَالَ: يَكْفُرْنَ العشير، ويَكْفُرْنَ الإِحْسَانَ، لَوْ أَحْسَنتَ إلى إحْدَاهُنَّ الدهر كله، ثم رأت بنك شَيْئًا، قَالَتْ مَا رَأَيْتُ مِلكَ خَيْرًا
*অতঃপর তাঁরা বলল, “হে আল্লাহর রাসুল, আমরা দেখলাম, আপনি আপনার স্থান থেকে কী যেন ধরছেন, আবার দেখলাম, আপনি যেন পেছনে সরে এলেন।” রাসুল বললেন, “আমি জান্নাত দেখেছিলাম। এবং এক গুচ্ছ আঙুরের প্রতি হাত বাড়িয়েছিলাম। আমি তা পেয়ে গেলে দুনিয়া কায়িম থাকা পর্যন্ত অবশ্যই তোমরা তা খেতে পারতে । অতঃপর আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়। আমি আজকের মতো এতটা বীভৎস দৃশ্য আর কোনোদিন দেখিনি। আর আমি দেখলাম, জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসীই নারী।” তাঁরা বললেন, ” হে আল্লাহর রাসুল, কী কারণে?” তিনি বললেন, “তাদের অস্বীকার করার কারণে।” জিজ্ঞেস করা হলো, “তারা কি আল্লাহকে অস্বীকার করে?” তিনি বললেন, ” বরং তারা স্বামীর (অবদান) অস্বীকার করে, ইহসানের কথা অস্বীকার করে। যদি কোনো নারীর প্রতি তুমি যুগ যুগ ধরে ইহসান করো, অতঃপর কোনোদিন সে তোমার থেকে কোনো মন্দ কিছু লক্ষ করে, তাহলে বলে ফেলে,
“তোমার মাঝে কখনো কোনো ভালো কিছু দেখিনি ।
( সহিহুল বুখারী-১০৫২ এবং মুসলিম-৯০৭)
ইবনে আব্বাস নবিজি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ‘রাসুলুল্লাহ সূর্যগ্রহণের সালাতের খুতবায় বলেছেন :
وَرَأَيْتُ النَّارَ، فَلَمْ أَرَ كَاليَوْمِ مَنْظَرًا فَظُ، وَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا النِّسَاءَ
“ এরপর আমি জাহান্নামের আগুন দেখতে পেলাম। আমি এর পূর্বে কখনো এত ভয়াবহ দৃশ্য দেখিনি এবং আরও দেখতে পেলাম যে, তার অধিকাংশই নারী।
(সহিহুল বুখারী-৫১৯৭ এবং মুসলিম -৯০৭)
সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে আবু সাইদ খুদরি -এর সূত্রে আরও বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ বলেছেন :
يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ فَإِنِّي أُرِيتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ فَقُلْنَ: وَبِمَ يَا
رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: «تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ، وَتَكْفُرْنَ العَشِيرَ،
‘হে নারী জাতি, তোমরা সদাকা করো। কেননা, আমি দেখেছি, তোমরাই সবচেয়ে বেশি জাহান্নামি হবে।’ তারা বলল, ‘হে আল্লাহর রাসুল, তা কেন?’ তিনি বললেন, ‘কারণ, তোমরা বেশি বেশি লানত দাও এবং স্বামীর অনুগ্রহকে অস্বীকার করো।
(সহিহুল বুখারী-৩০৪ এবং মুসলিম -৭৯)
সহিহাইনে উসামা বিন জাইদ থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ বলেছেন :
وَقُمْتُ عَلَى بَابُ النَّارِ فَإِذَا عَامَّةُ مَنْ دَخَلَهَا النِّسَاءُ
‘আমি জাহান্নামের দরজায় দাঁড়ালাম। তখন দেখলাম, জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসীই নারী ।
(সহিহুল বুখারী-৫১৯৬ এবং মুসলিম -২৭৩৬)
সহিহ মুসলিমে ইমরান বিন হুসাইন থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ বলেছেন :
إِنَّ أَقَلَّ سَاكِنِي الْجَنَّةِ النِّسَاءُ
‘নিশ্চয় জান্নাতে সবচেয়ে কম অধিবাসী হবে নারীরা।
(সহিহুল মুসলিম-২৭৩৮)
