Dhaka ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তুমুল আলোচনা, এআই দাবি ও পাল্টা অনুসন্ধানে নতুন বিতর্ক বেলকুচিকে মডেল পৌরসভা গড়ার প্রত্যয় হাজী আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল চলাচলের পথে ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর, তাড়াশে দুর্ভোগে ৪০ পরিবার বেড়ায় ৫০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে শোকজ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ৪ নং দৌলতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে দোয়া ও সহযোগিতা চাইলেন রাজীব হোসেন তাড়াশে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ রায়গঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পরীক্ষা বুধবার রায়গঞ্জে নারী-শিশু সুরক্ষায় সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত বেলকুচিতে ১ হাজার টাকার বিরোধে যুবক হত্যা, ৮ মাস পর র‌্যাবের হাতে পলাতক আসামি গ্রেফতার  রায়গঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুই ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার
বিজ্ঞপ্তি:
সারাদেশে সকল জেলা ও উপজেলায় সংবাদ কর্মী নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন ই মেইল: pddinkal@gmail.com

আজ অনুষ্ঠিত হয়েগেল রায়গঞ্জের ভূয়াগাঁতি ফুলজোড় নদীতীরে অষ্টমী মেলা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০৬:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
  • ৩০৬ Time View

আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার

আজকে হয়ে গেল সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলাধীন ভূয়াগাঁতীর অষ্টমী মেলা। উপজেলার বড় মেলা এটা। দেশবিখ্যাত নারায়নগঞ্জের লাঙ্গলবন্ধের মেলার দিন এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। লাঙ্গলবন্ধের শীতলক্ষ্যা নদীতে পূন্যস্নান করেন ভারত – বাংলাদেশ তথা বিশ্বের বহু দেশের ভক্তরা।

ভূয়াগাঁতীর,ফুলজোড় নদীতেও তেমন স্নান করেন নারী – পুরুষসহ লোকাল বা দূরের ভক্তকূল। ছোট বেলায় দেখেছি নদীর তীরের ভাংগা মন্দিরে পুজো দেয়া এবং ঢালু ঘাটে স্নান পর্ব। নদীতে পানি থাকতো কম। ওতেই কাদা জলে স্নান চলতো। নদী তীর ভাংগা, ঢালু, বিপদজনক। এখন শান বাঁধানো ঘাট, ঘাটের তীরে মাল্টিকালার মন্দির। ঝকঝকে, তকতকে সব। স্নান শেষে ড্রেস চেঞ্জ করার সুন্দর আয়োজন করা হয়েছে। ওয়েল ডেকোরেটেড। নদী খনন করে বালু নিয়ে বিশ্বরোডের কাজ চলছে। ফলে বেশ গভীরতা বেড়েছে নদীর।

নৌকায় এপার ওপার যাচ্ছে সবাই। বিশেষ করে ওপারের যাত্রীরা মেলায় আসছে নৌকায়। এই ফাঁকে নৌ ভ্রমন হচ্ছে তাদের ফাও। ছোট বেলায় দেখেছি হেঁটেই নদী পাড়ি দিয়ে আসতো ওপারের লোকেরা। আগে মেলার মূল অংশ নদীর ধারে ছিল। এখন বিশ্ব রোড হওয়ার জন্য লোকে পাকা রাস্তার ধার হতে কেনাকাটা করে আরাম পায়। তাই দোকানীরা পশরা সাজিয়েছে বিশ্ব রোডের এদিকে

। বিশেষ করে মাছের মেলা, মিষ্টির মেলা যেখানে টাকা ওড়ে বলা চলে তা রোড সাইডে। চুড়ি, মালার মেলা অবশ্য পুরাতন জোনেই আছে। সবচে বড় কথা বিশ্বরোড থেকে স্নান ঘাট অবধি পুরো এলাকাই মেলা বসেছে বলা যায়। ছোট বেলায় দাদাদের সাথে তাদের গরু – মহিষের গাড়ীতে চড়ে মেলায় যেতাম ৭/৮ মাইল ধুলির রাজ্য পেরিয়ে। এখন রিক্সায় বা মটর সাইকেলে এক ঘন্টায় কেনা কাটা সেরে মেলা দেখে ফিরে আসা যায় বাড়ীতে। দাদাদের সাথে যেতাম খুব সকালে।

