
পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার খড়খড়ি নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি। এক দফা সময় বৃদ্ধি করেও কাজ সম্পন্ন করতে না পারায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীসহ আশপাশের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে স্থানীয়দের। সরেজমিনে উপজেলার সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের উমেষের ডাঙ্গা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেতুর পিলার নির্মাণ শেষ হলেও এখনো পুরো কাজ সম্পন্ন হয়নি। একটি স্প্যান বসানো হয়েছে, অন্য স্প্যানের কাজ চলছে ধীরগতিতে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে নদীতে পানি বাড়তে শুরু করায় চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, আগে যাতায়াতের জন্য একটি বাঁশের সাঁকো ছিল। তবে সেতু নির্মাণকাজ শুরুর সময় সেটি সরিয়ে ফেলা হয়। বর্তমানে স্থানীয়দের হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে নারী, বৃদ্ধ এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে।
দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদেক জানায়, নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হচ্ছে। অনেক সময় কাপড় ভিজে যায় এবং পানিতে চলাচলের কারণে নানা শারীরিক সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় যুবক মাজেদুল ইসলাম বলেন, দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন বছর পার হয়ে গেছে। এখনো মানুষকে কষ্ট করে নদী পার হতে হচ্ছে। ভ্যানচালক আলমগীর হোসেন বলেন, পানি বাড়ায় ভ্যান নিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে না। কৃষিপণ্য পারাপারেও চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দ্রুত একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ‘আইআরআইডিপি-৩’ প্রকল্পের আওতায় ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে ৯০ মিটার দীর্ঘ একটি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজের ধীরগতির কারণে মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে বর্ধিত সময়সীমাও শেষ হয়ে গেলেও কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, অতিবৃষ্টি ও অন্যান্য জটিলতার কারণে কাজে বিলম্ব হয়েছে। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ করার পাশাপাশি স্থানীয়দের চলাচলের সুবিধায় অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।
Reporter Name 









