
জয় ফেমাস সাদ্দাম বগুড়া রিপোর্টারঃ
সরকারি জায়গা দখল করে দু’টি কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দেয়ায় বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর, রামচরণমুকুন্দ, দড়িমুকুন্দ, কানাইকান্দর, রাজবাড়ী, হাতিগাড়া, আড়ংশাইল, মদনপুর ও কৃষ্ণপুর গ্রামের মসজিদ, ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানিতে ডুবে গেছে রাস্তাঘাট।
কালভার্ট দু’টির মুখে বন্ধ করায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার বিঘা ফসলি জমি অনাবাদি অবস্থায় পড়ে আছে। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকার মানুষকে। বারবার ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, কৃষি কেন্দ্রসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরে আবেদন করেও কোনো সমাধান মেলেনি। যদিও সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, জলাবদ্ধতা উত্তরণের পথ খুঁজতে কাজ শুরু হয়েছে। শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান মিলবে।
স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছে না। পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ। সবচেয়ে বেশি সঙ্কট তৈরি হয়েছে স্থানীয় কৃষি খাতে। অনেকে বলছেন, জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকদের গত চার বছরে ১০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।
জানা গেছে, ওই এলাকার আড়ংশাইল গ্রামের এক ব্যক্তি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সরকারি জায়গা দখল করে নিজের জমির সাথে একটি পুকুর তৈরি করেছে। সরকারি জায়গা দখল করায় কালভার্টের মুখ পুকুরের অংশে পড়ে। এতে তিনি কালভার্টের সেই মুখটি বন্ধ করে দেন। এতে বর্ষায় পানি বের হতে পারে না, সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার।
মদনপুর গ্রামের আশাদুল জানান, কালভার্ট বন্ধ করে দেয়ায় তার ৬০ বিঘা জমি চার বছর ধরে পানির নিচে তলিয়ে আছে। প্রতি বছর গড়ে তিনি ২৫ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তার গ্রামের শতাধিক কৃষকের একই অবস্থা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ঠিক না করা গেলে জমি থাকা সত্ত্বেও অনেকে নিঃস্ব হয়ে যাবেন।
মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, স্থানীয় আড়ংশাইল গ্রামে একটি পুকুর তৈরি ও দু’টি কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দেয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কালভার্টের মুখ খুলে দিয়েছিলাম; কিন্তু সেটি আবার তারা বন্ধ করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে আইনের আশ্রয় নেয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন জিহাদী বলেন, আমাদের উপজেলার ইঞ্জিনিয়ার, মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং অন্য প্রতিনিধিরা এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন। সরকারি প্রকল্প দিয়ে হলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করা হবে।
Reporter Name 













