
লুৎফর রহমান,তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় সরকারিভাবে বন্দোবস্ত পাওয়া এক ভূমিহীন পরিবারের ৭২ শতাংশ ফসলি জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তালম ইউনিয়নের তালম মৌজার আরএস ২৩০১ দাগের ১ নম্বর খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ৭২ শতাংশ জমি ১৯৯৪ সালে সরকারি বন্দোবস্তের মাধ্যমে ভূমিহীন দম্পতি মো. নাসির উদ্দিন ও মোছা. ছানোয়ারা খাতুনের নামে স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভূমি অফিস কর্তৃপক্ষ তাদের জমির দখল বুঝিয়ে দিলে তারা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় প্রভাবশালী মিজানুর রহমান ও তার ভাই, তালম ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক মুকুল হোসেন ওই জমির মালিকানা দাবি করেন। একপর্যায়ে তারা জমিতে উৎপাদিত ধান কেটে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এ সময় বাধা দিতে গেলে নাসির উদ্দিন ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গত ৫ মে তাড়াশ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন নাসির উদ্দিন। তবে অভিযোগের সুরাহা না হওয়ায় তিনি পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জ সিভিল জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যেও বিবাদীপক্ষের কাছ থেকে হুমকি পাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন বলেন, সরকারের নিয়ম মেনে আমরা জমির বন্দোবস্ত পেয়েছি এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে আছি। অথচ এখন প্রভাবশালী মহল জমিটি দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমি প্রশাসন ও আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চাই। অভিযোগের বিষয়ে মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতই এর নিষ্পত্তি করবেন। এ বিষয়ে আমার আর কিছু বলার নেই। তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশি বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বিবাদীপক্ষ উপস্থিত হয়নি। যেহেতু বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন, তাই আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা কোনো ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি জানান।
Reporter Name 