এই হাদিস প্রত্যেক জান্নাতি ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী হওয়ার পথে অন্তরায় নয় । কেননা, এখানে নারী দ্বারা বনি আদমের নারীদের বোঝানো হয়েছে। আর জান্নাতিদের একাধিক স্ত্রী তো হবে হুরে ইনদের মধ্য হতে ।
নারীরা জান্নাতের সবচেয়ে কম অধিবাসী হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, তারা অসম্পূর্ণ বিবেকের অধিকারী হওয়ার দরুন পরকালের প্রতি পূর্ণ দৃষ্টিপাত না করে দুনিয়ার প্রবৃত্তি ও সাজ-শোভার প্রতি অধিক আকৃষ্ট হয়ে পড়ে । ফলে তারা পরকালের জন্য প্রস্তুতিমূলক আমল করতে পারে না। এ ছাড়াও তারা দুনিয়ার প্রতি অধিক আকৃষ্ট । দুনিয়াকে তারা যতখানি সাজায়, আখিরাত নিয়ে ততখানি চিন্তাও করে না । পুরুষকে পরকাল থেকে বিমুখ করার জন্য দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো নারী। কারণ, তাদের মাঝে বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। সৃষ্টিগতভাবে তাদের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার মতো আকর্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ জন্যই অধিকাংশ নারী নিজেও পরকাল থেকে বিমুখ থাকে এবং অন্যকেও পরকাল থেকে বিমুখ করে রাখে। দ্বীনবিমুখ মানুষগুলো তাদের দেখে দ্রুত ধোঁকা খায়। পরকালের আহ্বানে খুব কমই সাড়া দেয় তারা।
তবুও নারীদের মাঝে অনেক সৎকর্মশীল মহিলা রয়েছেন। যারা আল্লাহর বিধি-নিষেধ মেনে চলেন। শরিয়াহর আহকাম পালন করেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে জীবন পার করেন। তারা সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করবেন। তাদের মাঝে এমন বহু নারী রয়েছেন, যারা ইমান ও নেক আমলের কারণে কল্যাণে পুরুষদের চেয়েও বহু গুণ এগিয়ে থাকবেন ।
হে মুসলিম নারী!
হুশে আসো, আরে এ-অন্তর যেটা আল্লাহর মুহাব্বত থেকে খালী। যে অন্তরে পাপের কারখানা। অন্তর এমন হয়ে গেছে যে গুনাহ করতে ভয়তো লাগেইনা আরও মজা অনুভব হয়, আনন্দ লাগে । এই চোখ এমন নির্লজ্জ হয়ে গেছে, যে তার রূপ যৌবন মানুষের সামনে ফেরী করতেও আনন্দ লাগে । হাটে ঘাটে মাঠে সর্বত্র অশ্লীলতা আর বেহায়াপনার ছড়াছড়ি। এই কান যা গান শুনতে শুনতে অভ্যাস হয়ে গেছে। মুয়াজ্জিনের আযান কানে প্রবেশ করেনা। গুনাহ করতে করতে এমন হয়েছে যে তার সমস্ত শরীর পাপের সাগরে নিমজ্জিত । আল্লাহ আমাদের মাফ করুন।
আমাদের হুশ হয় না। আরে আল্লাহর সামনে তো আমাদের উপস্থিত হতে হবে। একটু ভাবুন, একটু চিন্তা করুন, তখন কেমন হবে, যখন এত গুনাহ নিয়ে তার সামনে দাড়াবেন? পায়ের পাতা থেকে মাথার চুল পর্যন্ত গুনাহে ভরপুর। সমস্ত শরীর আজ পাপে পরিপূর্ণ। এ মুখ কত মিথ্যা বলেছে। এই চোখ কত অশ্লীলতা দেখেছে। এ কান কত মন্দ কথা শুনেছে। এ হাত কত অন্যায় করেছে। এ পা দিয়ে হেটে কত মন্দ স্থানে গমন করেছে। এত পাপ নিয়ে কেমনে আল্লাহর সামনে দাড়াবেন?
প্রিয় বোনেরা! একটু হুশে আসুন। আমাদের পাপ আর তার পরিনাম সম্পর্কে যদি চিন্তা করি, সামান্য সময়ও যদি চিন্তা করি। মদ খোর ও তো একটা সময় হুশে আসে। আজ আমাদেরকে এ কেমন নেশায় পেয়ে বসেছে, যে বিশ পচিশ ত্রিশ চল্লিশ বছর হয়ে গেলো বয়স। এখনো হুশ হলো না। এমন পাহাড় সমান গুনাহ নিয়ে আল্লাহর সামনে কেমনে যাবো? আল্লাহর আমাদের তওবা করার তৌফিক দিন। আমীন
লেখক,
মোঃ মনিরুল ইসলাম
আল হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
Reporter Name 



