মেথি, ধনে, কালজিরা ইত্যাদি বিক্রয় করে বড় মাছ, হাড়িতে রসগোল্লা, ঝুড়ি – মুড়কি, সগুন খড়কি মাছ যাকে বলে কাঁচকি মাছ, জিলাপি, বুন্দিয়া, খাজা, গজা, দাদীর জন্য সারা বছরের খোরাক চুন, তেজপাতা, রসুন ইত্যাদি কিনে আনতাম। গাড়ীতে চড়ে ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যেত। দেওভোগের নদী পার হয়ে হাট খোলায় গরু মহিষকে খেতে দেওয়া হতো সংগে নেওয়া খড়। জিরিয়ে নিয়ে আবার বাড়ীর পথ ধরতো গাড়ী।

তবে ভূয়াগাঁতীর বর্তমান এ্যাপেক্স হাসপাতালের মালিক আফসার হাজীদের বাড়ীতে মেলার জন্য আমাদের স্পেসাল দাওয়াত থাকতো ফি বছর। ওর দাদী আমাদেরও দাদী অর্থাৎ আমার দাদাদের বোন। ফলে দুপুরে ওদের বাড়ী হেভী খাওয়া দাওয়া করে তবে আমরা বাড়ীর পথ ধরতাম। মেলার সাত দিন আগে থেকে সি কি টেনসনে ভূগতাম। কবে মেলা কবে মেলা বলে দাদাদের বিরক্ত করতাম। আজ কোথায় সেই দিন। সবই আছে তবে সেই আবেগ, সেই উৎসাহ আজ আর নেই। যে কালজিরা, ধনে হাটায় ঢোকা যেত না লোকে ভীড়ে সেখানে আজ ফাঁকা, লোকজন নেই। মিষ্টি পট্টিতে কেউ নেই।

চৈত্রের রোদে ঘেমে একাকার হতো ক্রেতা বিক্রেতা। এখন রোডের ধারে সুপরিসর স্পেস নিয়ে তাঁবু খাটিয়ে দোকাদারী করছে দোকানীরা, ক্রেতাও ছায়ায় দাঁড়িয়ে কেনাকাটা সারছে। হোক তা কাপড়ের ছাউনি। মন্দ নয়..

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তুমুল আলোচনা, এআই দাবি ও পাল্টা অনুসন্ধানে নতুন বিতর্ক

আজ অনুষ্ঠিত হয়েগেল রায়গঞ্জের ভূয়াগাঁতি ফুলজোড় নদীতীরে অষ্টমী মেলা

Update Time : ০৩:০৬:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫

আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার

আজকে হয়ে গেল সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলাধীন ভূয়াগাঁতীর অষ্টমী মেলা। উপজেলার বড় মেলা এটা। দেশবিখ্যাত নারায়নগঞ্জের লাঙ্গলবন্ধের মেলার দিন এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। লাঙ্গলবন্ধের শীতলক্ষ্যা নদীতে পূন্যস্নান করেন ভারত – বাংলাদেশ তথা বিশ্বের বহু দেশের ভক্তরা।

ভূয়াগাঁতীর,ফুলজোড় নদীতেও তেমন স্নান করেন নারী – পুরুষসহ লোকাল বা দূরের ভক্তকূল। ছোট বেলায় দেখেছি নদীর তীরের ভাংগা মন্দিরে পুজো দেয়া এবং ঢালু ঘাটে স্নান পর্ব। নদীতে পানি থাকতো কম। ওতেই কাদা জলে স্নান চলতো। নদী তীর ভাংগা, ঢালু, বিপদজনক। এখন শান বাঁধানো ঘাট, ঘাটের তীরে মাল্টিকালার মন্দির। ঝকঝকে, তকতকে সব। স্নান শেষে ড্রেস চেঞ্জ করার সুন্দর আয়োজন করা হয়েছে। ওয়েল ডেকোরেটেড। নদী খনন করে বালু নিয়ে বিশ্বরোডের কাজ চলছে। ফলে বেশ গভীরতা বেড়েছে নদীর।

