
সলঙ্গা প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা থানার ঘুড়কা ইউনিয়নের কুতুবের চর মৎস্য আড়ৎকে সরকারিভাবে খাস ইজারাভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মৎস্য আড়তদার সমবায় সমিতির সদস্য ও এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেও আড়ৎটি সরকারি খাস ইজারার আওতায় না আসায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসুদেবকোল মৌজার কুতুবের চর এলাকায় ২৫ জন ব্যবসায়ীকে নিয়ে “কুতুবের চর মৎস্য আড়তদার সমবায় সমিতি লিমিটেড” গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর সমিতিটি নিবন্ধন লাভ করে। যার নিবন্ধন নম্বর ০০২৭। মৎস্য আড়ৎ ও হাট পরিচালনার স্বার্থে সমিতির পক্ষ থেকে সরকারকে ৩০ শতক ভূমি লিখিতভাবে প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া সমিতির উদ্যোগে ব্যক্তি মালিকানাধীন লিজকৃত ২ দশমিক ০৭ একর জমির ওপর আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি মৎস্য আড়ৎ গড়ে তোলা হয়েছে।
সমিতির সদস্যরা নিজেদের অর্থায়নে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে মাটি ভরাট, শেড নির্মাণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, যানবাহন পার্কিং, টয়লেটসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করেছেন। ফলে আড়ৎটি বর্তমানে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাছ বেচাকেনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ মেট্রিক টন মাছ এই আড়তে আসে। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পাইকার ও ব্যবসায়ীরা মাছ ক্রয়-বিক্রয় করতে পারায় আড়ৎটির সুনাম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিন এখানে প্রায় ১ কোটি ৩০ থেকে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার মাছ বেচাকেনা হয়ে থাকে। এলাকাবাসীর দাবি, এই মৎস্য আড়ৎকে কেন্দ্র করে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখার পাশাপাশি এটি বহু পরিবারের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎসে পরিণত হয়েছে। আড়ৎটির কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সংশোধনী নিবন্ধন নম্বর-০২ এর মাধ্যমে রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ সদর, কামারখন্দ, উল্লাপাড়া ও তাড়াশ এই পাঁচ উপজেলার সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে সমিতির সদস্য সংখ্যা ১০৬ জন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সকল শর্ত পূরণ এবং ব্যাপক অর্থনৈতিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে এখনও আড়ৎটি সরকারি খাস ইজারার আওতায় আনা হয়নি। ফলে সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল খালেক পাটোয়ারী জানান, কুতুবের চর মৎস্য আড়ৎকে ঘিরে একটি রিট পিটিশন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার নিষ্পত্তি হলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সরকারি রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে দ্রুত কুতুবের চর মৎস্য আড়ৎকে খাস ইজারাভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সমিতির সদস্য ও এলাকাবাসী।
Reporter Name 

















