
এফ শাহজাহান:
কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ফুঁসছে ভারত। ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের উপর ‘কূটনৈতিক সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ করেছে নয়াদিল্লি। এবার ভারতের বিমান সেনারা হামলার মহড়া শুরু করেছে বলে ভারতীয় মিডিয়ায় দাবি করা হয়েছে। সীমান্তে সেনা সংখ্যা বাড়াচ্ছে পাকিস্তানও।
সন্ধ্যায় সর্বদলীয় বৈঠক শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ‘আক্রমণ’ অভ্যাস শুরু করেছে ভারতীয় বিমানসেনা। রাফালে যুদ্ধবিমানের নেতৃত্বে সেন্ট্রাল সেক্টরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ভারতীয় বিমানসেনার প্রত্যেকটি যুদ্ধবিমান।
রতের প্রতিরক্ষা সূত্রের খবরে জানা যাচ্ছে, ভূখণ্ডে ঢুকে যুদ্ধ করার পাশাপাশি ইলেকট্রনিক যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতের বিমানবাহিনী। দেশের পূর্বদিক থেকে বিমান-সহ নানা অস্ত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েচে ভারতীয় বিমানবাহিনীর সূত্র। হাসিমারা এবং আম্বালা থেকে রাফালে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
অন্যদিকে, সীমান্তে সেনা সংখ্যা বাড়াচ্ছে পাকিস্তানও। পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, রাওয়ালপিন্ডির সেনাঘাঁটিকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় বাড়ছে পাক সেনার সংখ্যা।
পাকিস্তানিদের ভিসা বাতিল করা হচ্ছে এবং বর্তমানে যেসব পাকিস্তানিরা ভারতে রয়েছেন তাঁদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ছাড়ার সময়ও শেষ হচ্ছে। এছাড়াও ভারত এবং পাকিস্তান-দুই দেশের হাই কমিশন থেকেই সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সামরিক পরামর্শদাতারা। এসব দেখে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এবার কি তাহলে সরাসরি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে ভারত?
এদিকে নরেন্দ্রমোদীর ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকেও সরকারের পাশে থাকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সর্বদল বৈঠকের পর তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল কেন্দ্রের পাশে রয়েছে। দেশের স্বার্থে তারা যা সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা সমর্থন করা হবে।
সর্বদল বৈঠকে কেন্দ্র স্বীকার করেছে যে, পহেলগাঁওয়ে নিরাপত্তার গাফিলতি ছিল। গোয়েন্দাদের অনুমতি না নিয়েও সম্ভবত পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল বৈসরণ উপত্যকা। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, কোথাও তো গাফিলতি হয়েছিল। সেই গলদ খুঁজে বের করতে হবে।
সর্বদল বৈঠক শেষে স্পষ্ট জানালেন রাহুল গান্ধী জলেছেন,কেন্দ্র যা সিদ্ধান্ত নেবে, যা পদক্ষেপ করবে, তাতে সমর্থন করবে বিরোধীরা’। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, জম্মু-কাশ্মীরে শান্তি ফেরানোর জন্য যা পদক্ষেপ করা প্রয়োজন, সেটা করতে হবে। এই সময়ে দেশ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।
পহেলগাঁও হামলায় নিহতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তিনি আরও জানান, ভারত-পাক সম্পর্কের টানাপোড়েনের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে যেন কোনও সমস্যা তৈরি না হয়, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু সর্বদল বৈঠকের পর বলেন, প্রত্যেকটি দল সরকারের পাশে রয়েছে। আরও কঠোর পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্র। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিচ্ছে সরকার।
২০ দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পহেলগাঁও হামলা নিয়ে বৈঠক করেছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়। তারপরেই একের পর এক রাষ্ট্রনেতারা ফোন করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে।
ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ-সকলেই ফোন করে পহেলগাঁও হামলার নিন্দা করেছেন।
ভারত-পাক উত্তেজনার আবহেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারতের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।
Reporter Name 