নৌকায় এপার ওপার যাচ্ছে সবাই। বিশেষ করে ওপারের যাত্রীরা মেলায় আসছে নৌকায়। এই ফাঁকে নৌ ভ্রমন হচ্ছে তাদের ফাও। ছোট বেলায় দেখেছি হেঁটেই নদী পাড়ি দিয়ে আসতো ওপারের লোকেরা। আগে মেলার মূল অংশ নদীর ধারে ছিল। এখন বিশ্ব রোড হওয়ার জন্য লোকে পাকা রাস্তার ধার হতে কেনাকাটা করে আরাম পায়। তাই দোকানীরা পশরা সাজিয়েছে বিশ্ব রোডের এদিকে

। বিশেষ করে মাছের মেলা, মিষ্টির মেলা যেখানে টাকা ওড়ে বলা চলে তা রোড সাইডে। চুড়ি, মালার মেলা অবশ্য পুরাতন জোনেই আছে। সবচে বড় কথা বিশ্বরোড থেকে স্নান ঘাট অবধি পুরো এলাকাই মেলা বসেছে বলা যায়। ছোট বেলায় দাদাদের সাথে তাদের গরু – মহিষের গাড়ীতে চড়ে মেলায় যেতাম ৭/৮ মাইল ধুলির রাজ্য পেরিয়ে। এখন রিক্সায় বা মটর সাইকেলে এক ঘন্টায় কেনা কাটা সেরে মেলা দেখে ফিরে আসা যায় বাড়ীতে। দাদাদের সাথে যেতাম খুব সকালে।

মেথি, ধনে, কালজিরা ইত্যাদি বিক্রয় করে বড় মাছ, হাড়িতে রসগোল্লা, ঝুড়ি – মুড়কি, সগুন খড়কি মাছ যাকে বলে কাঁচকি মাছ, জিলাপি, বুন্দিয়া, খাজা, গজা, দাদীর জন্য সারা বছরের খোরাক চুন, তেজপাতা, রসুন ইত্যাদি কিনে আনতাম। গাড়ীতে চড়ে ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যেত। দেওভোগের নদী পার হয়ে হাট খোলায় গরু মহিষকে খেতে দেওয়া হতো সংগে নেওয়া খড়। জিরিয়ে নিয়ে আবার বাড়ীর পথ ধরতো গাড়ী।

তবে ভূয়াগাঁতীর বর্তমান এ্যাপেক্স হাসপাতালের মালিক আফসার হাজীদের বাড়ীতে মেলার জন্য আমাদের স্পেসাল দাওয়াত থাকতো ফি বছর। ওর দাদী আমাদেরও দাদী অর্থাৎ আমার দাদাদের বোন। ফলে দুপুরে ওদের বাড়ী হেভী খাওয়া দাওয়া করে তবে আমরা বাড়ীর পথ ধরতাম। মেলার সাত দিন আগে থেকে সি কি টেনসনে ভূগতাম। কবে মেলা কবে মেলা বলে দাদাদের বিরক্ত করতাম। আজ কোথায় সেই দিন। সবই আছে তবে সেই আবেগ, সেই উৎসাহ আজ আর নেই। যে কালজিরা, ধনে হাটায় ঢোকা যেত না লোকে ভীড়ে সেখানে আজ ফাঁকা, লোকজন নেই। মিষ্টি পট্টিতে কেউ নেই।

চৈত্রের রোদে ঘেমে একাকার হতো ক্রেতা বিক্রেতা। এখন রোডের ধারে সুপরিসর স্পেস নিয়ে তাঁবু খাটিয়ে দোকাদারী করছে দোকানীরা, ক্রেতাও ছায়ায় দাঁড়িয়ে কেনাকাটা সারছে। হোক তা কাপড়ের ছাউনি। মন্দ নয়..