Dhaka ০৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
নিরাপত্তার স্বার্থে ঠাকুর দীঘির কুমির স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত, যাচ্ছে করমজলে পাবনায় পদ্মা নদী থেকে হাত বাঁধা অবস্থায় কিশোরীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার রায়গঞ্জে আলোচিত প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার রায়গঞ্জে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ রায়গঞ্জে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন কাজিপুরে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠিত বেলকুচিতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়: ৪ সিএনজি চালককে জরিমানা পাবনায় বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ক্যাম্প পরিদর্শনে পুলিশ সুপার ইরান ও ইরাকে মার্কিন হস্তক্ষেপ ছিল ভুল সিদ্ধান্ত: ডোনাল্ড ট্রাম্প রায়গঞ্জ ক্লাবের উদ্যোগে এমপি ভিপি আয়নুল হককে সংবর্ধনা
বিজ্ঞপ্তি:
সারাদেশে সকল জেলা ও উপজেলায় সংবাদ কর্মী নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন ই মেইল: pddinkal@gmail.com

এসআর কেমিক্যাল ও মজুমদার প্রোডাক্টসের বিরুদ্ধে নদী দূষণ বন্ধে হাইকোর্টের রুল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২২:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • ৯৭ Time View

আমিনুল ইসলাম হিরো  :

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার রাজাপুর ও ছোনকা গ্রামে অবস্থিত দুইটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের অননুমোদিত ও পরিবেশ দূষণকারী কার্যক্রম বন্ধের রুল জারি করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট। গত ( ৩ মে) রবিবার প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। রুলে এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ এবং মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেড (রাইস ব্রান অয়েল) নামক প্রতিষ্ঠান দুটির দূষণকারী কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান দুটির বিপজ্জনক কার্যক্রম বন্ধ করে ফুলজোড়, করতোয়া ও বাঙ্গালী নদীকে দূষণমুক্ত রাখতে কেন প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়ের করা একটি জনস্বার্থমূলক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দেন।শুনানি গ্রহণ করেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আবদুর রহমান।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠান দুটি নদীতে অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলে আসছে। এর ফলে ফুলজোড়, করতোয়া ও বাঙ্গালী নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে এবং নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।স্থানীয় এলাকাজুড়ে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর মৃত্যু, পানির রং পরিবর্তন এবং দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার মতো অভিযোগও রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে নদীর পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করা হয়।
এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তর একাধিকবার জরিমানা করলেও প্রতিষ্ঠান দুটি দূষণ কার্যক্রম বন্ধ করেনি বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছারা টেকনিক্যাল কমিটির ১১ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করার বিষয়টিও রিটে উল্লেখ করা হয়।মামলায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এস হাসানুল বান্না ও অ্যাডভোকেট রুমানা শারমিন।পরিবেশবিদরা মনে করছেন, এই রুল নদী দূষণ রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতে শিল্প দূষণ নিয়ন্ত্রণে এটি নজির স্থাপন করতে পারে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

নিরাপত্তার স্বার্থে ঠাকুর দীঘির কুমির স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত, যাচ্ছে করমজলে

এসআর কেমিক্যাল ও মজুমদার প্রোডাক্টসের বিরুদ্ধে নদী দূষণ বন্ধে হাইকোর্টের রুল

Update Time : ০২:২২:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

আমিনুল ইসলাম হিরো  :

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার রাজাপুর ও ছোনকা গ্রামে অবস্থিত দুইটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের অননুমোদিত ও পরিবেশ দূষণকারী কার্যক্রম বন্ধের রুল জারি করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট। গত ( ৩ মে) রবিবার প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। রুলে এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ এবং মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেড (রাইস ব্রান অয়েল) নামক প্রতিষ্ঠান দুটির দূষণকারী কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান দুটির বিপজ্জনক কার্যক্রম বন্ধ করে ফুলজোড়, করতোয়া ও বাঙ্গালী নদীকে দূষণমুক্ত রাখতে কেন প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়ের করা একটি জনস্বার্থমূলক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দেন।শুনানি গ্রহণ করেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আবদুর রহমান।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠান দুটি নদীতে অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলে আসছে। এর ফলে ফুলজোড়, করতোয়া ও বাঙ্গালী নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে এবং নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।স্থানীয় এলাকাজুড়ে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর মৃত্যু, পানির রং পরিবর্তন এবং দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার মতো অভিযোগও রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে নদীর পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করা হয়।
এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তর একাধিকবার জরিমানা করলেও প্রতিষ্ঠান দুটি দূষণ কার্যক্রম বন্ধ করেনি বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছারা টেকনিক্যাল কমিটির ১১ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করার বিষয়টিও রিটে উল্লেখ করা হয়।মামলায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এস হাসানুল বান্না ও অ্যাডভোকেট রুমানা শারমিন।পরিবেশবিদরা মনে করছেন, এই রুল নদী দূষণ রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতে শিল্প দূষণ নিয়ন্ত্রণে এটি নজির স্থাপন করতে পারে।