
বেলকুচি প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি মডেল কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগকে কেন্দ্র করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কলেজজুড়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আল-মামুন গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বেলকুচি মডেল কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহানের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রেরিত একটি চিঠিতে (স্মারক নং: ০৭ (ঢ-৭১৭) জাতীঃ/বিঃ/কঃপঃ/২০০২ (পার্ট) ১০৬১৭, প্রজ্ঞাপন তারিখ: ১৩/০১/২০২৬) উল্লেখ করে যে, কোনো কলেজে অধ্যক্ষ পদ শূন্য হলে অথবা অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে উপাধ্যক্ষ অথবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহে কর্মরত জ্যেষ্ঠতম ১০ শিক্ষকের তালিকা থেকে গভর্নিং বডি তিন সদস্যের একটি প্যানেল তৈরি করবে। পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তা পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে। তবে অভিযোগকারী শিক্ষক আল-মামুন দাবি করেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই নির্দেশনা অনুসরণ না করে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামীম হোসেন নিজের পছন্দমতো তালিকা তৈরি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন এবং জ্যেষ্ঠ শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তাকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, বেলকুচি মডেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান সরকারের চাকরির মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ সালে শেষ হলে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকরির শর্তাবলী (সংশোধিত) ২০১৯ অনুসারে শামীম হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে তিনি এ দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্বে একজন শিক্ষক সর্বোচ্চ ছয় মাস থাকতে পারবেন। এক বছরের বেশি সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নিয়মবহির্ভূত। সে হিসেবে দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করায় বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কলেজের অভিভাবক সদস্য হযরত আলী বলেন, “আমাকে কলেজে ডেকে একটি খাতায় স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। কী বিষয়ে স্বাক্ষর করেছি তা জানানো হয়নি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের তালিকা সম্পর্কেও আমাকে কিছু বলা হয়নি। অপর অভিভাবক সদস্য মিজানুর রহমানও একই ধরনের অভিযোগ করে বলেন, “কলেজ থেকে ফোন করে ডাকা হয়েছিল। গিয়ে শুধু স্বাক্ষর করেছি। কী বিষয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে তা জানি না। কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি আজিজুল রহমান (টুটুল) বলেন, গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধিরা যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটিই চূড়ান্ত। অন্য শিক্ষক প্রতিনিধি ফরহাদ হোসেন বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো তালিকা আমি দেখিনি। শুধু রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর করেছি।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন ধরে কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিয়ে নানা জটিলতা চলছে। এর প্রভাব শিক্ষার পরিবেশেও পড়ছে। একসময় ভালো ফলাফলের জন্য পরিচিত কলেজটির সুনামও ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামীম হোসেন বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা মেনেই তালিকা পাঠানো হয়েছে। কে অভিযোগ করলো সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছিল। পরে ওই তালিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Reporter Name 









