
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরান ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের জড়ানো উচিত হয়নি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া সামরিক পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শনিবার (৩০ মে) ফক্স নিউজে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরাক যুদ্ধ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় ভুল। তিনি বলেন, ইরাক নিয়ে যা হয়েছে, আমরা খুবই খারাপ করেছি। এটি ছিল বোকামি। আমাদের সেখানে থাকা উচিত ছিল না।
ইরান প্রসঙ্গেও একই ধরনের মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের ইরানেও যাওয়া উচিত হয়নি।” তবে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের সক্ষমতা ও সম্ভাব্য হুমকির বিষয়টি উপেক্ষা করার সুযোগ ছিল না। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, নয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিলে দেশটি বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ত।
তিনি আরও বলেন, সামরিক অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের সব সামরিক স্থাপনা ও বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করেনি। কারণ ওয়াশিংটনের ধারণা, ইরানের সামরিক কাঠামোর একটি অংশ তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থি অবস্থানে রয়েছে। তবে যেসব অংশকে চরমপন্থি বা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্পের মতে, যুদ্ধের সময় কোনো দেশের সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়া দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান নয়। এতে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন ব্যাহত হয় এবং দেশটি দীর্ঘ সময় অস্থিতিশীল অবস্থায় থাকে। অতীতের বিভিন্ন সামরিক অভিযানের অভিজ্ঞতা থেকে যুক্তরাষ্ট্র এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তাঁর মন্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতির আত্মসমালোচনামূলক মূল্যায়ন হিসেবেও দেখছেন অনেক বিশ্লেষক।
Reporter Name 








