
ঢাকা প্রতিনিধি:
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য মোট ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও গত অর্থবছরের তুলনায় বরাদ্দ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের মতে, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষকের সুরক্ষা এবং পুষ্টি নিশ্চয়তার চাহিদার তুলনায় এই বরাদ্দ এখনও পর্যাপ্ত নয়। প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে একত্রে বরাদ্দ দেওয়া হলেও পৃথকভাবে কোন খাতে কত অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের প্রকৃত বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশের কৃষি খাত বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বাজার ব্যবস্থাপনার নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বোরো মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বাজেটে বিশেষ কোনো সহায়তা বা পুনর্বাসন কর্মসূচির উল্লেখ নেই বলে তারা মনে করছেন। বাজেটে কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে সার ও কীটনাশকের ওপর বিদ্যমান ভ্যাট ও কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে কৃষি অর্থনীতিবিদদের একটি অংশের মতে, উৎপাদন খরচের বড় অংশ শ্রম, সেচ ও পরিবহন ব্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় শুধু সার ও কীটনাশকে কর ছাড় কৃষকদের জন্য কাঙ্ক্ষিত সুফল নাও বয়ে আনতে পারে।
এছাড়া কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, কৃষিঋণ সহজীকরণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এ খাতের সঙ্গে লাখ লাখ জেলে, খামারি এবং গ্রামীণ নারী যুক্ত থাকলেও তাদের জন্য কী ধরনের প্রণোদনা বা সহায়তা রাখা হয়েছে, তা বাজেট ঘোষণায় স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত শুধু খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তাই নিশ্চিত করে না, বরং দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও জীবিকার প্রধান উৎস। তাই জাতীয় অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এসব খাতে আরও কার্যকর ও বাস্তবমুখী বিনিয়োগ প্রয়োজন।
তাদের অভিমত, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দেওয়া হলে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
Reporter Name 


















